পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চতুর্থ শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান বইয়ের পদার্থ ও বস্তু অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর। এই Class 4 EVS Matter and Substance Question Answer তালিকাটি সহজ ভাষায় শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

Class 4 EVS Matter and Substance Question Answer
🔴 ১. বস্তু কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: আমাদের চারপাশে যা কিছু আমরা চোখে দেখি বা স্পর্শ করতে পারি, তাদের এক একটিকে বস্তু বলে। যেমন: একটি বই, একটি পেন, একটি চেয়ার বা একটি খেলার বল।
🔵 ২. পদার্থ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: বস্তু যা দিয়ে তৈরি হয়, তাকেই বলা হয় পদার্থ। যেমন: একটি কাঠের চেয়ার হলো ‘বস্তু’, কিন্তু এটি যে কাঠ দিয়ে তৈরি সেই ‘কাঠ’ হলো পদার্থ। তেমনি লোহার পেরেক বস্তু হলে ‘লোহা’ হলো পদার্থ।
🟢 ৩. পদার্থ কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: পদার্থ সাধারণত তিন প্রকারের হয়।
যথা: ১. কঠিন
২. তরল এবং
৩. গ্যাসীয়।
🟡 ৪. কঠিন পদার্থ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন আছে এবং যা চাপ দিলে সহজে ছোট হয় না, তাকে কঠিন পদার্থ বলে। যেমন: পাথর, ইট, লোহা, কাঠ ইত্যাদি।
🟠 ৫. তরল পদার্থ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই (যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে), তাকে তরল পদার্থ বলে। যেমন: জল, দুধ, তেল ইত্যাদি।
🟣 ৬. গ্যাসীয় পদার্থ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আয়তন নেই, সহজেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে গ্যাসীয় পদার্থ বলে। যেমন: অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি।
⚪ ৭. বাতাসে উপস্থিত থাকে এমন কয়েকটি গ্যাসের নাম লেখ।
উত্তর: বাতাসে মিশে থাকা প্রধান কয়েকটি গ্যাস হলো: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আর্গন, হিলিয়াম এবং নিয়ন।
🟤 ৮. নর্দমায় ব্লিচিং পাউডার দিলে গন্ধে চোখ-মুখ জ্বালা করে কেন?
উত্তর: ব্লিচিং পাউডারের মধ্যে ক্লোরিন নামক একটি ঝাঁঝালো গ্যাস থাকে। নর্দমায় পাউডার ছড়ালে সেই গ্যাস বেরিয়ে আসে এবং আমাদের চোখে ও নাকের সূক্ষ্ম পর্দায় লাগলে জ্বালা করে।
🌑 ৯. ধোঁয়া কী? চোখে লাগলে চোখ জ্বলে কেন?
উত্তর: কোনো কিছু পোড়ালে যে কালো বা ধূসর রঙের গ্যাসীয় মিশ্রণ বের হয়, তাকে ধোঁয়া বলে। ধোঁয়ার মধ্যে খুব ছোট ছোট পোড়া কার্বনের কণা থাকে, যা আমাদের চোখের জলীয় অংশের সংস্পর্শে এলে চোখ জ্বালা করে।
🔴 ১০. কঠিন পদার্থ এবং তরল পদার্থের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর: কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও নির্দিষ্ট আকার নেই।
🔵 ১১. তরল পদার্থ এবং গ্যাসীয় পদার্থের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর: তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন নেই। তরল পদার্থকে খোলা পাত্রে রাখা যায়, কিন্তু গ্যাসীয় পদার্থ খোলা পাত্রে রাখলে উড়ে যায়।
🟢 ১২. ঘরের এক কোণে ধূপ জ্বললে সেই গন্ধ অন্য কোণে আমরা কীভাবে পাই?
উত্তর: ধূপের ধোঁয়া আসলে গ্যাসীয় পদার্থ। গ্যাসের কণাগুলো খুব দ্রুত বাতাসের সাথে মিশে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাতাসের এই চলাচলের সাহায্যেই ধূপের গন্ধ ঘরের এক কোণ থেকে অন্য কোণে পৌঁছে যায়।
🟡 ১৩. কোন জিনিস বেশি ভারী আর কোনটি কম ভারী—এটা তুমি কীভাবে বুঝবে?
উত্তর: কোনো বস্তুকে হাতে তুলে নিলে সেটি আমাদের হাতের ওপর কতটা চাপ দিচ্ছে বা পৃথিবীর দিকে কতটা টানছে, তা অনুভব করে আমরা বুঝি জিনিসটি কতটা ভারী। তবে নির্ভুলভাবে বোঝার জন্য আমরা দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করি।
🟠 ১৪. বস্তুর ভর কাকে বলা হয়?
উত্তর: একটি বস্তুর মধ্যে যতটা পরিমাণ পদার্থ থাকে, তাকেই ওই বস্তুর ভর বলে।
🟣 ১৫. বস্তুর ভর কী দিয়ে মাপা হয়?
উত্তর: বস্তুর ভর সাধারণ দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা দিয়ে মাপা হয়।
⚪ ১৬. বস্তুর ওজন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবী কোনো বস্তুকে তার নিজের কেন্দ্রের দিকে যে বল দিয়ে টানে, তাকেই ওই বস্তুর ওজন বা ভার বলে।
🟤 ১৭. এটি কোন যন্ত্র দিয়ে মাপা হয়?
উত্তর: বস্তুর ওজন মাপা হয় স্প্রিং তুলা যন্ত্র দিয়ে।
🌑 ১৮. গ্যাসের ওজন আছে—কীভাবে বুঝবে?
উত্তর: একটি ফুটবল থেকে পাম্প দিয়ে হাওয়া বের করে নিলে সেটি হালকা লাগে, কিন্তু সেই ফুটবলে আবার বেশি করে হাওয়া ভরলে সেটি আগের চেয়ে ভারী হয়ে যায়। এর থেকেই বোঝা যায় গ্যাসের ওজন আছে।
🔴 ১৯. ভর এবং ওজনের মধ্যে কোনটি পরিবর্তনশীল?
উত্তর: ভর এবং ওজনের মধ্যে ওজন পরিবর্তনশীল। জায়গাভেদে অর্থাৎ অভিকর্ষজ বলের পরিবর্তনের সাথে সাথে ওজন বদলে যায়।
🔵 ২০. তোমার ভর পৃথিবীতে যত, চাঁদেও কি ভর একই হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, ভর সব জায়গায় একই থাকে। আমি পৃথিবীতে যাই বা চাঁদে, আমার শরীরের পদার্থের পরিমাণ (ভর) একই থাকবে।
🟢 ২১. তোমার ওজন পৃথিবীতে যত, চাঁদেও কি তোমার সেই ওজন হবে?
উত্তর: না, ওজন বদলে যাবে। চাঁদের আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম, তাই চাঁদে আমার ওজন পৃথিবীর ওজনের মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে।