চতুর্থ শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা আমাদের পরিবেশ সাজেশন (পর্ব-৫) | Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 5

চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ‘আমাদের পরিবেশ’ বিষয়ের চূড়ান্ত সাজেশন। পরীক্ষায় ১০০% কমন পেতে শূন্যস্থান, সঠিক উত্তর ও বড় প্রশ্নের Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 5 আজই পড়ুন।

Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 5
Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 5

আসন্ন চতুর্থ শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা (Primary Britti Exam) এবং স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য আজ আমরা নিয়ে এসেছি ‘আমাদের পরিবেশ’ (Amader Paribesh) সাজেশনের পঞ্চম তথা নতুন পর্ব। আগের পর্বগুলোতে আমরা পরিবেশবিদ্যার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছি, যা ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতির জন্য দারুণ সহায়ক হয়েছে।

​আজকের এই পর্বে শূন্যস্থান পূরণ, সঠিক উত্তর নির্বাচন (MCQ), ভুল সংশোধন, ডানদিক-বাঁদিক মেলানো এবং বড় ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে একটি সম্পূর্ণ গাইড তৈরি করা হয়েছে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্রের ধাঁচ অনুযায়ী তৈরি আমাদের এই ‘Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 5’-এর প্রতিটি উত্তর অত্যন্ত সহজ, সরল ও নির্ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় পরিবেশ বিদ্যায় লেটার মার্কস বা পুরো নম্বর নিশ্চিত করতে এই পর্বটি ভালোভাবে অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরি।

​চলো, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিবেশবিদ্যার এই নতুন পর্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলো মন দিয়ে পড়ে নেওয়া যাক!

প্রাথমিক শেষ পরীক্ষা (বৃত্তি পরীক্ষা) – আমাদের পরিবেশ (পর্ব-৫)

❖ শূন্যস্থান পূরণ করো
১. পাহাড়ের চূড়ায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে।
২. একই পরিবারের শাখা-প্রশাখাকে একসঙ্গে বংশলতিকা (বা পরিবারবৃক্ষ) বলে।
৩. যে সব প্রাণী চিরতরে হারিয়ে গেছে তাদের বিলুপ্ত প্রাণী বলা হয়।
৪. শীত ঋতুতে কিছু কিছু গাছের পাতা ঝরে যায়।
৫. দূরবিন যন্ত্রটি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানী গ্যালিলিও।
৬. ধানের খোসাকে তুষ বলে।
৭. ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে যে সকল প্রাণী তাদের তৃণভোজী প্রাণী বলে।
৮. খড়, শুকনো পাতা, কেরোসিন, পেট্রোল— এগুলি সবই দাহ্য বস্তুর উদাহরণ।
৯. কলকাতা ও হাওড়ার সংযোগকারী প্রধান ব্রিজটি হলো রবীন্দ্র সেতু (বা হাওড়া ব্রিজ)।
১০. যারা মাটির জিনিসপত্র তৈরি করেন তাদের কুমোর (বা কুম্ভকার) বলে।
১১. এক সময় মানুষ উল্কা খণ্ড থেকেই প্রথম লোহা খুঁজে পেয়েছিল।
১২. শিশু জন্মের পর সাধারণত ৬ মাস পর থেকে দাঁত উঠতে শুরু করে।
১৩. গুহাবাসী আদিম মানুষ রাতে গুহার সামনে আগুন জ্বেলে ঘুমাত।
১৪. চাঁদ হলো আমাদের পৃথিবী গ্রহের একটি উপগ্রহ।
১৫. সজারুর গায়ের কাঁটা হলো মূলত নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য।
১৬. পূর্ণিমা তিথিতে প্রায় সারা রাত আকাশে চাঁদ দেখা যায়।
১৭. থানকুনি পাতার রস আমাদের রক্ত আমাশয় সারাতে পারে।
❖ সঠিক উত্তরটি বেছে লেখো
১. সবচেয়ে তাড়াতাড়ি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে-
উ: গ্যাসীয় পদার্থ।
২. কুকুরকে মানুষ পোষ মানিয়েছিল মূলত-
উ: আত্মরক্ষার জন্য।
৩. নিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীর থেকে বের হয়-
উ: কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস।
৪. একটি পরিচিত পরিযায়ী পাখি হলো-
উ: হুইশলিং টিল।
৫. ইস্পাত তৈরি হয় কোনটি থেকে?
উ: লোহা থেকে।
৬. গ্রাসনালীর শেষে থাকা থলিকে বলে-
উ: পাকস্থলী।
৭. রবীন্দ্রজয়ন্তী উৎসব পালিত হয়-
উ: গ্রীষ্ম ঋতুতে।
৮. ন্যাদোস হলো এক প্রকারের-
উ: মাছ।
৯. পৃথিবীতে যে জায়গায় দিন হয় ঠিক তার উল্টো দিকে হয়-
উ: রাত।
১০. নোনা জলের পাশে জন্মানো একটি গাছ হলো-
উ: সুন্দরী গাছ।
১১. যে তারাটি উত্তর আকাশে সর্বদা স্থির মনে হয় তার নাম-
উ: ধ্রুবতারা।
১২. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের যে জিনিসটি থাকতেই হয় তা হলো-
উ: শিরদাঁড়া।
১৩. তামার সঙ্গে টিন মিশিয়ে তৈরি হয়-
উ: ব্রোঞ্জ (বা কাঁসা)।
১৪. বিকেল বেলা আমাদের ছায়া পড়ে-
উ: পূর্ব দিকে।
১৫. বালুচরী শাড়ীর জন্য বিখ্যাত-
উ: বিষ্ণুপুর।
১৬. বাবুই পাখি নিজের বাসা তৈরি করে-
উ: তাল গাছে।
১৭. নৌকা চালানো, ছাদপেটা, মাছ ধরা ইত্যাদি কাজে গাওয়া হয়-
উ: সারি গান।
❖ ভুল সংশোধন করো
১. মশা, ইঁদুর প্রভৃতিকে সংরক্ষণ করা দরকার।
সঠিক: বাঘ, গণ্ডার প্রভৃতি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের সংরক্ষণ করা দরকার (মশা, ইঁদুর সংরক্ষণ করার প্রয়োজন নেই)।
২. নাইট্রোজেন একটি কঠিন পদার্থ।
সঠিক: নাইট্রোজেন হলো একটি গ্যাসীয় পদার্থ।
৩. মানুষ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে।
সঠিক: একমাত্র সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে (মানুষ খাবারের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল)।
৪. সব কাজে একই পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়।
সঠিক: সব কাজে একই পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয় না; কাজের ধরন অনুযায়ী শক্তির পরিমাণ আলাদা হয়।
৫. শীতকালে সরষের তেল জমে যায়।
সঠিক: শীতকালে ঠান্ডার কারণে নারকেল তেল জমে যায়।
❖ সঠিক সম্পর্ক মেলাও
১. ঝুমুর ➜ সাঁওতাল নৃত্য
২. টয় ট্রেন ➜ দার্জিলিং
৩. ম্যালেরিয়া ➜ মশা
৪. টোটো ➜ উপজাতি
❖ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. কেঁচোকে ছুঁলেই গোল হয়ে গুটিয়ে যায় কিন্তু টিকটিকি গুটোয় না কেন?
কেঁচো হলো একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, এদের শরীরে কোনো হাড় নেই বলে শরীর খুব নরম হয়, তাই ছুঁলেই এরা সহজে গুটিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, টিকটিকি একটি মেরুদণ্ডী প্রাণী, এদের দেহে শক্ত কঙ্কাল ও শিরদাঁড়া থাকার কারণে এরা চাইলেও শরীরকে কেঁচোর মতো গোল করে গোটাতে পারে না।
২. জলদাপাড়া কোন রাজ্যে অবস্থিত? এখানকার বিখ্যাত একশৃঙ্গ জন্তুটির নাম কী?
জলদাপাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত। এখানকার জঙ্গলে থাকা বিখ্যাত একশৃঙ্গ জন্তুটির নাম হলো একশৃঙ্গ গণ্ডার।
৩. কাঁচের গ্লাসে বরফ রাখলে গ্লাসের বাইরে জল জমে কেন?
আমাদের চারপাশের বাতাসে সবসময় প্রচুর জলীয় বাষ্প ভেসে থাকে। গ্লাসে বরফ রাখলে গ্লাসের বাইরের দিক খুব ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন বাতাসের জলীয় বাষ্প ওই ঠান্ডা গ্লাসের সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে জলের ফোঁটায় পরিণত হয় এবং গ্লাসের গায়ে জমা হয়।
৪. বর্জ্য পদার্থ কাকে বলা হয়? দুটি উদাহরণ দাও।
দৈনন্দিন ব্যবহারের পর যেসব অপ্রয়োজনীয় বা অব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র পরিবেশে বাতিল হিসেবে জমা হয়, তাদের বর্জ্য পদার্থ বলে। উদাহরণ: প্লাস্টিকের বোতল এবং আনাজের (সবজির) খোসা।
৫. চাকায় লোহার বেড় লাগানো হয় কেন?
আগেকার দিনে গরুর গাড়ি বা ঘোড়ার গাড়িতে কাঠের চাকা ব্যবহার করা হতো। কাঠের চাকা যাতে সহজে ক্ষয়ে না যায়, মাটিতে লেগে ভেঙে না যায় এবং বেশি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেজন্য চাকার বাইরের দিকে লোহার বেড় বা রিং লাগানো হয়।
৬. ভেষজ উদ্ভিদ কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
যে সমস্ত উদ্ভিদ বা গাছের পাতা, ছাল ও মূল থেকে মানুষের বিভিন্ন রোগের উপশমকারী ওষুধ তৈরি হয় বা সরাসরি রোগ নিরাময়ে কাজ করে, তাদের ভেষজ উদ্ভিদ বলে। উদাহরণ: তুলসী এবং কালমেঘ।
৭. প্রথম দিকে মানুষ কোন কোন ফসল চাষ শুরু করেছিল?
প্রাচীনকালের আদিম মানুষ প্রথম দিকে মূলত গম এবং বার্লি বা যব চাষ শুরু করেছিল।
৮. চোখ ভালো রাখতে কী কী খাবার খাওয়া উচিত?
চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার জন্য ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার প্রচুর খাওয়া উচিত। যেমন: পাকা পেঁপে, গাজর, পাকা আম, সবুজ শাকসবজি (যেমন- পালং শাক) এবং ছোট মাছ।
৯. বর্ষাকালে ভিজে জামাকাপড় তাড়াতাড়ি শুকায় না কেন?
বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অর্থাৎ আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে। বাতাস ভেজা থাকার কারণে জামাকাপড়ের জল সহজে বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশতে পারে না, তাই বর্ষাকালে জামাকাপড় শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগে।
১০. সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকা গ্রহগুলির নাম লেখো। বলয় আছে কোন গ্রহে?
সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকা গ্রহ দুটি হলো বুধ এবং শুক্র। সৌরজগতের শনি গ্রহের চারদিকে সুন্দর বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
১১. হাঁস, মুরগী, পায়রা জাতীয় পাখি পুষে কী উপকার হয়?
হাঁস ও মুরগী পালন করলে আমরা পুষ্টিকর ডিম ও মাংস পাই। আর পায়রা প্রাচীনকালে খবর আদান-প্রদানের কাজে লাগত, তবে বর্তমানে মূলত শখের জন্য পোষা হয়।
১২. হাওয়ার সাহায্যে দুটো জিনিসকে কীভাবে আলাদা করা যায় তা উদাহরণ সহ লেখো।
ওজনে একটি ভারী এবং অন্যটি খুব হালকা—এমন দুটি জিনিসের মিশ্রণকে হাওয়ার সাহায্যে আলাদা করা যায়। একে ‘ঝাড়াই’ পদ্ধতি বলে। উদাহরণ: ধান থেকে হালকা তুষ আলাদা করার জন্য কুলো দিয়ে মিশ্রণটিকে উঁচুতে ধরে হাওয়ার সামনে ধীরে ধীরে ফেলা হয়। তখন হালকা তুষ বাতাসে উড়ে দূরে পড়ে এবং ভারী ধান নিচে সোজা জমা হয়।
১৩. কোন ঋতুতে দিন সবচেয়ে ছোট হয়? তখন কেমন পোশাক পরি?
শীতকালে দিন সবচেয়ে ছোট এবং রাত বড় হয়। এই সময় অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে আমরা গরম বা পশমি (উলের) পোশাক পরি।
১৪. সব সাপ মেরে ফেললে কী হবে?
সব সাপ মেরে ফেললে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হবে। সাপের প্রধান খাদ্য হলো ব্যাঙ, ইঁদুর ও পোকা-মাকড়। সাপ না থাকলে এদের সংখ্যা অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গিয়ে খেতের ফসল ধ্বংস করবে এবং প্লেগের মতো মহামারী ছড়াতে পারে।
১৫. মহাকাশে চাঁদের বুকে প্রথম পা দেন কে? কীভাবে তিনি চাঁদে যান?
মহাকাশে চাঁদের বুকে প্রথম পা দেন মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং। ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘অ্যাপোলো ১১’ (Apollo 11) নামক মহাকাশযানে চড়ে তিনি চাঁদে পাড়ি দিয়েছিলেন।
১৬. খেলাধুলা করার প্রয়োজনীয়তা কী?
খেলাধুলা করলে আমাদের শরীর ও মন উভয়ই সুস্থ ও সতেজ থাকে। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, পেশি ও হাড় শক্ত করে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে আমাদের নিয়মানুবর্তিতা ও দলগত মনোভাব শেখায়।
১৭. প্রশ্ন চিহ্নের মতো দেখতে তারাগুলোকে কী বলে? আকাশে কোন দিকে এদের দেখা যায়?
রাতের আকাশে প্রশ্ন চিহ্নের (?) মতো দেখতে সাতটি তারার ঝাঁককে একত্রে সপ্তর্ষিমণ্ডল বলা হয়। রাতের আকাশে উত্তর দিকে এদের দেখা যায়।
১৮. আদিম মানুষ কী দিয়ে ছবি আঁকত? কোথায় ছবি আঁকত?
আদিম মানুষ বিভিন্ন রঙের পাথর গুঁড়ো করে, চারকোল বা পোড়া কাঠ এবং পশুর রক্ত বা চর্বি মিশিয়ে রং তৈরি করে ছবি আঁকত। তারা সাধারণত দুর্গম পাহাড়ের গুহার ভেতরের পাথুরে দেওয়ালে এই ছবিগুলো আঁকত।
১৯. জলের অপর নাম জীবন কেন?
জল ছাড়া পৃথিবীর কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী এক মুহূর্তও বেঁচে থাকতে পারে না। আমাদের শরীরের অধিকাংশ উপাদানই জল। সমস্ত বিপাকীয় কাজের জন্য জল অপরিহার্য হওয়ায় জলের অপর নাম জীবন।
২০. চাষ শুরু হলে কোন কোন পশু লাঙল টানত?
প্রাচীনকালে মানুষ যখন কৃষিকাজ শুরু করে, তখন প্রধানত গরু এবং বলদ (কিছু অঞ্চলে মহিষ) লাঙল টানার কাজে ব্যবহৃত হতো।
২১. মৌমাছি কোথা থেকে মধু সংগ্রহ করে? কোথায় জমা করে?
মৌমাছি বিভিন্ন ফুল থেকে মকরন্দ বা ফুলের রস সংগ্রহ করে। সংগৃহীত এই মধু তারা তাদের তৈরি মৌচাকে জমা করে।
২২. দার্জিলিং-এ কিসের শিল্প দেখা যায়? কী কী চাষ হয়?
পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিং-এ মূলত চা শিল্প এবং পর্যটন শিল্প দেখা যায়। এখানে প্রধানত উন্নত মানের সুগন্ধি চা, কমলালেবু, সিঙ্কোনা ও এলাচের প্রচুর চাষ হয়।
২৩. তিনটি গৃহপালিত প্রাণীর নাম লেখ। তাদের উপকারিতা কী কী?
তিনটি গৃহপালিত প্রাণী হলো- গরু, ছাগল ও কুকুর। গরু ও ছাগল আমাদের দুধ দেয় এবং চাষের কাজে সাহায্য করে। অন্যদিকে, কুকুর আমাদের বাড়িঘর পাহারা দেয় এবং মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে কাজ করে।
২৪. আদিম মানুষ কীভাবে চাষের কাজ শিখেছিল?
আদিম মানুষ লক্ষ্য করেছিল যে ফল খাওয়ার পর মাটিতে ফেলে দেওয়া বীজ থেকে নতুন গাছের চারা জন্মাচ্ছে। এই প্রাকৃতিক নিয়মটি পর্যবেক্ষণ করেই তারা প্রথম বীজ পুঁতে চাষের কাজ শিখেছিল।
❖ বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. সমাজ বলতে কী বোঝ? মানুষ সামাজিক প্রাণী কেন?
যখন অনেক মানুষ কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে বা মিলেমিশে জীবনযাপনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলে, তখন তাকে সমাজ বলে। মানুষ একা একা বেঁচে থাকতে পারে না। নিজের নানা প্রয়োজন মেটাতে, নিরাপদে থাকতে এবং সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার জন্য মানুষকে একে অপরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার জন্যই মানুষকে সামাজিক প্রাণী বলা হয়।
২. সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ? সংস্কৃতি দিয়ে কীভাবে বিভিন্ন সমাজকে চেনা যায়?
সংস্কৃতি হলো কোনো একটি মানব সমাজের মানুষের চিন্তাভাবনা, আচার-ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ, ভাষা, উৎসব ও জীবনযাপনের সামগ্রিক রূপ। ভিন্ন ভিন্ন সমাজের সংস্কৃতি আলাদা হয়। মানুষের পোশাকের ধরন, উৎসব উদযাপনের রীতি, ভাষা এবং খাদ্যাভ্যাস দেখেই আমরা বুঝতে পারি তারা কোন অঞ্চলের বা কোন সমাজের মানুষ। এভাবে সংস্কৃতির মাধ্যমেই বিভিন্ন সমাজকে আলাদাভাবে চেনা যায়।
৩. জীবিকা কাকে বলে? সব জায়গায় কি এক রকম জীবিকা দেখা যায়? উদাহরণ দাও।
মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে যে কাজ বা পেশা অবলম্বন করে, তাকে জীবিকা বলে। সব জায়গায় এক রকম জীবিকা দেখা যায় না; ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে জীবিকা বদলে যায়। উদাহরণ: নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা সাধারণত মাছ ধরা, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবিকা চা চাষ বা পর্যটন, আর সমভূমি অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা হলো কৃষিকাজ।
৪. বৃষ্টিচক্র বা জলচক্র কাকে বলে?
সূর্যের উত্তাপে নদী, নালা, খাল, বিল ও সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং বাতাসে মিশে ঠান্ডা হয়ে মেঘে পরিণত হয়। পরে সেই মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টির আকারে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। এই বৃষ্টির জল আবার বিভিন্ন জলাশয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে ফিরে যায়। প্রকৃতির এই জল আবর্তনের চক্রাকার প্রক্রিয়াকেই জলচক্র বা বৃষ্টিচক্র বলা হয়।
৫. নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় কেন? নদী আমাদের কী কী উপকার করে?
ভয়াবহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা, নদীর জলকে ধরে রেখে শুষ্ক মরসুমে চাষের কাজে সেচ দেওয়া এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়। নদীর উপকারিতা: নদী থেকে আমরা পানের ও চাষের জল পাই, নদীপথে নৌকায় সহজে যাতায়াত করা যায় এবং নদী থেকে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় যা আমাদের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম।
৬. ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ গানটি কার লেখা? তাঁর সম্বন্ধে ২-৩টি বাক্য লেখ।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ গানটি বিখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট লালন ফকিরের লেখা। তিনি ছিলেন একজন মহান মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি তাঁর গানের মাধ্যমে জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক মানবধর্মের বাণী প্রচার করেছিলেন। তাঁর রচিত গানগুলি বাঙালি লোকসংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
৭. গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য কী?
গ্রহ ও উপগ্রহের মূল পার্থক্যগুলি হলো: গ্রহগুলি নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্য বা নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে, অন্যদিকে উপগ্রহগুলি কোনো নির্দিষ্ট গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে। এছাড়া, আকারের দিক থেকে গ্রহের আকার সাধারণত উপগ্রহের চেয়ে অনেক বড় হয়।
৮. টীকা লেখ: লোক গান
গ্রামীণ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ও যুগ যুগ ধরে চলে আসা মাটির টানে ভরা ঐতিহ্যবাহী গানকেই লোক গান বলে। এই গানে গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ ও সংস্কৃতির ছবি ফুটে ওঠে। যেমন- ভাওয়াইয়া, চটকা, বাউল গান ইত্যাদি হলো লোক গানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৯. টীকা লেখ: আগুন আবিষ্কার
আগুন আবিষ্কার আদিম মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আদিম মানুষ পাথরে পাথর ঘষে বা বনের দাবানল দেখে প্রথম আগুন জ্বালানো শেখে। আগুন ব্যবহারের ফলে মানুষ কাঁচা মাংস পুড়িয়ে খেতে শেখে এবং শীত ও হিংস্র পশুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ হয়।
১০. টীকা লেখ: বড়ো শিল্প
যে সমস্ত শিল্প কারখানায় প্রচুর পরিমাণে মূলধন, উন্নত ও বড় বড় যন্ত্রপাতি এবং বহু সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, তাদের বড়ো শিল্প বলে। যেমন- লোহা-ইস্পাত শিল্প, রেল ইঞ্জিন নির্মাণ শিল্প ইত্যাদি। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড়ো শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম।
১১. পদার্থ কাকে বলে? পদার্থের কয়টি অবস্থা? প্রতিটি অবস্থার একটি করে উদাহরণ দাও।
যার কিছুটা ভর আছে, যা কিছুটা স্থান দখল করে থাকে এবং যা বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে পদার্থ বলে। পদার্থের সাধারণত তিনটি অবস্থা দেখা যায়: কঠিন (যেমন: পাথর বা বরফ), তরল (যেমন: জল বা দুধ) এবং গ্যাসীয় অবস্থা (যেমন: জলীয় বাষ্প বা অক্সিজেন)।

👉 চতুর্থ শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার আমাদের পরিবেশ সাজেশন Part 1 এর জন্য এখানে ক্লিক করুন!

📚 নিয়মিত এই ধরনের কুইজ এবং স্টাডি মেটেরিয়ালস পেতে আমাদের সাথে যুক্ত হোন 👇 Join Now

Eduবাংলা

EduBangla একটি নির্ভরযোগ্য ও সম্পূর্ণ ফ্রি অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম। এখানে স্কুলের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পাঠ্যসামগ্রী পাওয়া যায়। জিকে, জিআই, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর কুইজ, প্রশ্নোত্তর এবং প্র্যাকটিস সেট সাজানো হয়েছে অত্যন্ত সহজ ভাষায়। পাশাপাশি, প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য রয়েছে মোবাইল ও ট্যাব-ফ্রেন্ডলি বিশেষ আকর্ষণীয় কনটেন্ট, যা তাদের শেখাকে করবে আরও আনন্দদায়ক।