PM Modi Announces India Space Station: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে তৈরি হবে ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন। জানুন ISRO-এর প্রজেক্ট Bharatiya Antariksha Station-এর বিস্তারিত তথ্য।

Table of Contents
মহাকাশে ভারতের নিজস্ব ঠিকানা: Bharatiya Antariksha Station Details in Bengali
সাম্প্রতিক সময়ে মহাকাশ গবেষণায় ভারত একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করছে। চন্দ্রযান-৩ এর অসামান্য সাফল্যের পর এবার ভারতের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হলো মহাকাশে নিজস্ব একটি স্পেস স্টেশন তৈরি করা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের এই ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।
আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা ইসরোর (ISRO) এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট “ভারতীয় অন্তরিক্ষ স্টেশন” (Bharatiya Antariksha Station) সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
মেলবোর্নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: “PM Modi Announces India Space Station”
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, ভারত মহাকাশ বিজ্ঞানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। গগনযান (Gaganyaan) মিশনের মাধ্যমে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর পাশাপাশি, ভারত খুব শীঘ্রই নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করবে। এটি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতকে একটি প্রথম সারির স্পেস পাওয়ার বা মহাকাশ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ভারতীয় অন্তরিক্ষ স্টেশন (BAS) কী?
👉 আরো জানুন: মহাবিশ্বে আলো কেন সবচেয়ে দ্রুত বলে গণ্য হয়: Why Massless Particles Travel at Speed of Light
ভারতীয় অন্তরিক্ষ স্টেশন বা BAS হলো মহাকাশে ভারতের নিজস্ব গবেষণাগার। বর্তমানে মহাকাশে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS) এবং চীনের তিয়ানগং (Tiangong) স্পেস স্টেশন রয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারত এই তালিকায় তৃতীয় দেশ হিসেবে নিজস্ব স্পেস স্টেশন স্থাপন করতে চলেছে। এটি একটি মডিউলার স্পেস স্টেশন হবে, যার বিভিন্ন অংশ পৃথিবী থেকে লঞ্চ করে মহাকাশে একত্রিত করা হবে।
স্পেস স্টেশনের মূল বৈশিষ্ট্য (Key Features of BAS)
এই স্পেস স্টেশনটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত উন্নত হতে চলেছে। এক নজরে এর প্রধান প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| স্টেশনের নাম | ভারতীয় অন্তরিক্ষ স্টেশন (BAS) |
| পরিচালনাকারী সংস্থা | ISRO (ইসরো) |
| কক্ষপথ (Orbit) | ৪০০-৪৫০ কিমি উচ্চতায় লো আর্থ অরবিট (LEO) |
| মোট ওজন | আনুমানিক ৫২ টন |
| যাত্রী ধারণক্ষমতা | ৩-৪ জন মহাকাশচারী (৩-৬ মাসের জন্য) |
| মোট মডিউল সংখ্যা | ৫টি (বেস মডিউল, ল্যাবরেটরি ইত্যাদি) |
ইসরোর মেগা প্রজেক্টের টাইমলাইন
ইসরো এই বিশাল প্রজেক্টটিকে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে:
- ২০২৮ সাল (প্রথম মডিউল): প্রথম ধাপে BAS-01 নামের বেস মডিউলটি LVM3 রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাঠানো হবে। এর ওজন হবে প্রায় ৯ থেকে ১০ টন।
- ২০৩৫ সাল (সম্পূর্ণ স্টেশন): ২০৩৫ সালের মধ্যে বাকি মডিউলগুলো মহাকাশে পাঠিয়ে সম্পূর্ণ স্টেশনটিকে কার্যকর (Operational) করা হবে।
ভারতের জন্য এই স্পেস স্টেশনের গুরুত্ব কতটা?
- মাইক্রোগ্রাভিটি গবেষণা (Microgravity Research): মহাকাশে ভরহীন অবস্থায় নতুন ওষুধ আবিষ্কার, রোগ নিরাময় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক গবেষণা করা পৃথিবীর তুলনায় অনেক সহজ এবং কার্যকরী হবে।
- ভবিষ্যতের ডিপ স্পেস মিশন: চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর আগে এই স্পেস স্টেশনটি ভারতীয় মহাকাশচারীদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের একটি আদর্শ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
- প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা: অন্য দেশের স্পেস স্টেশনের ওপর নির্ভর না করে, ভারত সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে মহাকাশ বিজ্ঞানে স্বনির্ভর হবে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Quick Notes)
ছাত্রছাত্রীদের সাধারণ জ্ঞান বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রস্তুতির জন্য এই প্রজেক্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মনে রাখা প্রয়োজন:
- ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশনের নাম Bharatiya Antariksha Station (BAS)।
- এটি সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে।
- এটি পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে Low Earth Orbit-এ অবস্থান করবে।
মহাকাশ গবেষণায় ভারতের এই নতুন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করতে চলেছে।

