চতুর্থ শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞানের “Water Cycle for Class 4” বা ‘বরফ গলে জল হলো জল ফুটে বাষ্প হলো’ অধ্যায়ের সকল প্রশ্নোত্তর। বৃষ্টি, কুয়াশা ও শিশির সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক কারণগুলো সহজ ভাষায় জানো।

বরফ গলে জল হলো, জল ফুটে বাষ্প হলো (Water Cycle for Class 4)
🔴 ১. রোদ্দুরে ভিজে গামছা রাখলে জল শুকিয়ে যায়। জলটি কোথায় যায়?
উত্তর: রোদের তাপে গামছার জল বাষ্পীভূত হয়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। একে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
🟠 ২. শীতকালে ঘাসে যে শিশির জমে তা কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: বাতাসে সবসময় অদৃশ্য জলীয় বাষ্প থাকে। শীতের রাতে ভূপৃষ্ঠ ও গাছপালা দ্রুত তাপ ছেড়ে দিয়ে খুব ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন ঘাসের সংস্পর্শে থাকা বাতাসও ঠান্ডা হয়ে যায়। সেই ঠান্ডা বাতাসের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয় এবং ঘাসের ওপর জমা হয়। একেই শিশির বলে।
🟡 ৩. জল ছাড়া আরো কয়েকটি জিনিসের নাম বল যা ঠান্ডাতে তুমি জমে যেতে দেখেছো।
উত্তর: নারকেল তেল, ঘি, ডালডা এবং গলানো মোম।
🟢 ৪. বরফ থেকে যে সাদা ধোঁয়ার মতো বেরোতে দেখা যায় সেটি আসলে কি?
উত্তর: বরফ অত্যন্ত ঠান্ডা। এর সংস্পর্শে আসা বাতাসের জলীয় বাষ্প হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে অতি ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এই অসংখ্য জলকণা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এর উপর আলো পড়লে ধোঁয়ার মতো দেখায়।
🔵 ৫. বাতাস কি?
উত্তর: বাতাস হলো কতগুলো গ্যাসের মিশ্রণ (যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন) যা পৃথিবীকে চাদরের মতো ঘিরে আছে।
🟣 ৬. বাতাসে কোন কোন গ্যাস মিশে আছে?
উত্তর: বাতাসে মূলত নাইট্রোজেন (সবচেয়ে বেশি), অক্সিজেন (প্রাণী ও উদ্ভিদের নিশ্বাসের জন্য প্রয়োজন), সামান্য কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্প মিশে আছে।
⚪ ৭. একটি গ্লাসে বরফ রাখলে তার বাইরের গায়ে ফোঁটা ফোঁটা জল কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: গ্লাসের ভেতরে বরফ থাকায় গ্লাসের গা খুব ঠান্ডা হয়। গ্লাসের বাইরের বাতাসের জলীয় বাষ্প ওই ঠান্ডা গায়ের সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয় এবং ফোঁটা ফোঁটা জল হয়ে জমা হয়।
🟤 ৮. জলের কয়টি অবস্থা থাকে ও কী কী?
উত্তর: জলের তিনটি অবস্থা থাকে। যথা: কঠিন (বরফ), তরল (জল) এবং গ্যাসীয় (জলীয় বাষ্প)।
⚫ ৯. জলের অবস্থার পরিবর্তন কাকে বলে?
উত্তর: তাপ গ্রহণ বা বর্জন করার ফলে জলের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় (যেমন: তরল থেকে কঠিন বা তরল থেকে বাষ্প) রূপান্তর হওয়াকেই জলের অবস্থার পরিবর্তন বা Phase transformation of water বলে।
🔴 ১০. মেঘ কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: সূর্যের তাপে জল বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে। উপরের বাতাস ঠান্ডা হওয়ায় সেই বাষ্প জমে গিয়ে অতি ক্ষুদ্র জলকণা তৈরি করে। এই জলকণাগুলো যখন বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে একসাথে ঘুরে বেড়ায়, তখন তাকে মেঘ বলে।
🟠 ১১. ধোঁয়াশা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কলকারখানা বা গাড়ির ধোঁয়া যখন শীতকালের কুয়াশার সাথে মিশে যায়, তখন তাকে ধোঁয়াশা বলে। এটি বাতাসের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
🟡 ১২. কুয়াশা কিভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: শীতকালে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা বাতাস যখন খুব বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়, তখন সেই বাতাসের জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা হিমকণায় পরিণত হয়। এই হালকা জলকণাগুলো মাটির কাছাকাছি স্তরে বাতাসের ধূলিকণাকে অবলম্বন করে চাদরের মতো ভেসে বেড়ায়। এটাই কুয়াশা বলে।
🟢 ১৩. বৃষ্টি কিভাবে হয়?
উত্তর: সূর্যের তাপে জল বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে। উপরের বাতাস ঠান্ডা হওয়ায় সেই বাষ্প জমে গিয়ে অতি ক্ষুদ্র জলকণা তৈরি করে। এরপর ভাসতে ভাসতে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণাগুলো যখন একে অপরের সাথে জুড়ে যায়, তখন সেগুলো বড় ও ভারী জলবিন্দুতে পরিণত হয়। এই বড় জলবিন্দুগুলো যখন আর বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না, তখন পৃথিবীর অভিকর্ষজ টানে বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে নিচে ঝরে পড়ে।
🔵 ১৪. শিলা বৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর: কখনো কখনো মেঘের জলকণাগুলো বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত উঁচু ও শীতল স্তরে পৌঁছে যায়। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডায় জলকণাগুলো দ্রুত জমে বরফে পরিণত হয়। এই বরফের টুকরোগুলো যখন ভারী হয়ে বৃষ্টির সাথে নিচে পড়ে, তাকে শিলা বৃষ্টি বলে।