Industrial Scenario and Potential in West Bengal for WBPSC IDO

Complete study material on Industrial Scenario and Potential in West Bengal for WBPSC IDO exam. WBPSC IDO পরীক্ষার অধ্যায় ১-এর বিস্তারিত নোটস ও তথ্য বাংলায় পড়ুন।

Industrial Scenario and Potential
Industrial Scenario and Potential

Industrial Scenario and Potential in West Bengal for WBPSC IDO (অধ্যায় ১)

​আসন্ন WBPSC IDO (Industrial Development Officer) পরীক্ষাকে লক্ষ্য রেখে EduBangla-এর পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি মেটেরিয়াল। IDO পরীক্ষার সিলেবাসে থাকা “Industrial Potential in West Bengal & India” অংশটি থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। সেই কথা মাথায় রেখেই আমরা আজ ‘Industrial Scenario and Potential in West Bengal’-এর প্রথম অধ্যায়ের সম্পূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

​এই পোস্টে কী কী রয়েছে এবং এটি কীভাবে উপকারে আসবে?

  • ​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শিল্পের অবনতি: প্রাক-স্বাধীনতা যুগ থেকে শুরু করে দেশভাগ, মাশুল সমীকরণ নীতি এবং লাইসেন্স রাজের ফলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের উত্থান-পতনের সম্পূর্ণ ইতিহাস খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
  • ​সাম্প্রতিক তথ্য ও ডেটা: রাজ্যের বর্তমান অর্থনীতি, MSME পরিকাঠামো এবং ২০২৬ সালের নতুন শিল্পনীতি (West Bengal Investment Promotion Policy, 2026)-এর মতো একদম লেটেস্ট ডেটা এখানে যুক্ত করা হয়েছে।
  • ​প্রশাসনিক মানচিত্র ও জেলা: IDO পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের প্রশাসনিক মানচিত্র এবং নতুন জেলাগুলির বিবরণ সুন্দর ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
  • ​কুইক রিভিশন: পরীক্ষার আগের দিন দ্রুত রিভিশন দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে।

​এই একটি মাত্র পোস্ট থেকে আপনারা WBPSC IDO ছাড়াও WBCS, Clerkship বা Miscellaneous পরীক্ষার অর্থনীতি ও ভূগোলের অনেক প্রশ্নের উত্তর অনায়াসেই করতে পারবেন।

​আগামী দিনে এই বিষয়ের ওপর পরবর্তী অধ্যায়গুলির বিস্তারিত পোস্ট খুব তাড়াতাড়ি আমাদের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা হবে। এছাড়া, আপনাদের প্রস্তুতি কতটা মজবুত হলো তা যাচাই করার জন্য এখান থেকে ফ্রি কুইজ এবং মক টেস্ট-এর ব্যবস্থাও করা হবে, তাই নিয়মিত যুক্ত থাকুন EduBangla-এর সাথে।

WBPSC IDO: Industrial Scenario in West Bengal

Industrial Scenario & Potential in West Bengal (অধ্যায় ১)

১.১ ভূমিকা: শিল্পের পটভূমি ও বর্তমান অর্থনীতি
পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উত্থান-পতন
একসময় পশ্চিমবঙ্গ ছিল সমগ্র ভারতের শিল্প-রাজধানী। ব্রিটিশ শাসনকালে কলকাতাকে কেন্দ্র করে হুগলি নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছিল দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঘন শিল্পাঞ্চল। পাট, ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্ত্র, কাগজ, রাসায়নিক থেকে শুরু করে জাহাজ নির্মাণ—সব আধুনিক শিল্পের হাতেখড়ি এখানেই হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশভাগ (১৯৪৭), মাশুল সমীকরণ নীতি (১৯৫২), লাইসেন্স রাজ, জঙ্গি ট্রেড ইউনিয়ন, বিদ্যুৎ সংকট ও মূলধনের পলায়ন রাজ্যটিকে ক্রমশ শিল্পহীনতার (De-industrialisation) দিকে ঠেলে দেয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে পুনরায় শিল্পায়নের চেষ্টা শুরু হয়, যার সর্বশেষ সংযোজন হলো ‘West Bengal Investment Promotion Policy, 2026’।
এক নজরে: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিল্প-অর্থনীতি (২০২৫-২৬ ডেটা)
GSDP (রাজ্যজ উৎপাদন)প্রায় ১৯.৯১ লক্ষ কোটি টাকা (২০২৫-২৬ অনুমান)
Real GSDP Growth৭.৬২% (জাতীয় গড় ৭.৪%)
Industry Growth (২০২৪-২৫)৭.৩% (জাতীয় গড় ৬.২%)
GSVA-তে Tertiary অংশপ্রায় ৫৯.১% (পরিষেবা খাত সবচেয়ে বড়)
Composite Jute Millদেশের ১২০টির মধ্যে ৪৭টি পশ্চিমবঙ্গে
Unincorporated Enterpriseদেশে সর্বোচ্চ অংশ (১৬.০২%)
BGBS ২০২৫ বিনিয়োগ প্রস্তাব৪,৪০,৫৯৫ কোটি টাকা (২১২টি MoU/LoI)
নতুন শিল্পনীতিWB Investment Promotion Policy 2026 (ঘোষণা: ৫ নভেম্বর ২০২৬)
WBPSC IDO: সিলেবাস ম্যাপিং ও পরীক্ষার কাঠামো
IDO পরীক্ষার General Studies অংশে “Industrial Potential in West Bengal & India” অন্তর্ভুক্ত। এই অধ্যায়টি প্রশাসনিক মানচিত্র, শিল্পের বৈশিষ্ট্য, বর্তমান শিল্প-কাঠামো এবং MSME সেক্টর বিস্তারিতভাবে কভার করে। পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকে (GS-৭৫ এবং অ্যারিথমেটিক-২৫), সময় ৯০ মিনিট এবং কোনো নেগেটিভ মার্কিং থাকে না।
১.২ প্রাক-স্বাধীনতা পর্ব: হুগলি অববাহিকায় শিল্পের বিকাশ
ঔপনিবেশিক পটভূমি ও Agency House
পলাশির যুদ্ধের পর কলকাতা ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। শুরুতে শিল্পের বদলে নীল, রেশম, সুতিবস্ত্র ও আফিমের বাণিজ্যে জোর দেওয়া হতো, যা নিয়ন্ত্রণ করত পামার অ্যান্ড কোং বা আলেকজান্ডার অ্যান্ড কোং-এর মতো এজেন্সি হাউসগুলি। পরবর্তীতে দ্বারকানাথ ঠাকুরের ‘কার, ঠাকুর অ্যান্ড কোং’ (১৮৩৪) এবং ‘বেঙ্গল কোল কোম্পানি’ (১৮৪৩) বাঙালি উদ্যোগের নজির স্থাপন করে। উল্লেখ্য, ভারতে প্রথম কয়লা উত্তোলন শুরু হয় রানিগঞ্জে (১৭৭৪)।
হুগলি শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার অনুকূল কারণ (Locational Factors)
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে বাঁশবেড়িয়া থেকে উলুবেড়িয়া এবং পূর্ব তীরে কল্যাণী থেকে বজবজ পর্যন্ত এই বিশাল শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার মূল কারণগুলি হলো:
১. কাঁচামাল: গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের উর্বর জমিতে প্রচুর কাঁচা পাট উৎপন্ন হতো।
২. জল ও বন্দর: পাট ধোয়ার জন্য হুগলি নদীর মিষ্টি জল এবং কলকাতা বন্দরের (১৮৭০) সুবিধা।
৩. জ্বালানি: নিকটবর্তী রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া খনির কয়লা।
৪. সস্তা শ্রম: বিহার, ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত পরিযায়ী শ্রমিক।
৫. মূলধন: স্কটিশ এবং পরবর্তীতে মারোয়াড়ি পুঁজিপতিদের বিনিয়োগ।
৬. রেলপথ ও রাজধানী: হাওড়া-হুগলি রেলপথ (১৮৫৪) এবং ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতার ভারতের রাজধানী থাকা।
পাট, বস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য শিল্পের ঐতিহাসিক সূচনা
শিল্পের নামঐতিহাসিক তথ্য ও সূচনা
পাট শিল্প (Jute)ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর পাটের চাহিদা বাড়ে। ভারতের প্রথম জুটমিল স্থাপিত হয় রিষড়ায় (১৮৫৫) জর্জ অকল্যান্ডের উদ্যোগে। প্রথম পাওয়ার-লুম জুটমিল হয় বরানগরে (১৮৫৯)। প্রথম ভারতীয় মালিকানার জুটমিল হলো বিড়লা জুট মিলস (১৯১৯)।
বস্ত্র শিল্প (Cotton)ভারতের প্রথম আধুনিক সুতিকল ‘বাউড়িয়া কটন মিল’ (১৮১৮) হাওড়ার ঘুষুড়িতে স্থাপিত হয়। স্বদেশি যুগে শ্রীরামপুরের বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস বিশেষ খ্যাতি পায়।
ইঞ্জিনিয়ারিং ও লৌহহাওড়া ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং হাব। বার্ন অ্যান্ড কোং (১৭৮১), জেসপ (১৭৮৮), বেঙ্গল আইরন ওয়ার্কস কুলটি (১৮৭৫), গার্ডেনরিচ (১৮৮৪) এবং ইস্কো বার্নপুর (১৯১৮) উল্লেখযোগ্য।
অন্যান্য শিল্পবেঙ্গল কেমিক্যাল (১৯০১, প্রফুল্লচন্দ্র রায়), টিটাগড় পেপার মিলস (১৮৮২), এবং বাটানগরের চামড়া শিল্প (১৯৩৪)।
স্বদেশি আন্দোলন (১৯০৫) ও দেশীয় উদ্যোগ
বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক দেয়। এর ফলে বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস, ক্যালকাটা পটারি ওয়ার্কস, বেঙ্গল কেমিক্যাল-এর প্রসার ঘটে এবং দেশীয় ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি গড়ে ওঠে। যদিও সরকারি সহায়তার অভাবে বড় শিল্পের নিয়ন্ত্রণ মূলত ব্রিটিশ ও মারোয়াড়িদের হাতেই থেকে যায়।
১.৩ থেকে ১.৫ স্বাধীনতা-পরবর্তী পর্ব: শিল্প অবক্ষয়ের মূল কারণ
দেশভাগ ও কাঁচামালের সংকট (১৯৪৭)
১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর র‍্যাডক্লিফ লাইন বাংলার শিল্প অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভারতের ১১২টি জুটমিলের মধ্যে ১০২টিই ভারতে থেকে যায়, কিন্তু পাট উৎপাদনের প্রায় ৮১% জমি চলে যায় পূর্ব পাকিস্তানে। ফলস্বরূপ কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে “Grow More Jute” প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে পাট চাষ বাড়ানো হয়। এছাড়া পূর্ববঙ্গের বিশাল বাজার হারানো এবং লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুর আগমনে রাজ্যের অর্থনীতি প্রবল চাপের মুখে পড়ে।
ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে পরিকল্পনা যুগের শিল্পায়ন
মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায় (১৯৪৮-৬২) দেশভাগের ক্ষত সারাতে পরিকল্পিত শিল্পায়নের পথ নেন। তাঁর আমলে দামোদর উপত্যকায় ভারী শিল্প গড়ে ওঠে এবং দুর্গাপুর “ভারতের রূঢ়” হিসেবে পরিচিতি পায়। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পসমূহ:
  • ১৯৪৮: DVC (আমেরিকার TVA মডেলে) এবং হিন্দুস্থান মোটরস (উত্তরপাড়া)।
  • ১৯৫০: চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস (প্রথম ইঞ্জিন “দেশবন্ধু”)।
  • ১৯৫২: হিন্দুস্থান কেবলস (রূপনারায়ণপুর)।
  • ১৯৫৯: দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (ব্রিটিশ সহায়তায়)।
  • ১৯৭৫-৭৭: ফারাক্কা ব্যারেজ, হলদিয়া রিফাইনারি ও ডক কমপ্লেক্স।
মাশুল সমীকরণ নীতি বা Freight Equalisation Policy (১৯৫২-১৯৯৩)
১৯৫২ সালে চালু হওয়া এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল দেশের সর্বত্র সমান দামে কয়লা, লোহা ও সিমেন্ট পৌঁছে দেওয়া। এর ফলে পূর্ব ভারত (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা) তাদের কাঁচামালের নৈকট্যের সুবিধা বা ‘Comparative Advantage’ চিরতরে হারিয়ে ফেলে। কাঁচামাল সস্তা হওয়ায় পুঁজিপতিরা পূর্ব ভারত ছেড়ে মহারাষ্ট্র, গুজরাট বা তামিলনাড়ুর মতো বন্দরের কাছাকাছি রাজ্যে শিল্প স্থাপন শুরু করেন। এটি পূর্ব ভারতের জন্য “Resource Curse” বা অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।
লাইসেন্স রাজ, শ্রমিক আন্দোলন ও শিল্পের অন্যান্য সংকট
নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ‘লাইসেন্স রাজ’ অনেক বিলম্ব ঘটাত (যেমন হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস অনুমোদন পেতে বহু বছর লেগে যায়)। ষাটের দশকে বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলির ‘ঘেরাও’ আন্দোলন ব্যাপক আকার নেয়। পরবর্তীতে তা মালিকপক্ষের ‘লকআউটে’ রূপান্তরিত হয় (২০০১-০৬ সময়ে রাজ্যে ১৫২টি ধর্মঘটের বিপরীতে ২২৬৬টি লকআউট হয়)। পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি (Load-shedding), পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং সিন্থেটিক ব্যাগের কারণে পাটের চাহিদা কমে যাওয়ায় বহু শিল্প রুগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে বিপুল পরিমাণ মূলধন রাজ্য ছেড়ে চলে যায়।
১.৬ শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা (১৯৭৭ – ২০২৬)
বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস পর্বের উদ্যোগ
বামফ্রন্ট আমল (১৯৭৭-২০১১): অপারেশন বর্গা-র (১৯৭৮) মাধ্যমে গ্রামীণ আয় বাড়লেও ভারী শিল্পে খরা ছিল। ১৯৯৪ সালে নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ আহ্বান করা হয়। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এবং সল্টলেক সেক্টর ৫-এর মতো প্রকল্প তৈরি হলেও, সিঙ্গুর (২০০৬, টাটা ন্যানো) ও নন্দীগ্রামের (২০০৭) জমি অধিগ্রহণ নিয়ে হওয়া রাজনৈতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাত শিল্পায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তৃণমূল পর্ব (২০১১-২০২৬): জোর করে জমি অধিগ্রহণ বন্ধ করে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরি করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয় ‘Bengal Global Business Summit’ (BGBS)। মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের (MSME) উপর সবচেয়ে বেশি ফোকাস করা হয়। দেউচা-পাঁচামি কয়লা ব্লক, তাজপুর বন্দর ও ‘শিল্পসাথী’ সিঙ্গেল উইন্ডো পোর্টাল চালু করা হয়।
West Bengal Investment Promotion Policy, 2026
নতুন সরকারের আমলে ৫ই নভেম্বর ২০২৬ সালে এই যুগান্তকারী নীতি ঘোষিত হয়।
  • ফোকাস সেক্টর: ম্যানুফ্যাকচারিং, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি, ক্লিন এনার্জি, ডিফেন্স এবং সেমিকন্ডাক্টর।
  • বিশেষ সুবিধা (Incentives): বিদ্যুৎ মাশুলে ছাড়, কর্মীদের EPF-এ নিয়োগকর্তার অংশে সহায়তা, স্ট্যাম্প ডিউটি মকুব। সমস্ত ইনসেনটিভ কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে (Employment-linked)।
  • জমি ও অনুমোদন: ল্যান্ড পুলিং, বন্ধ কারখানার জমির পুনর্ব্যবহার (যেমন সিঙ্গুর, হিন্দমোটর)। ৩০ দিনের মধ্যে Certificate of Intent প্রদান।
১.৭ ও ১.৮ IDO স্পেশাল: বর্তমান চিত্র, প্রশাসনিক মানচিত্র ও শিল্প-কাঠামো
অর্থনীতির বর্তমান কাঠামো ও সম্ভাবনা
বর্তমান রাজ্য অর্থনীতি মূলত পরিষেবা-প্রধান। GSVA-তে সেবাক্ষেত্রের অবদান প্রায় ৫৯% এবং শিল্পক্ষেত্রের অবদান ২২-২৪%। রাজ্যে বড় কারখানার অভাব থাকলেও ক্ষুদ্র শিল্প বা MSME সেক্টরে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে (Unincorporated Manufacturing Enterprise-এ রাজ্যে অংশ ১৬.০২% যা দেশে সর্বোচ্চ)। সম্পদ হিসেবে কয়লা (দেউচা-পাঁচামি), বন্দর, চা, পাট এবং দক্ষ জনশক্তি রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার মূল ভিত্তি।
পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্য ও নতুন জেলা
রাজ্যের মোট আয়তন ৮৮,৭৫২ বর্গকিমি। মোট ২৩টি জেলাকে ৫টি প্রশাসনিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে: জলপাইগুড়ি, মালদহ, প্রেসিডেন্সি, বর্ধমান ও মেদিনীপুর।

নবগঠিত জেলাসমূহ (IDO পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ):
• আলিপুরদুয়ার (২৫ জুন ২০১৪, জলপাইগুড়ি ভেঙে, ২০তম জেলা)
• কালিম্পং (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, দার্জিলিং ভেঙে)
• ঝাড়গ্রাম (৪ এপ্রিল ২০১৭, পশ্চিম মেদিনীপুর ভেঙে)
• পশ্চিম বর্ধমান (৭ এপ্রিল ২০১৭, বর্ধমান ভেঙে)
* বর্তমানে আরো কয়েকটি নতুন জেলা প্রস্তাবিত রয়েছে, যা গঠিত হলে মোট জেলা ২৮টি হবে।
MSME শ্রেণিবিভাগ (১লা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর)
শিল্পের আকারসর্বোচ্চ বিনিয়োগসর্বোচ্চ টার্নওভার
Micro (অণু শিল্প)২.৫ কোটি টাকা১০ কোটি টাকা
Small (ক্ষুদ্র শিল্প)২৫ কোটি টাকা১০০ কোটি টাকা
Medium (মাঝারি শিল্প)১২৫ কোটি টাকা৫০০ কোটি টাকা
MSME সেক্টরের প্রধান শিল্প ও কেন্দ্র
তাঁত (Handloom)শান্তিপুর, ফুলিয়া (নদিয়া), ধনেখালি (হুগলি), বেগমপুর
রেশম (Silk)মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বিষ্ণুপুর (বালুচরি)
পোশাক ও চামড়ামেটিয়াবুরুজ, হাওড়া, বানতলা, ট্যাংরা (কলকাতা)
ইঞ্জিনিয়ারিং ও ঢালাইহাওড়া, বেলুড়-লিলুয়া, দুর্গাপুর
জরি ও এমব্রয়ডারিহাওড়া (পাঁচলা, উলুবেড়িয়া), দক্ষিণ ২৪ পরগনা
কাঁসা-পিতল ও ডোকরাখাগড়া (মুর্শিদাবাদ), বিষ্ণুপুর, দরিয়াপুর (পূর্ব বর্ধমান)
টেরাকোটা ও মাটির কাজপাঁচমুড়া (বাঁকুড়া), ঘূর্ণি (কৃষ্ণনগর)
১.৯ Quick Revision ও সরকারি স্কিম (MSME Schemes)
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প (কেন্দ্রীয় ও রাজ্য)
• Udyam Registration: ক্ষুদ্র শিল্পের সরকারি রেজিস্ট্রেশন।
• Bhabishyat Credit Card (2023): যুব উদ্যোক্তাদের জন্য রাজ্য সরকারের বিশেষ ঋণ প্রকল্প।
• WB Incentive Scheme 2026 (MSME): নতুন উৎপাদনমুখী MSME-র জন্য সুদ ও বিদ্যুৎ ভর্তুকি।
• Silpa Sathi: ব্যবসার অনুমোদনের জন্য রাজ্যের সিঙ্গেল-উইন্ডো ব্যবস্থা।
• CGTMSE & PM Vishwakarma: জামানতবিহীন ঋণ ও কারিগরদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রথম’ তথ্য (Quick Facts)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়উত্তর / সাল / স্থান
ভারতের প্রথম কয়লাখনিরানিগঞ্জ (১৭৭৪)
ভারতের প্রথম আধুনিক সুতিকলবাউড়িয়া কটন মিল, হাওড়া (১৮১৮)
পূর্ব ভারতের প্রথম রেলপথহাওড়া থেকে হুগলি (১৫ আগস্ট ১৮৫৪)
ভারতের প্রথম জুটমিলরিষড়া (১৮৫৫) – জর্জ অকল্যান্ড
প্রথম পাওয়ার-লুম জুটমিলবরানগর (১৮৫৯)
প্রথম ভারতীয় মালিকানার জুটমিলবিড়লা জুট মিলস (১৯১৯)
ভারতের প্রথম ওষুধ কোম্পানিবেঙ্গল কেমিক্যালস (১৯০১) – প্রফুল্লচন্দ্র রায়
“ভারতের রূঢ়” (Ruhr of India)দুর্গাপুর / দামোদর উপত্যকা
DVC কোন মডেলে তৈরি?আমেরিকার টেনিসি ভ্যালি (TVA)
মাশুল সমীকরণ নীতি কবে চালু ছিল?১৯৫২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত
ম্যানেজিং এজেন্সি প্রথার বিলোপ৩ এপ্রিল ১৯৭০
রাজ্যের প্রথম শিল্পনীতি বিবৃতি১৯৯৪
সিঙ্গুর থেকে টাটার প্রস্থান২০০৮ (গুজরাটের সানন্দে স্থানান্তর)
প্রথম BGBS অনুষ্ঠিত হয়২০১৫
নতুন বিনিয়োগ নীতিInvestment Promotion Policy 2026

📚 নিয়মিত এই ধরনের কুইজ এবং স্টাডি মেটেরিয়ালস পেতে আমাদের সাথে যুক্ত হোন 👇 Join Now

Mriganka Pan

I am Mriganka Pan, an educator with nearly 20 years of experience. Through 'EduBangla', I regularly share expert quizzes, practice sets, and study guides to help students and job aspirants ace their exams. Currently, I serve as a government primary school teacher.

Join Group