পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চতুর্থ শ্রেণীর ‘আমাদের পরিবেশ’ পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এই WBBPE Class 4 Environmental Science Questions and Answers তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। আজকের এই পোস্টে আমরা জীব ও জড়ের পার্থক্য, বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের প্রাকৃতিক অভিযোজন নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের পরীক্ষা ও কুইজের প্রস্তুতির জন্য দারুণভাবে সাহায্য করবে।
🟢 ১. জীব কাকে বলে?
যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়, উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তাদের জীব বলে। যেমন— মানুষ, গাছপালা।
🔵 ২. জড় কাকে বলে?
যাদের জীবন নেই, যারা খাবার খায় না বা নিজের ইচ্ছায় নড়াচড়া করতে পারে না, তাদের জড় বলে। যেমন— ইট, পাথর, বই।
🟣 ৩. জীবের কয়েকটি মূল কাজের নাম লেখ।
জীবের প্রধান কাজগুলি হলো— শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, খাদ্য গ্রহণ করা, বংশবৃদ্ধি করা এবং চলন ও গমন করা।
🔴 ৪. পাহাড়ে জন্মায় এমন কয়েকটি গাছের নাম লেখ।
পাইন, দেবদারু এবং ওক গাছ সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়।
🟠 ৫. সুন্দরবনে জন্মায় এমন কয়েকটি গাছের নাম লেখ।
সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সুন্দরী, গরান এবং গেঁওয়া গাছ জন্মায়।
🟡 ৬. কুঁরো কাকে বলে?
ধান থেকে চাল বের করার সময় চালের উপরের যে পাতলা লালচে বা বাদামী রঙের আবরণটি গুঁড়ো হয়ে আলাদা হয়ে যায়, তাকেই কুঁরো বলা হয়।
🟢 ৭. উৎপাদক কাকে বলে?
সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোর সাহায্যে নিজের খাবার নিজেই তৈরি করতে পারে বলে এদের উৎপাদক বলা হয়।
🔵 ৮. খাদক কাকে বলে?
যেসব প্রাণী নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে না এবং বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভর করে, তাদের খাদক বলে।
🟣 ৯. প্রাথমিক খাদক কাকে বলে?
যেসব প্রাণী সরাসরি ঘাস বা লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে, তাদের প্রাথমিক খাদক বলে। যেমন— ফড়িং, গরু, ছাগল।
🔴 ১০. গৌণ খাদক কাকে বলে?
যারা প্রাথমিক খাদকদের খাবার হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের গৌণ খাদক বলে। যেমন— ব্যাঙ (ফড়িং খায়)।
🟠 ১১. প্রগৌণ খাদক কাকে বলে?
যারা গৌণ খাদকদের খেয়ে বেঁচে থাকে, তাদের প্রগৌণ খাদক বলে। যেমন— সাপ (ব্যাঙ খায়) বা ময়ূর (সাপ খায়)।
🟡 ১২. মরুভূমিতে জন্মায় এমন কয়েকটি গাছের নাম লেখ।
মরুভূমির শুষ্ক বালিতে ফণীমনসা (ক্যাকটাস) এবং বাবলা গাছ বেশি দেখা যায়।
🟢 ১৩. মেরুদন্ডী প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যাদের শরীরের মাঝখানে শক্ত শিরদাঁড়া থাকে, তাদের মেরুদন্ডী প্রাণী বলে। উদাহরণ: মানুষ, মাছ, পাখি।
🔵 ১৪. অমেরুদন্ডী প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যাদের শরীরে কোনো শিরদাঁড়া বা মেরুদন্ড থাকে না, তাদের অমেরুদন্ডী প্রাণী বলে। উদাহরণ: কেঁচো, মশা, প্রজাপতি।
🟣 ১৫. উভচর প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রাণী জীবনের কিছুটা সময় জলে এবং কিছুটা সময় ডাঙায় বাস করে, তাদের উভচর প্রাণী বলে। উদাহরণ: ব্যাঙ।
🔴 ১৬. খালি চোখে দেখা যায় না এমন কয়েকটি জীবের উদাহরণ দাও।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অ্যামিবা— এদের খালি চোখে দেখা যায় না। এদের দেখতে গেলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়।
🟠 ১৭. শিং, কাঁটা ও নখ প্রাণীদের কীভাবে সাহায্য করে?
- শিং: গরু বা হরিণ তাদের শিং দিয়ে শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।
- সজারুর কাঁটা: এটি সজারুর আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র, যা শত্রুকে ভয় দেখাতে সাহায্য করে।
- ভল্লুকের নখ: শিকার ধরতে এবং পাহাড় বা গাছের খাঁজে শক্ত করে আটকে থাকতে সাহায্য করে।
🟡 ১৮. লিপ্তপদ কী? উদাহরণ দাও।
হাঁস বা ব্যাঙের পায়ের আঙুলগুলো পাতলা চামড়া দিয়ে জোড়া থাকে, একেই লিপ্তপদ বলে। এটি জলে সাঁতার কাটতে দাঁড়োঁর মতো সাহায্য করে। উদাহরণ— হাঁস।
🟢 ১৯. চিংড়ির কোন কোন অঙ্গ তাদের কীভাবে সাহায্য করে?
চিংড়ির সামনের একজোড়া লম্বা শুঁড় খাবার খুঁজে পেতে এবং সরু পাগুলো সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। আবার লেজটি ঝাপটা দিয়ে তারা দ্রুত পিছনে সরে যেতে পারে।
🔵 ২০. শামুকের কোন কোন অঙ্গ তাদের কীভাবে সাহায্য করে?
শামুকের শরীরের ওপরের শক্ত খোলসটি তাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং নিচের মাংসল পা তাকে পিচ্ছিল পথে চলতে সাহায্য করে।
🟣 ২১. কাঁকড়ার কোন অঙ্গ তাদের কীভাবে সাহায্য করে?
কাঁকড়ার শক্তিশালী ও ধারালো একজোড়া দাঁড়াঁ খাবার ধরতে এবং শত্রুকে আক্রমণ করে নিজেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।
🔴 ২২. বাঘের বিভিন্ন অংশ কীভাবে তাদের পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে?
বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগ তাকে জঙ্গলের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। তাদের ধারালো দাঁত ও নখ শিকার ধরতে এবং পায়ের নিচে থাকা নরম মাংসের প্যাড নিঃশব্দে চলাফেরা করতে সাহায্য করে।