India AI Impact Summit 2026-এ সুন্দর পিচাইয়ের বিশেষ ঘোষণা! বিশাখাপত্তনমে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের এআই হাব থেকে শুরু করে মুকেশ আম্বানি ও মাইক্রোসফটের বিশাল বিনিয়োগ—জানুন কীভাবে India AI Revolution ভারতের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে।

ভারতের টেক জগতে বর্তমানে এক বিশাল পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নয়া দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপমে’ অনুষ্ঠিত ‘India AI Impact Summit’ সেই পরিবর্তনেরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এই সামিটে বিশ্বের বাঘা বাঘা টেক লিডাররা একত্রিত হয়েছিলেন। তবে সবার নজর ছিল একজনের ওপর—তিনি আমাদের ঘরের ছেলে, গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই।
স্মৃতির করমণ্ডল এক্সপ্রেস থেকে বিশাখাপত্তনমের এআই হাব
চেন্নাইয়ের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা সুন্দর পিচাই আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি স্মরণ করেন তাঁর ছাত্রজীবনের কথা, যখন তিনি চেন্নাই থেকে আইআইটি খড়গপুর যাওয়ার জন্য ‘করমণ্ডল এক্সপ্রেস’ ধরতেন। যাত্রাপথে বিশাখাপত্তনম স্টেশনে ট্রেন থামলে তিনি ভাবতেন, এই শান্ত উপকূলীয় শহরটি একদিন হয়তো বড় কিছু করে দেখাবে।
পিচাইয়ের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, গুগল ভারতে তাদের ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বিশাখাপত্তনমে একটি ফুল-স্ট্যাক AI হাব তৈরি করছে। এই হাবে থাকবে গিগাওয়াট-স্কেল কম্পিউট ক্যাপাসিটি এবং বিশাল এনার্জি ইনফ্রাস্ট্রাকচার, যা ভারতের এন্টারপ্রাইজ এবং সাধারণ ইউজারদের জন্য লেটেস্ট টেকনোলজি নিয়ে আসবে। পিচাইয়ের ভাষায়, এটি হবে ভারতের India AI Revolution-এর প্রধান কেন্দ্র।
বিশ্বের টেক জায়ান্টদের মিলনমেলা ও বিপুল বিনিয়োগ
এই সামিট কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এখানে ভারত অবিশ্বাস্য ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। সুন্দর পিচাই ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, মেটার অ্যালেক্সান্ডার ওয়াং, এবং অ্যাডোবির শান্তনু নারায়েন।
রিলায়েন্সের মুকেশ আম্বানি একাই ১১০ বিলিয়ন ডলার এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন। আদানি গ্রুপ ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে ডেটা সেন্টারে এবং মাইক্রোসফট ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে ‘গ্লোবাল সাউথ’ পুশে। টাটা গ্রুপ তো সরাসরি ওপেনএআই-এর সাথে পার্টনারশিপ করে ফেলেছে! এই সবকিছুর উদ্দেশ্য একটাই—ভারতকে বিশ্বের এক নম্বর এআই সুপারপাওয়ার বানানো।
বাবার সেই চ্যালেঞ্জ ও চালকবিহীন গাড়ি
সুন্দর পিচাই একটি মজাদার গল্প শেয়ার করেন যা সবার মন জয় করে নিয়েছে। তাঁর বাবা রেগুনাথ পিচাই একবার তাঁকে বলেছিলেন, ভারতের এই ব্যস্ত এবং গিজগিজে ট্র্যাফিকে যদি গুগল চালকবিহীন গাড়ি বা ‘ড্রাইভারলেস কার’ চালিয়ে দেখাতে পারে, তবেই তিনি প্রকৃত অর্থে খুশি হবেন। পিচাই মঞ্চ থেকে হাসিমুখে বলেন, “বাবা, এখন আমরা সেটা নিয়েই কাজ করছি!” অর্থাৎ ভারতের জটিল রাস্তাঘাটেও এখন এআই নিজের ম্যাজিক দেখানোর জন্য তৈরি হচ্ছে।
কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: AI কি ভয়ের কারণ?
সাধারণ মানুষের মনে একটা ভয় আছে যে AI হয়তো কাজ কেড়ে নেবে। সুন্দর পিচাই এই ভয় দূর করে বলেন, AI হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ‘প্ল্যাটফর্ম শিফট’। হ্যাঁ, কিছু কাজ হয়তো অটোমেটিক হয়ে যাবে, কিন্তু তার বদলে তৈরি হবে অসংখ্য নতুন ক্যারিয়ারের পথ। গুগলের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল ডিভাইডকে যাতে ‘AI ডিভাইড’ হতে না দেওয়া হয়, তার জন্য ট্রেনিং ও ইনফ্রাস্ট্রাকচারে জোর দেওয়া।
সামিটের সবচেয়ে কনিষ্ঠ স্পিকার ছিল মাত্র ৮ বছরের রণবীর সচদেভা, যে পিচাই ও অল্টম্যানের সাথে সাবলীলভাবে কথা বলেছে। এটি প্রমাণ করে যে, এই রেভোলিউশন কেবল বড়দের জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের হাতেই এর ভবিষ্যৎ। এমনকি পিচাইয়ের ক্রিকেট প্রীতিও দেখা গেছে গুরুগ্রাম অফিসে ক্রিকেটার শুভমান গিলের সাথে ব্যাটিং প্র্যাকটিসের মাধ্যমে—যাকে তিনি নাম দিয়েছেন “ক্রিকেট মিটস কোড!”
প্রধানমন্ত্রী মোদীর MANAV ফ্রেমওয়ার্ক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামিট উদ্বোধন করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারত এআই-কে ভয় পায় না। তিনি MANAV (Moral/Ethical, Accountable, Sovereign, Accessible, Valid AI) ফ্রেমওয়ার্কের কথা বলেন, যা নিশ্চিত করবে যে প্রযুক্তি যেন সবসময় মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। হেলথকেয়ার থেকে শুরু করে কৃষিকাজ—সবখানেই এআই বিপ্লব ঘটাবে।
উপসংহার
সুন্দর পিচাইয়ের কথা অনুযায়ী, আমাদের এআই-কে অত্যন্ত সাহসের সাথে গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু সাথে থাকতে হবে দায়িত্ববোধ। বিশাখাপত্তনম থেকে খড়গপুর—পিচাইয়ের এই দীর্ঘ যাত্রা আসলে ভারতেরই টেক-সুপারপাওয়ার হওয়ার যাত্রার প্রতিচ্ছবি। এই India AI Revolution-এর ফলে ভারত কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী থাকবে না, বরং প্রযুক্তি তৈরি করে বিশ্বকে পথ দেখাবে।