রেল, ব্যাংক, এসএসসি, পিএসসি ও পঞ্চায়েত পরীক্ষার জেনারেল নলেজ (GK) প্রস্তুতির জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোকনৃত্য (Folk Dances of India List for Competitive Exams) সম্পর্কিত ২০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যসমৃদ্ধ বিবরণমূলক প্রশ্নোত্তর।

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোকনৃত্য তালিকা: ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণমূলক প্রশ্নোত্তর
চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে জেনারেল নলেজ বা সাধারণ জ্ঞান (GK) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। বিশেষ করে রেল (Railway), ব্যাংক (Bank), পোস্ট অফিস (Post Office), পঞ্চায়েত সহায়ক, এসএসসি (SSC) এবং পিএসসি (PSC)-র মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতি, বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন আসে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এই পোস্টে folk dances of india list for competitive exams-এর ওপর ভিত্তি করে ২০টি অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো, যা একবার ভালো করে পড়লেই সহজে মনে থাকবে।
ভারতের লোকনৃত্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (Detailed GK Guide)
প্রশ্ন ১: পশ্চিমবঙ্গের প্রধান লোকনৃত্যগুলি কী কী এবং এগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এখানকার লোকনৃত্য। এই রাজ্যের বুকে যুগ যুগ ধরে যে ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যগুলি চর্চিত হয়ে আসছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ছৌ, কাঠি, বাউল, কীর্তন, যাত্রা, লানা এবং আলকাপ। এর মধ্যে ‘ছৌ’ নৃত্যটি মূলত একটি মুখোশ নৃত্য, যা পুরুলিয়া অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি তার যুদ্ধকালীন অঙ্গভঙ্গি ও বীররসের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। অন্যদিকে বাউল ও কীর্তন নৃত্য মূলত আধ্যাত্মিক ভাবধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা গ্রামীণ বাংলার ভক্তি আন্দোলনের ইতিহাসকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ২: মহারাষ্ট্র রাজ্যে কোন কোন লোকনৃত্য দেখা যায়?
উত্তর: ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মহারাষ্ট্র রাজ্যের লোকসংস্কৃতি অত্যন্ত বর্ণময় ও উৎসবমুখর। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, ইতিহাস ও বিনোদনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কথাকীর্তন, ডান্ডিয়া, তামাশা, গাফা, লেজিন, দহিকলা, লোভানি, মৌনী, দশাবতার এবং পাভরি নাচের মতো মনোমুগ্ধকর লোকনৃত্যগুলি। এর মধ্যে ‘লাবণী’ (লোভানি) এবং ‘তামাশা’ মহারাষ্ট্রের থিয়েটার ও লোকসংস্কৃতির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত, যা ঢোলকের তালে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবেশন করা হয়। ‘দশাবতার’ নৃত্যটি মূলত ভগবান বিষ্ণুর দশটি অবতারের পৌরাণিক কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ৩: কর্ণাটকের বিখ্যাত লোকনৃত্যগুলির বিশেষত্ব কী?
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের লোকশিল্পের এক নিজস্ব এবং অনন্য শৈলী রয়েছে যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এখানকার ঐতিহ্যবাহী এবং সর্বাধিক পরিচিত লোকনৃত্যগুলির তালিকায় রয়েছে হুট্টারি, যক্ষগণ, সামি কুনিথা এবং ডোলু কুনিথা। এর মধ্যে ‘যক্ষগণ’ (Yakshagana) হলো একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ নৃত্য-নাট্য ধারা, যা মূলত কর্ণাটকের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে দেখা যায়। এতে ভারী মেকআপ, চমৎকার পোশাক এবং করতাল ও মাদলের তালে রামায়ণ বা মহাভারতের বীরত্বগাথা ফুটিয়ে তোলা হয়। ‘ডোলু কুনিথা’ হলো একটি ড্রাম-নৃত্য, যা প্রধানত ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ৪: কেরালা রাজ্যে কোন কোন লোকনৃত্যের প্রচলন রয়েছে?
উত্তর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কেরালা রাজ্যের লোকনৃত্যগুলিও ঠিক সেখানকার প্রকৃতির মতোই মনোরম ও সুশৃঙ্খল। এই রাজ্যের মানুষ পরম্পরাগতভাবে কাইকোট্টিকালি, কালিয়াট্টাম এবং তাপ্পাতিক্কালি-র মতো লোকনৃত্যগুলি অত্যন্ত ভক্তি ও আনন্দের সাথে পরিবেশন করে থাকেন। কেরালায় প্রচলিত ‘কালিয়াট্টাম’ নৃত্যটি আসলে একটি প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানিক নৃত্য, যা ওনাম বা অন্যান্য বড় উৎসবের সময় মন্দিরের প্রাঙ্গণে পরিবেশিত হয়। এই নৃত্যগুলির ছন্দ ও অঙ্গভঙ্গি কেরালার ধ্রুপদী নৃত্য যেমন কথাকলির সাথে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রশ্ন ৫: দ্রাবিড় সংস্কৃতির পীঠস্থান তামিলনাড়ুতে কোন কোন লোকনৃত্য পরিবেশিত হয়?
উত্তর: প্রাচীন মন্দির, ভাস্কর্য এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দেশ তামিলনাড়ুতে প্রাচীনকাল থেকেই বেশ কিছু বর্ণাঢ্য লোকনৃত্যের চর্চা হয়ে আসছে। এগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো কোলাটম, কুম্মি, কাভাডি, কারাগাম এবং কামান্ডি। ‘কোলাটম’ হলো ডান্ডিয়া নৃত্যের মতো এক ধরনের লাঠি নৃত্য, যা মহিলারা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে কাঠের ছোট লাঠি একে অপরের সাথে ঠুকে ছন্দ তৈরি করে খেলে থাকে। ‘কাভাডি’ নৃত্যটি মূলত ভগবান মুরুগানের (কার্তিক) উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি ভক্তিমূলক লোকনৃত্য।
প্রশ্ন ৬: ওড়িশা রাজ্যের প্রধান লোকনৃত্যগুলি কী কী?
উত্তর: পূর্ব ভারতের উপকূলবর্তী রাজ্য ওড়িশা তার ধ্রুপদী ওড়িশি নাচের পাশাপাশি গ্রামীণ লোকশিল্পেও এক বিশাল ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। এখানকার ঘুমারা সঞ্চার, ছাদিয়া ড্যানডানাটা, ছৌ, নাসনি এবং গোটি পুয়া লোকনৃত্যগুলি তাদের নিপুণ ছন্দের জন্য সুপরিচিত। এর মধ্যে ‘গোটি পুয়া’ (Gotipua) নৃত্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে কম বয়সী ছেলেরা মহিলাদের পোশাক পরে জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত জটিল শারীরিক কসরত ও নৃত্যের মাধ্যমে বন্দনা করে। ওড়িশার ছৌ নৃত্যটিও ময়ূরভঞ্জ অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রশ্ন ৭: উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম রাজ্যে কোন কোন লোকনৃত্য দেখা যায়?
উত্তর: অসমের অপূর্ব নিসর্গ প্রকৃতির সাথে মিশে আছে তাদের নিজস্ব লোকসংস্কৃতি। এই রাজ্যে মূলত বিহু, রাসলীলা, খেল গোপাল, তাবাল চোংলি এবং ক্যানোই-এর মতো অনবদ্য লোকনৃত্যগুলি অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পরিবেশিত হয়। এখানকার ‘বিহু’ নৃত্যটি অসমের নববর্ষ বা বোহাগ বিহুর প্রধান আকর্ষণ। দ্রুত হাতের কাজ, চমৎকার কোমর দোলানো এবং ঐতিহ্যবাহী ‘মুগা’ সিল্কের মেখলা চাদর পরে তরুণ-তরুণীরা অসমীয়া ঢোল ও পঁপার (মহিষের শিং দিয়ে তৈরি বাঁশি) সুরে এই আনন্দময় নৃত্য পরিবেশন করে।
প্রশ্ন ৮: পাঞ্জাবের বিখ্যাত লোকনৃত্যগুলির নাম ও তাদের লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনটি কী?
উত্তর: কৃষিপ্রধান রাজ্য পাঞ্জাবের লোকনৃত্যগুলি মূলত উদ্দাম প্রাণশক্তি, শারীরিক শক্তি ও আনন্দের প্রতীক, যেখানে নারী ও পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা নাচের প্রচলন রয়েছে। এখানকার মহিলাদের দ্বারা পরিবেশিত অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও ছন্দোময় নৃত্যটির নাম ‘গিদ্ধা’। গিদ্ধা নৃত্যে মহিলারা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে করতালি ও লোকগীতির (বোলি) মাধ্যমে সুখ-দুঃখের গল্প ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে, পুরুষদের স্বতঃস্ফূর্ত ও পৃথিবীবিখ্যাত বীরত্বপূর্ণ লোকনৃত্যটি হলো ‘ভাংরা’, যা সাধারণত বৈশাখী বা ফসল কাটার উৎসবে ঢোলের তালে পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ৯: অন্ধ্রপ্রদেশে কোন কোন লোকনৃত্যের প্রচলন আছে?
উত্তর: অন্ধ্রপ্রদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাদের নিজস্ব রীতির লোকনৃত্য। এই রাজ্যের প্রধান লোকনৃত্যগুলির মধ্যে ঘণ্টা মারদালা, থাপেত্তা গুন্নু এবং বিধি নাটকর্মের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘ঘণ্টা মারদালা’ নৃত্যে নর্তকরা শরীরে বড় বড় ঘণ্টা বেঁধে ঢোলের ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে চমৎকার তাল ও আওয়াজ তৈরি করে, যা মূলত ধর্মীয় শোভাযাত্রায় দেখা যায়।
প্রশ্ন ১০: ছত্তিশগড় রাজ্যের লোকনৃত্যগুলির সামাজিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: আদিবাসী ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় ছত্তিশগড় রাজ্যে। এখানকার সহজ-সরল জনজীবনের আনন্দ-উৎসবের মাধ্যম হিসেবে মূলত ‘পানথি’ এবং ‘রাউত নাচা’ নামক দুটি লোকনৃত্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘পানথি’ নৃত্যটি মূলত চতূর্থী সম্প্রদায়ের মানুষের আধ্যাত্মিক গুরু ঘাসীদাসের নামকীর্তনের সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে ‘রাউত নাচা’ হলো যাদব বা রাউত সম্প্রদায়ের দ্বারা দীপাবলির সময়ে শ্রীকৃষ্ণের মায়াবী লীলা ও বীরত্বকে স্মরণ করে পরিবেশিত একটি লাঠি নৃত্য।
প্রশ্ন ১১: হিমাচল প্রদেশে পাহাড়ি সংস্কৃতির পরিচয় বহনকারী লোকনৃত্যগুলি কী কী?
উত্তর: হিমালয়ের কোলে অবস্থিত হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি সংস্কৃতির সাথে সেখানকার লোকনৃত্যগুলি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। এখানকার মানুষেরা ডাংলি, জাদ্দা, ঝোরা, ঝালি, মাহাসু এবং কিন্নরী নটীর মতো চমৎকার লোকনৃত্যগুলি অত্যন্ত ছন্দের সাথে পরিবেশন করেন। এর মধ্যে ‘কিন্নরী নটী’ বা ‘নটী’ নৃত্যটি হিমাচলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নৃত্য, যা উৎসবের দিনগুলিতে স্থানীয় মানুষ বড় বড় বৃত্ত তৈরি করে একে অপরের হাত ধরে পাহাড়ি বাদ্যযন্ত্রের সুরে দীর্ঘ সময় ধরে ধীর গতিতে পরিবেশন করে।
প্রশ্ন ১২: পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিহারের কোন কোন লোকনৃত্যের নাম মনে রাখা প্রয়োজন?
উত্তর: ভারতের পূর্বদিকে অবস্থিত বিহারের বিশাল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে তাদের পরিবেশিত লোকনৃত্যগুলিতে। এখানকার প্রধান ও বিখ্যাত লোকনৃত্যগুলি হলো কাঠপুতলি, ছৌ, কর্মা, যাত্রা, যাতা যতীন, জাদুর, বাখো, ঝিঝিয়া এবং নাটনা। এর মধ্যে ‘যাতা যতীন’ (Jata-Jatin) নৃত্যটি উত্তর বিহারের (মিথিলা অঞ্চল) গ্রামীণ নারীদের দ্বারা অভিনীত একটি জনপ্রিয় নৃত্য-নাট্য, যা বিবাহিত দম্পতির মিষ্টি মধুর কলহ ও প্রেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। ‘ঝিঝিয়া’ নৃত্যটি খরার সময়ে বৃষ্টির দেবতার আরাধনার জন্য পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ১৩: উত্তরপ্রদেশে কোন কোন লোকনৃত্য দেখা যায়?
উত্তর: প্রাচীন ভারতের পৌরাণিক কাহিনী, শ্রীকৃষ্ণের লীলা এবং গ্রামীণ সামাজিক জীবনযাত্রার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটে ওঠে উত্তরপ্রদেশের লোকনৃত্যগুলিতে। এই রাজ্যের সংস্কৃতিতে নউটংকি, থোরা, রাসলীলা, কাজরী এবং চাপ্পেলি হলো অত্যন্ত সুপরিচিত এবং মানুষের প্রিয় কয়েকটি লোকনৃত্য। ‘রাসলীলা’ ব্রজ অঞ্চলে অত্যন্ত ভক্তিভরে পরিবেশিত হয়, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়। আবার গ্রামীণ যাত্রাপালা বা নাটকীয় নৃত্যের শ্রেষ্ঠ রূপ হলো ‘নউটংকি’।
প্রশ্ন ১৪: উৎসবের রাজ্য গোয়ার রঙিন লোকনৃত্যগুলি কী কী?
উত্তর: সমুদ্রসৈকত, উৎসব এবং পর্তুগিজ ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়া রাজ্য গোয়ার লোকনৃত্যগুলি অত্যন্ত রঙিন ও প্রাণবন্ত। এখানকার অধিবাসীরা তারাঙ্গামেল, কুনবি, কোলি, জাগর, দেখনি এবং র্যানমেল-এর মতো লোকনৃত্যের মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যকে উদযাপন করেন। ‘কোলি’ নৃত্যটি হলো গোয়ার কোলি বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ, যা সমুদ্রের ঢেউ এবং মাছ ধরার বিভিন্ন শৈলীকে নাচের মুদ্রার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে।
প্রশ্ন ১৫: গুজরাট রাজ্যে কোন কোন লোকনৃত্যের চল রয়েছে?
উত্তর: গুজরাটের উৎসবমুখর পরিবেশে, বিশেষ করে আশ্বিন মাসের নবরাত্রির সময়ে এখানকার লোকনৃত্যগুলি দেশজুড়ে এক আলাদা উন্মাদনার সৃষ্টি করে। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ‘গারবা’ এবং ‘ডান্ডিয়া রাস’ ছাড়াও এই রাজ্যে পাধার, রাস এবং টিপ্পনির মতো ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য প্রচলিত রয়েছে। গারবা নৃত্যটি মূলত দেবী দুর্গার আরাধনায় মহিলারা মাটির প্রদীপ (গর্বদীপ) মাঝখানে রেখে বৃত্তাকারে তালি দিয়ে খেলে। অন্যদিকে ডান্ডিয়া নৃত্যটি পুরুষ ও নারী উভয়েই রঙিন লাঠি নিয়ে খেলে থাকে।
প্রশ্ন ১৬: হরিয়ানা রাজ্যের প্রধান লোকনৃত্যগুলির নাম কী?
উত্তর: উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কৃষিকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও উৎসবের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে তাদের নিজস্ব লোকনৃত্য। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঝুমর, ধামাল, লুর, গামা, খোরিয়া, গাপোর, ফ্যাগ এবং ঘুমর। হরিয়ানার ‘ঝুমর’ নৃত্যটি রাজস্থানের ঘুমরের মতোই জনপ্রিয় এবং এটি মূলত বিবাহিত মহিলাদের দ্বারা বিশেষ অলঙ্কার ও পোশাক পরে পরিবেশিত হয়। ‘ফ্যাগ’ নৃত্যটি মূলত হোলি উৎসবের সময় আনন্দ উদযাপনের জন্য করা হয়।
প্রশ্ন ১৭: রাজস্থানের বিখ্যাত ‘কালবেলিয়া’ ছাড়া আর কোন কোন লোকনৃত্য সুপরিচিত?
উত্তর: শুষ্ক মরুভূমির মাঝে রাজস্থানের বর্ণময় সংস্কৃতির ছোঁয়া নিয়ে আসে সেখানকার চোখ-ধাঁধানো ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যগুলি। এখানকার ইউনেস্কো হেরিটেজ প্রাপ্ত ‘কালবেলিয়া’ (সাপুড়ে নৃত্য) ছাড়াও চাকরি, গিনাদ, গ্যাঙ্গোর, তেরহাতাল, ঝুমা, ঝুলন লীলা এবং তেরা তলি অত্যন্ত সুপরিচিত ও সমাদৃত। ‘তেরা তলি’ (Terah Tali) নৃত্যে মহিলারা শরীরের ১৩টি ভিন্ন স্থানে ছোট ছোট করতাল বা কাঁসর বেঁধে অত্যন্ত কঠিন শারীরিক ভঙ্গিমায় বসে বসে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নাচ প্রদর্শন করে।
প্রশ্ন ১৮: মণিপুর রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক লোকনৃত্যগুলি কী কী?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্য তার নিজস্ব ধ্রুপদী রাসলীলার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হলেও এখানকার লোকনৃত্যগুলিও সমানভাবে সমৃদ্ধ ও মার্শাল আর্টের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ। ‘থাং তা’ এবং ‘দোল চোলাম’ হলো মণিপুরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে উল্লেখযোগ্য দুটি লোকনৃত্য। এর মধ্যে ‘থাং তা’ (Thang-Ta) হলো একটি ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট ভিত্তিক নৃত্য, যেখানে তরবারি (থাং) এবং ঢাল বা বল্লম (তা) নিয়ে যুদ্ধের কৌশল ও বীরত্ব প্রদর্শন করা হয়।
প্রশ্ন ১৯: জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে উপত্যকার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ কোন নৃত্যগুলি?
উত্তর: ভূস্বর্গ জম্মু ও কাশ্মীরের অপূর্ব নৈসর্গিক পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে সেখানকার মানুষেরা কিছু অনন্য ধারার লোকনৃত্য পরিবেশন করেন। এগুলির মধ্যে দুমহল, রাউফ এবং হিকাত হলো সর্বাধিক পরিচিত এবং উপত্যকার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে ‘রাউফ’ (Rouf) নৃত্যটি বসন্তকালে এবং ইদের উৎসবের সময়ে কাশ্মীরের মুসলিম রমণীরা দুটি সারিতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একে অপরের কাঁধে হাত দিয়ে অত্যন্ত মিষ্টি এক লোকগীতির সুরে পা মিলিয়ে পরিবেশন করে থাকে।
প্রশ্ন ২০: মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের প্রধান লোকনৃত্যগুলির নাম কী?
উত্তর: ভারতের কেন্দ্রস্থলে বা হৃদপিণ্ডে অবস্থিত মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের লোকনৃত্যগুলিতে সেখানকার গভীর অরণ্য, আদিবাসী সম্প্রদায় ও প্রাচীন গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছাপ অত্যন্ত স্পষ্ট। এই রাজ্যের প্রধান এবং আকর্ষণীয় লোকনৃত্যগুলি হলো তেরতালি, চারকুলা এবং জাওয়ারা। ‘জাওয়ারা’ (Jawara) নৃত্যটি মূলত বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের একটি শস্য কাটার উৎসবের নৃত্য, যেখানে গ্রামীণ মহিলারা তাদের মাথায় শস্যপূর্ণ ভারী পাত্র বা ঝুড়ি ব্যালেন্স করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আনন্দ নাচ পরিবেশন করেন।
উপসংহার ও পরীক্ষার্থীদের জন্য টিপস:
ভারতের এই লোকনৃত্যগুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখলে যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান বিভাগে ১-২ নম্বর নিশ্চিত করা যায়। আর্টিকেলে দেওয়া প্রতিটি রাজ্যের নৃত্যের নাম ও তাদের বিবরণগুলি মন দিয়ে পড়লে পরীক্ষার মাল্টিপল চয়েস প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক সহজ হবে। এই ধরনের আরও তথ্যসমৃদ্ধ স্টাডি মেটেরিয়াল ও কুইজ পেতে আমাদের “Edu বাংলা” ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন।

