১. বিষ্ণুপুর বিখ্যাত-
ক) রেশম শিল্পের জন্য
খ) পোড়ামাটির মন্দিরের জন্য
গ) কাঠের কাজের জন্য
ঘ) চা বাগানের জন্য
উ: খ) পোড়ামাটির মন্দিরের জন্য
২. কোনারকের সূর্যমন্দির যে রাজ্যে অবস্থিত-
ক) পশ্চিমবঙ্গ
খ) বিহার
গ) ওড়িশা
ঘ) ঝাড়খণ্ড
উ: গ) ওড়িশা
৩. জামা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
ক) আগ্রা
খ) কলকাতা
গ) দিল্লি
ঘ) লখনউ
উ: গ) দিল্লি
৪. টিপু সুলতান মসজিদ আছে-
ক) দিল্লিতে
খ) মুর্শিদাবাদে
গ) কলকাতায়
ঘ) হায়দ্রাবাদে
উ: গ) কলকাতায়
৫. চার্চকে অন্য যে নামে ডাকা হয়-
ক) মন্দির
খ) মঠ
গ) গির্জা
ঘ) মসজিদ
উ: গ) গির্জা
৬. তাজমহল কার স্মৃতিতে বানানো হয়েছে?
ক) নুরজাহান
খ) মমতাজ
গ) যোধাবাঈ
ঘ) রুকাইয়া
উ: খ) মমতাজ
৭. কোনারকের সূর্যমন্দির অবস্থিত-
ক) আরব সাগরের কাছে
খ) ভারত মহাসাগরের কাছে
গ) বঙ্গোপসাগরের কাছে
ঘ) নদীর ধারে
উ: গ) বঙ্গোপসাগরের কাছে
৮. মমি দেখা যায়-
ক) দিঘা বিজ্ঞানকেন্দ্রে
খ) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে
গ) কলকাতার জাদুঘরে
ঘ) ব্যান্ডেল চার্চে
উ: গ) কলকাতার জাদুঘরে
৯. পূর্ব ভারতের সবচেয়ে পুরোনো বিজ্ঞান মিউজিয়ামটি হল-
ক) ভারতীয় জাদুঘর
খ) বিড়লা-শিল্প-কারিগরি সংগ্রহশালা
গ) গান্ধি-স্মারক সংগ্রহালয়
ঘ) গুরুসদয় মিউজিয়াম
উ: খ) বিড়লা-শিল্প-কারিগরি সংগ্রহশালা
১০. বিরসা মুন্ডার মিউজিয়ামটি অবস্থিত-
ক) রাঁচিতে
খ) বীরভূমে
গ) পুরুলিয়াতে
ঘ) মেদিনীপুরে
উ: ক) রাঁচিতে
১১. পটচিত্রের জন্য বিখ্যাত গ্রাম হল-
ক) হলং
খ) পিংলা
গ) পাংসু
ঘ) নবদ্বীপ
উ: খ) পিংলা
১২. গান্ধিজি সবসময় যে পথের কথা বলতেন-
ক) হিংসা
খ) যুদ্ধ
গ) অহিংসা
ঘ) নীরবতা
উ: গ) অহিংসা
১৩. লেপচা মিউজিয়াম অবস্থিত-
ক) দার্জিলিংয়ে
খ) কালিম্পং-এ
গ) কার্শিয়াং-এ
ঘ) শিলিগুড়িতে
উ: খ) কালিম্পং-এ
১৪. রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র অবস্থিত-
ক) জলপাইগুড়ি জেলায়
খ) কোচবিহার জেলায়
গ) আলিপুরদুয়ারে
ঘ) মালদহে
উ: ক) জলপাইগুড়ি জেলায়
১৫. ব্রতচারীর প্রতিষ্ঠাতা হলেন-
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মহাত্মা গান্ধি
গ) গুরুসদয় দত্ত
ঘ) সুভাষচন্দ্র বসু
উ: গ) গুরুসদয় দত্ত
১৬. ব্যান্ডেল চার্চ তৈরি হয়েছিল-
ক) ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
উ: খ) ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে
১৭. তাজমহলের সাদা মার্বেলে কীসের দাগ পড়ছে?
ক) কালচে ও হলদে
খ) লাল ও নীল
গ) সবুজ
ঘ) গোলাপি
উ: ক) কালচে ও হলদে
১৮. গান্ধিজির পুরো নাম-
ক) করমচাঁদ গান্ধি
খ) মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি
গ) রাজীব গান্ধি
ঘ) মহাত্মা করমচাঁদ গান্ধি
উ: খ) মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি
১৯. গান্ধিজিকে ‘মহাত্মাজি’ বলে কে ডাকতেন?
ক) জওহরলাল নেহেরু
খ) সুভাষচন্দ্র বসু
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) চিত্তরঞ্জন দাশ
উ: গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২০. বাসের মধ্যে মিউজিয়াম আসলে কীসের সংগ্রহশালা?
ক) শিল্পের
খ) বিজ্ঞানের
গ) ইতিহাসের
ঘ) ভূগোলের
উ: খ) বিজ্ঞানের
১. ‘মল্লভূম’ শব্দটির অর্থ কী?
উ: মল্লরাজাদের ভূমি বা অঞ্চল।
২. বিষ্ণুপুরে কী দিয়ে নানা মন্দির বানানো হয়েছে?
উ: মাটি পুড়িয়ে তৈরি ইট (টেরাকোটা) দিয়ে।
৩. পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পুরোনো চার্চ কোনটি?
উ: ব্যান্ডেল চার্চ।
৪. তাজমহল সৌধ কার স্মৃতিতে বানানো হয়েছে?
উ: রানি মমতাজের স্মৃতিতে।
৫. সূর্যমন্দিরের রথে কত জোড়া চাকা আছে?
উ: বারো জোড়া (২৪টি) চাকা আছে।
৬. দিল্লির জামা মসজিদ কে তৈরি করেন?
উ: মুঘল সম্রাট শাহ জাহান।
৭. দেশের সবচেয়ে পুরোনো জাদুঘরের নাম কী?
উ: কলকাতার ভারতীয় জাদুঘর।
৮. মমি কী?
উ: মিশর দেশের মৃত রাজা-রানিদের ওষুধ দিয়ে সংরক্ষিত মৃতদেহ।
৯. গান্ধিজি কবে জন্মগ্রহণ করেন?
উ: ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর।
১০. গান্ধি স্মারক সংগ্রহালয় কোথায় অবস্থিত?
উ: উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে।
১১. দিঘা বিজ্ঞানকেন্দ্রে কিসের মডেল রাখা আছে?
উ: বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মডেল।
১২. কোনারকের সূর্যমন্দির কীসের কাছে অবস্থিত?
উ: বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে।
১৩. টিপু সুলতান মসজিদে কিসের শব্দ শোনা যায়?
উ: আজানের শব্দ।
১৪. রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রটি কোথায়?
উ: জলপাইগুড়ি জেলার বক্সা অরণ্যে।
১৫. কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান্ধিজিকে কী বলে ডাকতেন?
উ: মহাত্মাজি।
১৬. ব্যান্ডেল চার্চ কোন্ জেলায় অবস্থিত?
উ: হুগলি জেলায়।
১৭. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কোথায় অবস্থিত?
উ: কলকাতায়।
১৮. গান্ধিজির পুরো নাম কী?
উ: মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি।
১৯. কোনারকের মন্দিরের চূড়াগুলি কী আকৃতির?
উ: পিরামিড আকৃতির।
২০. বিষ্ণুপুরের একটি বিখ্যাত স্থাপত্যের নাম লেখো (টেরাকোটার মন্দির ছাড়া)।
উ: রাসমঞ্চ।
১. কোনারকের সূর্যমন্দির
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরী জেলায় অবস্থিত কোনারকের সূর্যমন্দির প্রাচীন ভারতের এক অনবদ্য স্থাপত্য। রাজা প্রথম নরসিংহদেব প্রাচীনকালে এটি তৈরি করেছিলেন। দূর থেকে দেখলে এই সম্পূর্ণ মন্দিরটিকে একটি সুবিশাল রথের মতো মনে হয়। রথটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য যেন পাথরের ঘোড়া রয়েছে এবং রথের দুপাশে বারো জোড়া বা মোট ২৪টি বিশাল পাথরের চাকা রয়েছে। এর চূড়াগুলি পিরামিড আকৃতির এবং মন্দিরের গায়ে নানারকম সুন্দর মূর্তি অতি নিপুণভাবে খোদাই করা আছে। বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় সমুদ্রের নোনা জল ও হাওয়ার কারণে বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মন্দিরটির কিছু অংশ ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
২. জামা মসজিদ
দিল্লির জামা মসজিদ ভারতের বৃহত্তম এবং অন্যতম সুন্দর একটি মসজিদ। মুঘল সম্রাট শাহ জাহান ১৬৪৪ থেকে ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এটি নির্মাণ করেছিলেন। লাল বেলেপাথর ও সাদা মার্বেলের মিশেলে তৈরি এই মসজিদটি আকারে অত্যন্ত বিশাল। এর সামনে রয়েছে একটি বিরাট বারান্দা, যেখানে উৎসবের দিনে একসঙ্গে প্রায় ২০ হাজার মানুষ শান্তিতে নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের সুউচ্চ গম্বুজ ও খিলানগুলির কারুকাজ খুবই দর্শনীয়, যা মুঘল স্থাপত্যের এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
৩. ব্যান্ডেল চার্চ
ব্যান্ডেল চার্চ হুগলি জেলায় গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পুরোনো এবং বিখ্যাত চার্চগুলির মধ্যে অন্যতম। ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এটি নির্মিত হয়েছিল এবং যিশুমাতা মেরির উদ্দেশ্যে এটি উৎসর্গ করা হয়েছিল। এখানে ভগবান যিশুর জীবনের নানা গল্প সুন্দর পুতুলের মাধ্যমে কাঁচের বাক্সে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতি বছর বড়দিনের সময় বহু ধর্মের মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এই প্রাচীন চার্চটি দেখতে ভিড় জমান।
৪. তাজমহল
তাজমহল হল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি এবং স্মৃতিসৌধের এক অসাধারণ উদাহরণ। মুঘল সম্রাট শাহ জাহান তাঁর প্রিয় স্ত্রী মমতাজের স্মৃতি রক্ষার্থে আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে শ্বেতপাথর দিয়ে এটি নির্মাণ করেছিলেন। চাঁদের আলোয় এর সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়া এবং তীব্র বায়ুদূষণের কারণে এর চকচকে সাদা মার্বেল পাথরগুলোতে কালচে ও হলদে ছাপ পড়ে যাচ্ছে।
৫. স্থাপত্য
পুরোনো দিনের ঐতিহাসিক বাড়িঘর, মিনার, মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবকিছুকেই একসঙ্গে স্থাপত্য বলা হয়। একটি স্থাপত্যের সাথে কারো স্মৃতি জড়িয়ে থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। যেমন- কোনারকের মন্দির, বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চ, দিল্লির কুতুবমিনার হলো প্রাচীন ভারতের চমৎকার স্থাপত্যের নিদর্শন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় স্থাপত্য প্রভূত উন্নতি লাভ করেছে এবং এটি ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ- এই দুই প্রকারেরই হতে পারে।
৬. ভাস্কর্য
পাথর, মাটি, তামা, ব্রোঞ্জ বা কাঠের গায়ে যখন কোনো শিল্পমণ্ডিত নকশা বা মূর্তি খোদাই করে ফুটিয়ে তোলা হয়, তখন তাকে ভাস্কর্য বলে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাস্কর্য আকারে প্রাচীন কাল থেকে উপাসনালয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়। মহারাষ্ট্রের অজন্তা ও ইলোরার গুহায় থাকা পাথরের ভাস্কর্যগুলি বিশ্বের বুকে ভাস্কর্য শিল্পকলার এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত যা আজও মানুষকে মুগ্ধ করে।
৭. টিপু সুলতান মসজিদ
টিপু সুলতান মসজিদ ধর্মতলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কলকাতার অন্যতম বড়ো একটি মসজিদ। এর গঠনশৈলী অত্যন্ত সুন্দর। এই মসজিদে বেশ কয়েকটি চোখজুড়ানো গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার আছে। এখানে নিয়মিত আজান পড়া হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সকল ধর্মের মানুষের জন্যই এই পবিত্র মসজিদের দরজা খোলা থাকে, যা সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
৮. বাসের মধ্যে মিউজিয়াম
এটি এক অভিনব ভ্রাম্যমাণ সংগ্রহশালা যা একটি বড় বাসের ভেতরে সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। এর মধ্যে বিজ্ঞানের নানা মজার যন্ত্রপাতি, মডেল ও শিক্ষণীয় ছবি রাখা থাকে। এখানে এমন সুইচ আছে যা টিপলে দেখা যায় পৃথিবী কীভাবে সূর্যের চারপাশে ঘোরে, আবার এমন আয়না আছে যেখানে মুখ দেখলে তা বদলে যায়। বাসটি বিভিন্ন স্কুলে ও গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখায় ও বোঝায়।
৯. বিড়লা শিল্প-কারিগরি সংগ্রহশালা
কলকাতায় অবস্থিত এই সংগ্রহশালাটি পূর্ব ভারতের সবচেয়ে পুরোনো এবং বিখ্যাত বিজ্ঞান মিউজিয়াম। এখানে বিজ্ঞানের নানা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে বহু যন্ত্রপাতির নমুনা রাখা আছে এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে তা বোতাম টিপে দেখা যায়। এছাড়াও এখানে আসল কয়লাখনির আদলে তৈরি একটি রোমাঞ্চকর নকল কয়লার খনি রয়েছে, যেখানে নামলে খনির ভেতরের আসল পরিবেশ অনুভব করা যায়।
১০. গান্ধি স্মারক সংগ্রহালয়
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধির পুণ্য স্মৃতিতে এই সুন্দর সংগ্রহশালাটি গড়ে উঠেছে। এখানে গান্ধিজির ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা জিনিসপত্র, যেমন তাঁর চশমা, লাঠি, চরকা, গুরুত্বপূর্ণ বইপত্র, নানারকম মূর্তি ও দুর্লভ ছবি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রাখা আছে। এটি দর্শনার্থীদের গান্ধিজির সহজসরল জীবনযাপন সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করে।
১১. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
কলকাতার ময়দান এলাকায় রাজকীয় শ্বেতপাথরে তৈরি এটি একটি বিখ্যাত স্মৃতিসৌধ এবং সংগ্রহশালা। মহারানি ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ইংরেজ আমলে এটি বানানো হয়েছিল। এর চূড়ায় একটি সুন্দর পরি রয়েছে যা হাওয়ার দিকে ঘোরে। বর্তমানে বায়ুদূষণের কারণে তাজমহলের মতোই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালেরও সাদা পাথরে কালচে ছোপ পড়ছে। এর ভেতরের মিউজিয়ামে ব্রিটিশ আমলের অনেক পুরোনো অস্ত্র, ছবি ও জিনিসপত্র রাখা আছে।
১২. ভারতীয় জাদুঘর
কলকাতায় ধর্মতলার কাছে অবস্থিত এটি আমাদের দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহৎ জাদুঘর। এখানে প্রাচীন কালের বহু মহামূল্যবান জিনিস সংরক্ষিত আছে। এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মিশর দেশের মমি (ওষুধ দিয়ে রাখা চার হাজার বছরের পুরোনো মৃতদেহ)। এছাড়া এখানে ডাইনোসরের কঙ্কাল, প্রাচীন যুগের হাতিয়ার, বহু পুরোনো মুদ্রা, শিলা এবং নানা ধরনের বিলুপ্ত প্রাণীর ফসিল রয়েছে।
১৩. বিরসা মুন্ডার মিউজিয়াম
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে আদিবাসী বীর এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুন্ডার নামে একটি দারুণ মিউজিয়াম রয়েছে। এই মিউজিয়ামে ওই অঞ্চলের আদিবাসী মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত পুরোনো নানা জিনিসপত্র, যেমন- মাছ ধরার জাল, কৃষি যন্ত্রপাতি, কাস্তে, তির-ধনুক, আদিবাসী মেয়েদের নিজস্ব গয়নাগাটি ও পোশাক অত্যন্ত সযত্নে রাখা আছে।
১৪. লেপচা মিউজিয়াম
দার্জিলিং জেলার পাহাড় ঘেরা কালিম্পং শহরে এই অনন্য আঞ্চলিক মিউজিয়ামটি অবস্থিত। পাহাড়ের আদি বাসিন্দা লেপচা জনজাতির নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, নানা ধরনের প্রাচীন লেখাপত্র, বাদ্যযন্ত্র আর তাদের ব্যবহৃত পুরোনো জিনিসপত্র এখানে সুন্দরভাবে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে, যা তাদের সমাজ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে আমাদের ধারণা দেয়।
১৫. রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র
জলপাইগুড়ি জেলার গভীর বক্সা অরণ্যের মাঝে এই অসাধারণ সংগ্রহশালাটি অবস্থিত। এখানকার দেয়ালে ভুটানের রাজার সঙ্গে কোচবিহারের রাজার ঐতিহাসিক যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ছবি আঁকা আছে। বক্সা জঙ্গলের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য নানা ভেষজ উদ্ভিদ এবং বিলুপ্তপ্রায় পশুপাখির মৃতদেহ ওষুধ দিয়ে এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
১৬. নয়া-পিংলার পটচিত্র সংগ্রহশালা
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা গ্রাম রংবেরঙের হাতে আঁকা পটচিত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। কাপড়ে বা কাগজের উপর নানা প্রাকৃতিক রঙের সাহায্যে দেবদেবী বা পৌরাণিক কাহিনীর ছবি আঁকা পটচিত্র এখানকার ঘরে ঘরে দেখা যায়। এখানকার পটুয়া শিল্পীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গান গেয়ে এই পটচিত্র প্রদর্শন করে বাংলার এই প্রাচীন লোকশিল্পকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।
১৭. গুরুসদয় দত্ত মিউজিয়াম
কলকাতা থেকে কিছুটা দূরে ঠাকুরপুকুরের ব্রতচারী গ্রামে এই সংগ্রহশালাটি রয়েছে। ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্তের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্পের নানা অমূল্য জিনিসপত্র, যেমন নকশিকাঁথা, কাঠের পুতুল, পোড়ামাটির কাজ, ছাঁচ ইত্যাদি এখানে রাখা আছে যা গ্রামবাংলার সংস্কৃতির পরিচায়ক।
১৮. দিঘা বিজ্ঞানকেন্দ্র
দিঘায় বেড়াতে গেলে সমুদ্রের পাশাপাশি এই বিজ্ঞানকেন্দ্রটিও একটি বড়ো আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। এখানে তারামণ্ডলীতে কৃত্রিমভাবে আকাশ ও গ্রহ-তারা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও কাচের বড়ো বাক্সে জীবন্ত সামুদ্রিক মাছ এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের চমৎকার মডেল রয়েছে, যা দেখে বিজ্ঞান শেখা ছাত্রছাত্রীদের কাছে বেশ মজার মনে হয়।
১৯. সত্যাগ্রহ
‘সত্যাগ্রহ’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হল সবসময় সত্যের প্রতি অটল আগ্রহ বা উৎসাহ। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধি অহিংসার পথে এই অভিনব আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন যে, সত্য কথা বলা এবং সৎ ও সহজসরল জীবনযাপন করাই প্রতিটি মানুষের প্রধান কর্তব্য। দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি এই নীতি প্রয়োগ করে সফল হয়েছিলেন।
২০. বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর লালমাটির জায়গা এবং মল্লরাজাদের অমর কীর্তির জন্য বিখ্যাত। এখানকার মন্দিরগুলো পোড়ামাটি বা টেরাকোটার ইট দিয়ে তৈরি, যার মধ্যে শ্যামরায় মন্দির ও জোড়বাংলা মন্দির অন্যতম। মন্দিরের গায়ে রামায়ণ ও মহাভারতের নানা কাহিনী খোদাই করা সুন্দর নকশাগুলো দেখলে বাংলার প্রাচীন শিল্পীদের অপূর্ব দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
১. বিষ্ণুপুরের নাম মল্লভূম ছিল কেন?
মল্লরাজাদের নামেই প্রাচীনকালে বিষ্ণুপুরের আরেক নাম ছিল মল্লভূম। মল্লভূম শব্দের অর্থ হলো মল্লরাজাদের ভূমি বা অঞ্চল। মল্লরাজাদের রাজত্বকালেই সেখানে পোড়ামাটির অসংখ্য সুন্দর মন্দির তৈরি হয়েছিল।
২. বিষ্ণুপুরে টেরাকোটা মন্দিরের গায়ে কী দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়?
বিষ্ণুপুরে টেরাকোটা মন্দিরের অপূর্ব কারুকাজের ওপর যখন কিছু অসচেতন মানুষের নখের আঁচড় বা নিজেদের নাম লেখার দাগ দেখা যায়, তখন খুবই খারাপ লাগে। মানুষ অন্যায়ভাবে এই প্রাচীন ঐতিহ্যগুলো নষ্ট করে ফেলছে।
৩. কোনারকের সূর্যমন্দির ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কেন?
কোনারকের সূর্যমন্দিরটি সরাসরি বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে অবস্থিত। তাই সমুদ্র থেকে আসা নোনা জল ও নোনা হাওয়ার প্রভাবে প্রাচীন এই পাথরগুলো ক্ষয়ে গিয়ে মন্দিরটি ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অতীতের প্রবল ভূমিকম্পেও এর বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়েছিল।
৪. সৌধ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
সৌধ হল একপ্রকার বিশেষ ধরনের স্থাপত্য। যেসকল স্থাপত্যের সঙ্গে কারো না কারো স্মৃতি বা আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে, তাকেই স্মৃতিসৌধ বা সৌধ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, রানি মমতাজের স্মৃতিতে বানানো আগ্রার তাজমহল।
৫. স্থাপত্য-ভাস্কর্যকে নষ্ট করে এমন তিনটি উপাদানের নাম লেখো।
আমাদের চারপাশের স্থাপত্য ও ভাস্কর্যকে তিলে তিলে নষ্ট করে দেয় এমন তিনটি প্রধান উপাদান হল- কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং বাতাসে উড়ে বেড়ানো মাত্রাতিরিক্ত ধুলোবালি।
৬. মানুষ কীভাবে নিজের হাতে সুন্দর স্থাপত্য-ভাস্কর্যগুলি নষ্ট করে?
কিছু মানুষ ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা ভাস্কর্যের গায়ে নখের আঁচড় কেটে, পান খেয়ে দেয়ালে পিক ফেলে, নিজেদের নাম খোদাই করে এবং অন্যায়ভাবে পুরোনো মন্দিরের টেরাকোটার নকশা বা ইট খুলে নিয়ে সুন্দর জিনিসগুলি নষ্ট করে দেয়।
৭. কোনো স্থাপত্য বা ভাস্কর্য দেখতে গেলে আমরা কী করব এবং কী করব না?
আমরা যখন কোনো স্থাপত্য দেখতে যাব, তখন মন দিয়ে খুঁটিয়ে সেটি দেখব এবং গাইডের থেকে তার ইতিহাস জানব। কিন্তু কোনোভাবেই নখ দিয়ে আঁচড় কাটব না, পানের পিক ফেলব না এবং নিজের নাম দেয়ালে লিখে অপরিষ্কার করব না।
৮. সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম কত ধরনের হতে পারে?
সংগ্রহশালা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কেবলমাত্র পুরোনো যুগের জিনিসপত্র দিয়েই নয়, বিখ্যাত মানুষের ব্যবহার করা দৈনন্দিন জিনিসপত্র, বিজ্ঞানের নানা সরঞ্জাম, এমনকি আদিবাসীদের ব্যবহৃত জিনিস নিয়েও নানা ধরনের সংগ্রহশালা তৈরি হতে পারে।
৯. বিরসা মুন্ডার মিউজিয়ামে দর্শকদের জন্য কী কী জিনিস রাখা আছে?
রাঁচির বিরসা মুন্ডার মিউজিয়ামে আদিবাসীদের পুরোনো নানা জিনিসপত্র রাখা আছে। এর মধ্যে রয়েছে মাছ ধরার জাল, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি, কাস্তে, ছুরি, আদিবাসী মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী গয়নাগাটি, পোশাক ও নানা ধরনের বাসনপত্র।
১০. রাজাভাতখাওয়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রটি কোথায় এবং সেখানে কী আছে?
এই কেন্দ্রটি জলপাইগুড়ি জেলার বিখ্যাত বক্সা অরণ্যের মাঝে অবস্থিত। এখানে ভুটান ও কোচবিহারের রাজার বহু পুরোনো যুদ্ধের ছবি আঁকা আছে। এছাড়া অরণ্যের নানা ভেষজ উদ্ভিদ ও পশুপাখির মৃতদেহ ওষুধ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা আছে।
১১. জাদুঘর বা মিউজিয়ামে বেড়াতে গেলে আমাদের কী কী অভিজ্ঞতা হতে পারে?
জাদুঘরে গেলে আমরা এমন অনেক আশ্চর্য জিনিসের দেখা পাই যা সচরাচর দেখা যায় না। যেমন মিশরের মৃত রাজা-রানিদের ওষুধ মাখানো মমি, প্রাচীন পুঁথি, ডাইনোসরের কঙ্কাল, পুরোনো শিলা এবং মাটির তলা থেকে পাওয়া পুরোনো মূর্তি ইত্যাদি।
১২. লেপচা মিউজিয়াম কোথায় অবস্থিত এবং সেখানে প্রধানত কী সংগ্রহ করা আছে?
লেপচা মিউজিয়ামটি পাহাড় ঘেরা দার্জিলিং জেলার কালিম্পং-এ অবস্থিত। এখানে পাহাড়ের আদি বাসিন্দা লেপচা জাতির নানা ধরনের প্রাচীন লেখাপত্র, পুথি আর পুরোনো দিনের মানুষের ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র সংগ্রহ করে রাখা আছে।
১৩. মহাত্মা গান্ধিজিকে ‘জাতির জনক’ বলা হয় কেন?
গান্ধিজি দেশের সকল ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে অহিংস লড়াই করেছিলেন। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার পেছনে তাঁর এই বিশাল অবদানের জন্যই তাঁকে ভালোবেসে ‘জাতির জনক’ বলা হয়।
১৪. গান্ধিজির সততার বিষয়ে তাঁর ছেলেবেলার একটি উদাহরণ দাও।
ছোটোবেলায় পরীক্ষার সময় একবার শিক্ষক ইশারা করা সত্ত্বেও গান্ধিজি কোনোদিন পাশের সহপাঠীর খাতা দেখে উত্তর লিখে চুরি করেননি। তাঁর এই ঘটনাটি থেকেই ছোটবেলা থেকে তাঁর সততা ও সত্যের প্রতি অটুট আগ্রহের কথা জানা যায়।
১৫. ‘সত্যাগ্রহ’ কথাটির প্রকৃত অর্থ কী?
সবসময় সত্যের প্রতি অবিচল আগ্রহ বা উৎসাহ থেকেই ‘সত্যাগ্রহ’ কথাটি এসেছে। গান্ধিজি মনে করতেন, সবসময় সত্য কথা বলা, ন্যায়ের পথে চলা এবং সৎ ও সহজসরল জীবনযাপন করাই প্রতিটি আদর্শ মানুষের একমাত্র কাজ।
১৬. দিঘা বিজ্ঞানকেন্দ্রে বেড়াতে গেলে বিজ্ঞানের কী কী বিষয় দেখা যায়?
দিঘা বিজ্ঞানকেন্দ্রে গেলে তারামণ্ডলে আকাশ দেখার আধুনিক ব্যবস্থা দেখা যায়। এছাড়া সেখানে কাচের বড়ো বাক্সে সামুদ্রিক মাছ জীবন্ত অবস্থায় রাখা আছে এবং বৃষ্টির জল কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয় তার সুন্দর বৈজ্ঞানিক মডেল রয়েছে।
১৭. নিজেদের হাতে একটি ছোট সংগ্রহশালা বানাতে কী কী উপকরণ লাগতে পারে?
নিজেরা সংগ্রহশালা বানাতে চাইলে হাতের কাজের নানা সামগ্রী, ঠাকুমার আমলের পুরোনো কয়েন, ব্যবহৃত ডাকটিকিট, পুরোনো কাঠের খেলনা, পিতল বা কাঁসার বাসনপত্র, পুরনো গ্রামোফোন, ফোটোগ্রাফ এবং দাদুর আমলের পুরোনো বইপত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৮. পটচিত্র বলতে কী বোঝো? কোথায় এই শিল্পটি বিখ্যাত?
কাপড়ের বা কাগজের টুকরোর উপর যখন প্রাকৃতিক রঙের সাহায্যে পৌরাণিক কাহিনীর নানান রংবেরঙের ছবি পর পর আঁকা হয়, তখন তাকে পটচিত্র বলে। আমাদের পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা গ্রাম এই অনবদ্য পটচিত্র শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
১৯. বর্তমান দিনে তাজমহলের সাদা মার্বেলের গায়ে ছোপ পড়ার মূল কারণ কী?
আশেপাশের অসংখ্য কলকারখানা, অত্যধিক গাড়ির ধোঁয়া এবং বাতাসে মেশা ধুলো দূষণের কারণেই তাজমহলের সাদা মার্বেল পাথর আর আগের মতো পরিষ্কার সাদা নেই। তার গায়ে কালচে এবং কোথাও কোথাও হলদে ছাপ পড়ে তার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
২০. পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপত্যগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে কোন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি দায়ী?
যেহেতু অনেক স্থাপত্যই কয়েক হাজার বা কয়েকশো বছরের পুরোনো, তাই প্রবল ভূমিকম্প, সর্বনাশা বন্যা বা ভয়ংকর ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেগুলির অনেক ক্ষতি হয়েছে। যেমন- এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পেই কোনারকের সূর্যমন্দিরের অনেক ক্ষতি হয়েছিল।