পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে নতুন আপডেট। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ এর দাবি, গ্রুপ ডি বেতন, বকেয়া এরিয়ার এবং অ্যাট পার সেন্ট্রাল নিয়ে বিস্তারিত জানুন। Read the exclusive WB 7th Pay Commission Latest News.

Table of Contents
রাজ্য সরকারি কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ও শিক্ষক সংগঠনগুলি তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করতে শুরু করেছে। কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফ থেকে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ বা তার কাছাকাছি রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফ্যামিলি মেম্বার ইউনিট ৩ জনের বদলে বাড়িয়ে ৫ জন করার দাবিও উঠেছে।
তবে এই ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি বাস্তবে কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হলে একজন গ্রুপ ডি কর্মীর ন্যূনতম বেতন ৬৫,০০০ থেকে ৬৬,০০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। একইভাবে, যাঁদের বর্তমান বেসিক ৪০,০০০ টাকা, তাঁদের বেতন বেড়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা হয়ে যাবে। সরকারি কোষাগারের বর্তমান অবস্থার কথা মাথায় রাখলে, সরকারের পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার বলেই মনে করা হচ্ছে।
অবাস্তব দাবির বদলে ‘অ্যাট পার সেন্ট্রাল’ই মূল লক্ষ্য
অবাস্তব ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবির বদলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কেন্দ্রীয় হারে বেতন বা ‘অ্যাট পার সেন্ট্রাল’ (At par Central) আদায় করা। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুরোপুরি কেন্দ্রের সমান করে দেবেন।
এই WB 7th Pay Commission Latest News অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নিয়মে বাড়ি ভাড়া ভাতা বা এইচআরএ (HRA) ন্যূনতম ১৫% থেকে শুরু হয় এবং সর্বোচ্চ ২৫-২৭% পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে রাজ্যে এইচআরএ-এর সর্বোচ্চ সীমা মাত্র ১২,০০০ টাকা, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা ৬৭,০০০ থেকে ৬৮,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এছাড়াও কলকাতা বা দিল্লির মতো মেগা সিটি এবং শহরতলি এলাকার জন্য আলাদা সিটি অ্যালাউন্স চালু করার দাবিটিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পিজিটি (PGT) ও পিআরটি (PRT) স্কেল, প্রধান শিক্ষকদের জন্য আলাদা ইনক্রিমেন্ট, পিএইচডি (PhD) করা শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার জন্য ইনক্রিমেন্ট এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচের ভাতা চালু হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এলটিসি (LTC), লিভ এনক্যাশমেন্ট এবং প্রমোশন সিস্টেম বা কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিমের মতো সুবিধাগুলিও নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
বকেয়া মেটানো এবং অষ্টম বেতন কমিশনের ভবিষ্যৎ
বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বকেয়া বা এরিয়ার নিয়েও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিগত সরকার ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় চার বছরের আর্থিক সুবিধা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করেছিল, যা একপ্রকার চুরি করার সামিল। নতুন সরকার ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করলে বকেয়া এরিয়ার বা বকেয়া টাকা দেওয়ার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হতে চলেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মনে করা হচ্ছে, দিওয়ালির সময়ই এই কমিশনের রেকমেন্ডেশন বা সুপারিশ জমা পড়তে পারে। কেন্দ্র এটি চালু করে দিলে, রাজ্য সরকারের উপরেও ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ রাজ্যে নতুন পে কমিশন লাগু করার জন্য প্রবল চাপ তৈরি হবে।

