প্রাথমিক টেট (Primary TET) পরীক্ষার্থীদের জন্য Child Development and Pedagogy (CDP) ও সামাজিকীকরণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘সমাজ’। এই আর্টিকেলে concept and components of society, সমাজের প্রকারভেদ এবং প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো, যা আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করবে।

এক নজরেঃ
সমাজ কী? (Concept of Society)
মানুষ একা বেঁচে থাকতে পারে না; সে মূলত এক সমাজবদ্ধ জীব। আদিম যুগ থেকেই মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং বিভিন্ন বন্য জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে দলবদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু করে এবং সমাজ গঠন করেছিল। আধুনিক সময়েও নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে সমাজ গঠন করেই বসবাস করতে হয়।
সাধারণভাবে, যখন একাধিক মানুষ কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এবং পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল ও সহযোগী মনোভাব রেখে একসাথে বসবাস করে, তখন সেই সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে সমাজ বলা হয়।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ‘সমাজ’ বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট মরিসন ম্যাকাইভার (Robert Morrison MacIver) এবং চার্লস এইচ পেজ (Charles H Page) তাঁদের বিখ্যাত ‘Society’ গ্রন্থে সমাজের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে লিখেছেন:
“যেসব সামাজিক ও সম্পর্কের মধ্যে আমরা জীবনযাপন করি তাদের সংগঠিত রূপই হল সমাজ।”
সহজ কথায়, সমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক জীবন এবং সামগ্রিক কার্যাবলির একটি সমষ্টি (Sum total of activities)।
সমাজের প্রধান উপাদানসমূহ (Components of Society)
একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ গড়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাজ করে। TET পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে concept and components of society-র এই উপাদানগুলিকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক উপাদান (Geographical Component)
সমাজবিজ্ঞানী পি. সোরোকিন (P Sorokin)-এর মতে, ভৌগোলিক উপাদান হলো প্রকৃতির সেইসব অবস্থা যা মানুষের তৈরি নয় এবং যা নিজের নিয়মেই পরিবর্তিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট অঞ্চলের জলবায়ু, তাপমাত্রা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, উদ্ভিদ এবং জীবজগৎ।
২. সাংস্কৃতিক উপাদান (Cultural Component)
যেকোনো সমাজের জীবনযাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে তার সংস্কৃতি। পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে সংস্কৃতির রূপও বদলে যায়। ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি সমাজের একটি নিজস্ব সাংস্কৃতিক কাঠামো ও নতুন কৃষ্টি গড়ে ওঠে।
৩. সামাজিক উপাদান (Social Component)
মানুষের সামাজিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াই হলো সমাজের মূল ভিত্তি। সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে যেমন মিল বা সাদৃশ্য থাকে, তেমনই কিছু বৈসাদৃশ্যও দেখা যায়। তবে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা ছাড়া সমাজ টিকে থাকতে পারে না।
৪. জৈবিক উপাদান (Biological Component)
সমাজজীবনের গঠনে বংশানুক্রম এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের প্রভাব অনস্বীকার্য। একটি শিশু জন্মলগ্নেই তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও মানসিক গুণাবলি লাভ করে। এই দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে তার সামাজিক মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠে।
সমাজের প্রকারভেদ (Types of Society)
মানব সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের গঠনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মূলত উৎপাদনের পদ্ধতি এবং জীবনধারণের ওপর ভিত্তি করে সমাজকে ৪টি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হলো:
- আদিম সমাজ: এটি শিক্ষার আলোহীন আদি সমাজ। এই সমাজের মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে জানত না, মূলত প্রকৃতি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করেই জীবনধারণ করত।
- পশুপালন সমাজ: আদিম সমাজের পরেই এর বিকাশ ঘটে। পশুপালনই ছিল প্রধান জীবিকা। এই সমাজে প্রথম ব্যক্তিগত মালিকানা ও আংশিক শ্রেণিবৈষম্য দেখা দেয় এবং মানুষ যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াত।
- কৃষি সমাজ: কৃষিকাজ শেখার পর মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এই সমাজে প্রধান সম্পত্তি ছিল জমি এবং জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে শ্রেণিবৈষম্য বৃদ্ধি পায়।
- শিল্প সমাজ: কৃষি যুগের শেষের দিকে ছোট-বড় কলকারখানা ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়। এই শিল্পভিত্তিক সমাজে এসে শ্রেণিবৈষম্য সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে।
সমাজের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Features of Society)
প্রাথমিক টেট পরীক্ষার child development and pedagogy অংশের জন্য সমাজের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- বিমূর্ত ধারণা: সমাজ কোনো দৃশ্যমান বস্তু নয়, এটি একটি বিমূর্ত অনুভূতি যা মানুষের সম্পর্কের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- সংঘবদ্ধতা ও সম্পর্ক: বহু মানুষের সংঘবদ্ধতা এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের জটিল জালের ওপর ভিত্তি করেই সমাজ গড়ে ওঠে।
- সহযোগিতা ও দ্বন্দ্ব: সমাজে যেমন পারস্পরিক সহযোগিতা থাকে, তেমনই স্থায়িত্ব ও পরিবর্তনের স্বার্থে মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্বও লক্ষ করা যায়।
- পরিবর্তনশীলতা: মানুষের সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনযাত্রার প্রণালী সবসময় পরিবর্তনশীল।
- ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ: প্রতিটি সমাজের একটি নিজস্ব অতীত ঐতিহ্য থাকে। সমাজে বসবাস করতে গেলে মানুষকে নির্দিষ্ট সামাজিক মূল্যবোধ, আদর্শ এবং নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।
প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় ভালো স্কোরের জন্য concept and components of society অধ্যায়ের এই মৌলিক বিষয়গুলি বারবার রিভিশন দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত এমন তথ্যসমৃদ্ধ স্টাডি মেটেরিয়াল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলিও অনুসরণ করুন।
FAQs:
‘Concept and components of society’ বা সমাজতত্ত্বের এই অধ্যায়টি প্রাথমিক টেট পরীক্ষার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাথমিক টেট (Primary TET) পরীক্ষার Child Development and Pedagogy (CDP) অংশে শিশুর ‘সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া’ (Socialization Processes) একটি অন্যতম প্রধান টপিক। একটি শিশু যেভাবে সমাজে বড় হয় এবং সামাজিক উপাদানগুলোর সাথে মিথস্ক্রিয়া করে, তা সমাজতত্ত্বের এই ধারণার সাথে সরাসরি যুক্ত। তাই এখান থেকে প্রায়শই সমাজের উপাদান, বৈশিষ্ট্য বা প্রকারভেদ নিয়ে বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) এসে থাকে।
সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ-এর মতে সমাজের মূল ভিত্তি কী?
সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট মরিসন ম্যাকাইভার এবং চার্লস এইচ পেজ-এর মতে, সমাজ কোনো দৃশ্যমান বা বস্তুগত কাঠামো নয়, বরং এটি হলো মানুষের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের একটি জটিল জাল। তাঁদের বিখ্যাত ‘Society’ গ্রন্থে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, আমরা যে সমস্ত সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করি, তাদের একটি সুসংগঠিত রূপই হলো সমাজ। অর্থাৎ, মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের কার্যাবলিই হলো সমাজের মূল ভিত্তি।