NASA Swift Mission: বিখ্যাত নিল গেহ্রেলস সুইফট অবজারভেটরি (Neil Gehrels Swift Observatory) বা সুইফট টেলিস্কোপের মিশন শেষ। ২০ বছরের দীর্ঘ যাত্রা শেষে এবার পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে চলেছে এই মহাকাশযান। জানুন বিস্তারিত।
প্রায় দুই দশক ধরে মহাকাশের একের পর এক রহস্য উন্মোচন করেছে নাসার ‘সুইফট টেলিস্কোপ’। কিন্তু এবার তার বিদায়বেলা। কক্ষপথ থেকে ক্রমশ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এই ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট। নাসা জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যাবে এটি।

মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি মন খারাপ করা খবর। টানা ২০ বছর ধরে মহাকাশের অজানা রহস্য আমাদের সামনে তুলে ধরার পর অবশেষে অবসর নিল নাসার (NASA) বিখ্যাত ‘নিল গেহ্রেলস সুইফট অবজারভেটরি’ (Neil Gehrels Swift Observatory)। যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘সুইফট টেলিস্কোপ’ (Swift Telescope) নামেই বেশি পরিচিত।
নাসা (NASA) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, এই মহাকাশযানটির বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্ত কাজ গত ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন এটি ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে এবং খুব শীঘ্রই এটি আছড়ে পড়তে চলেছে।
কেন পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে সুইফট?
২০০৪ সালের নভেম্বরে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল সুইফট। কথা ছিল মাত্র কয়েক বছর কাজ করবে, কিন্তু প্রত্যাশা ছাপিয়ে ২০ বছর ধরে নিরলস পরিষেবা দিয়ে গিয়েছে এটি। সম্প্রতি সূর্যের অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরের স্তরে এক ধরণের ঘর্ষণ বা ‘অ্যাটমোস্ফেরিক ড্র্যাগ’ (Atmospheric drag) মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে সুইফটের গতি কমে যায় এবং এটি তার নির্দিষ্ট কক্ষপথ থেকে ক্রমশ নিচে নামতে থাকে। বর্তমানে এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ২৭৫ কিলোমিটার (১৭১ মাইল) উঁচুতে অবস্থান করছে, যা একটি স্যাটেলাইটের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক উচ্চতা।
উদ্ধারকারী মিশনও ব্যর্থ হয়!
নাসা কিন্তু হাল ছাড়েনি। সুইফটকে বাঁচাতে এবং তার কক্ষপথ আরও কিছুটা উপরে তুলে দিতে গত অগাস্ট মাসে ‘লিঙ্ক’ (LINK) নামের একটি উদ্ধারকারী মহাকাশযান পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই প্রাইভেট রেসকিউ মিশনটি মাঝপথেই ব্যর্থ হয়। এরপর আর কোনো উপায় না থাকায়, নাসা এই ঐতিহাসিক টেলিস্কোপটির মিশন চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কী কী আবিষ্কার করেছিল এই টেলিস্কোপ?
সুইফট টেলিস্কোপ মূলত মহাকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ বা ‘গামা-রে বার্স্ট’ (Gamma-ray bursts) পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। গত ২০ বছরে এটি ২,০০০-এর বেশি গামা-রে বার্স্ট সনাক্ত করেছে। এছাড়াও সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল, মৃতপ্রায় তারাদের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা এবং আমাদের সৌরজগতের বহু ধূমকেতু নিয়ে যুগান্তকারী সব তথ্য দিয়েছে এই টেলিস্কোপ। এর পাঠানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আজ পর্যন্ত ৭,০০০-এরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের কি কোনো বিপদের আশঙ্কা আছে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এত বড় একটা মহাকাশযান যখন পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে, তখন কি আমাদের কোনো ক্ষতি হতে পারে? নাসার বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই। সুইফট যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচণ্ড বেগে প্রবেশ করবে, তখন বাতাসের ঘর্ষণে এর বেশিরভাগ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। অপটিক্যাল লেন্স বা টাইটানিয়ামের তৈরি দু-একটি টুকরো হয়তো পৃথিবীতে এসে পড়তে পারে, তবে সেগুলো কোনো জনবসতিহীন এলাকায় বা সমুদ্রের বুকেই পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সুইফট টেলিস্কোপের ভৌত অস্তিত্ব হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু মহাকাশ বিজ্ঞানে এটি যে বিপুল তথ্যের ভাণ্ডার রেখে গেল, তা আগামী কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সাহায্য করে চলবে। নাসার এই সুইফট মিশন (NASA Swift Mission) ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
👉 আরো পড়ুনঃ মহাবিশ্বের ভূত ‘নিউট্রিনো’ এবং আইস কিউব এক্সপেরিমেন্ট: IceCube Neutrino Observatory Nobel Prize 2026

