Class 4 Britti Pariksha Bengali Suggestion: পশ্চিমবঙ্গ চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের বিভিন্ন কবিতা ও গল্প থেকে বাছাই করা ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর। পরীক্ষায় সেরাদের সেরা হতে আজই এই প্রশ্নগুলি অনুশীলন করো।

ছোট্ট বন্ধুদের জানাই অনেক অনেক ভালোবাসা! সামনেই তোমাদের চতুর্থ শ্রেণির প্রাথমিক শেষ পরীক্ষা বা বৃত্তি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে বৃত্তি পাওয়ার জন্য সব বিষয়ের মতো বাংলা বিষয়টিতেও খুব মন দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
তোমাদের পড়াশোনার সুবিধার্থে, আজ আমরা পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন পদ্য (কবিতা) এবং গদ্য থেকে বাছাই করা ২৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও তার আদর্শ উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। উত্তরগুলি এমনভাবে লেখা হয়েছে যাতে পরীক্ষায় লিখলে তোমরা সম্পূর্ণ নম্বর পাও। চলো, দেরি না করে প্রশ্ন ও উত্তরগুলি ভালো করে পড়ে নেওয়া যাক।
বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব – ২)
১. প্রশ্ন: “মানুষ হইতে হবে, মানুষ যখন।” কবি কে? তিনি কোন্ বিখ্যাত কবির মা? এই কবিতায় কবি আমাদের দেশের ছেলেদের কাছে কী প্রত্যাশা করেন?
উত্তর: * কবি: ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটির কবি হলেন কুসুমকুমারী দাশ।
- বিখ্যাত কবির মা: তিনি বাংলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের মা।
- প্রত্যাশা: কবি প্রত্যাশা করেন যে, আমাদের দেশের ছেলেরা কেবল বড়ো বড়ো কথায় নয়, বরং তাদের সৎ কাজে বড়ো হবে। তাদের মুখে সর্বদা হাসি, বুকে প্রবল সাহস এবং তেজস্বী মন থাকবে।
২. প্রশ্ন: “চৌপর দিন-ভোর দ্যায় দূর – পাল্লা।”- কবি কে? কে দূর পাল্লা দেয়? ‘চৌপর’ শব্দের অর্থ কী? নৌকাতে কতজন মাঝি ছিল?
উত্তর: * কবি: এটি ছন্দের জাদুকর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘দূরের পাল্লা’ কবিতার অংশ।
- কে দূর পাল্লা দেয়: ছিপখান বা দ্রুতগামী নৌকো নিয়ে মাঝিরা দূর পাল্লা দেয়।
- শব্দার্থ: ‘চৌপর’ শব্দের অর্থ হলো চার প্রহর অর্থাৎ সারাদিন ও রাত।
- মাঝির সংখ্যা: নৌকাতে মোট তিনজন মাঝি ছিল।
৩. প্রশ্ন: “আল্লা মেঘ দে পানি দে ছায়া দেরে তুই।।”- এই কবিতার কবি কে? কারা, কেন এই প্রার্থনা করছে?
উত্তর: * কবি: এটি বাংলার একটি প্রচলিত লোকগীতি বা ‘বৃষ্টির গান’, যা মূলত লোককবিদের দ্বারা মুখে মুখে রচিত।
- কারা ও কেন: গ্রামের সাধারণ কৃষিজীবী মানুষ এই প্রার্থনা করছে। দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে মাঠের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছিল, নদী-নালা শুকিয়ে চৌচির হয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। তাই খরা থেকে মুক্তি পেতে এবং বৃষ্টির আশায় তারা ঈশ্বরের কাছে এই আকুল প্রার্থনা করছে।
৪. প্রশ্ন: “ওগো নেয়ে, নাওখানি বাইয়ো।”- ‘নেয়ে’ শব্দের অর্থ কী? কোন্ অবস্থায় নাওখানি বাওয়া হচ্ছে? কবি নেয়েকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি নিজে কী সহায়তা করবেন বলে জানাচ্ছেন?
উত্তর: * নেয়ে শব্দের অর্থ: ‘নেয়ে’ শব্দের অর্থ হলো মাঝি বা নৌকার চালক।
- কোন্ অবস্থায়: খরবায়ু বা প্রবল বেগে বাতাস বইছে এবং চারদিক কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে আছে, এমন দুর্যোগপূর্ণ ও উত্তাল অবস্থায় নাওখানি বাওয়া হচ্ছে।
- নির্দেশ: কবি নেয়েকে শক্ত করে বা কষে নৌকার হাল ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন।
- সহায়তা: তিনি নিজে নৌকার পাল তুলে বেঁধে মাঝিকে সহায়তা করবেন বলে জানাচ্ছেন।
৫. প্রশ্ন: “যত দূরে-ই যেখানে যাই নাকো সারা লাইন শুধু আমার একার।”- কবি কে? কোন্ কবিতার অংশ? এর মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: * কবি ও কবিতা: এটি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘মালগাড়ি’ কবিতার অংশ।
- কবির বক্তব্য: প্যাসেঞ্জার বা মেল ট্রেনের মতো মালগাড়ির গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়ের তাড়া থাকে না। তাকে লাইন ক্লিয়ার করে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর জন্য ছুটতে হয় না। সে নিজের খেয়ালে, শান্তিতে তার লাইনে এগিয়ে চলে। এর মধ্যে দিয়ে কবি মালগাড়ির স্বাধীন ও বাধাহীন চলার আনন্দকে বুঝিয়েছেন।
৬. প্রশ্ন: “ঘাস তো আমার মা-ও খায় সে তোমার মতো এত বড়ো হয়নি।”- কোন রচনার অংশ? লেখক কে? কে কাকে এই কথাটি বলেছিল? কেন বা বলেছিল? বক্তা কী উত্তর পেল? তারপর কী সিদ্ধান্ত হল?
উত্তর: * রচনা ও লেখক: এটি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা ‘নরহরি দাস’ গল্পের অংশ।
- বক্তা ও শ্রোতা: একটি ছোটো ছাগলছানা বনের এক বিরাট ষাঁড়কে এই কথাটি বলেছিল।
- কারণ: ছাগলছানা এর আগে এত বড়ো জন্তু দেখেনি। ষাঁড়কে ঘাস খেতে দেখে সে ভেবেছিল ষাঁড়ও বুঝি তারই মতো কোনো ছাগল, তাই সে অবাক হয়ে এ কথা বলেছিল।
- উত্তর ও সিদ্ধান্ত: ষাঁড় উত্তর দিয়েছিল, “আমি তো ঘাস খাই না, আমি বনের লতাপাতা খাই।” এরপর ছাগলছানাটি ভালো খাবার খাওয়ার আশায় ষাঁড়ের সঙ্গে বনের ভেতর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
৭. প্রশ্ন: “সিংহের মামা আমি নরহরি দাস” উদ্ধৃত কথাগুলি কোন গল্পের অংশ? লেখক কে? নরহরি দাস আসলে কে? সে কাকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল? শেষপর্যন্ত বাঘ ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল কেন?
উত্তর: * গল্প ও লেখক: উদ্ধৃত কথাগুলি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা ‘নরহরি দাস’ গল্পের অংশ।
- নরহরি দাসের পরিচয়: নরহরি দাস আসলে একটি ছোটো বুদ্ধিমান ছাগলছানা।
- কাকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল: সে গর্তের ভেতর লুকিয়ে থেকে শিয়ালকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল।
- বাঘের পালানোর কারণ: শিয়ালকে ভয় পেতে দেখে বাঘ নিজের লেজের সঙ্গে শিয়ালের লেজ বেঁধে গর্তের কাছে এসেছিল। কিন্তু ছাগলছানাটি তখন বুদ্ধি করে এমন কথা বলে যা শুনে শিয়াল ভাবে বাঘ তাকে ছাগলছানার কাছে প্রতারণা করে নিয়ে এসেছে। শিয়াল ভয়ে প্রাণপণে ছুট দিলে, বাঘও মাটিতে আছাড় খেয়ে, কাঁটায় ছড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।
৮. প্রশ্ন: “তোমাকে দেখছি এবার লোহার বালা গড়িয়ে দিতে হবে।” উদ্ধৃত অংশটি কোন গদ্যের অংশ? এর লেখক কে? কে কাকে এই কথা বলেছিল? কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: * গদ্য ও লেখক: এটি পূর্ণলতা চক্রবর্তীর লেখা ‘ছেলেবেলার দিনগুলি’ গদ্যের অংশ।
- বক্তা ও শ্রোতা: লেখিকার মা বা বাড়ির বড়োরা লেখিকাকে বা তাঁর বোনকে এই কথা বলেছিলেন।
- প্রেক্ষাপট: ছেলেবেলায় চোর-পুলিশ বা অন্য কোনো দুরন্তপনার খেলা খেলার সময় কাঁচের চুড়ি ভেঙে যাওয়ার কারণে, স্নেহের বকা হিসেবে এই মন্তব্যটি করা হয়েছিল।
৯. প্রশ্ন: লুশাই পাহাড়ের বিস্তার কতখানি জায়গা নিয়ে? কেন পাহাড়কে ভয়ঙ্কর জায়গা বলা হয়েছে? কারা সেই পাহাড়ে গিয়েছিল? রাতে কোথায় তাঁবু খাটানো হয়েছিল? ঐ রাতে বুনো হাতীদের কীভাবে তাড়ানো হয়েছিল?
উত্তর: * বিস্তার: প্রমদারঞ্জন রায়ের ‘বনের খবর’ রচনা অনুযায়ী লুসাই পাহাড়ের বিস্তার প্রায় ছয়শো থেকে সাতশো বর্গমাইল জায়গা জুড়ে।
- ভয়ংকর জায়গা: জায়গাটি ভয়ংকর কারণ সেখানে কোনো মানুষের বসতি নেই, কেবল গহীন জঙ্গল এবং হিংস্র বন্য জন্তুদের রাজত্ব।
- কারা গিয়েছিল: লেখক নিজে, হাতির মাহুতরা এবং কুলিরা বনের ভেতর সেই পাহাড়ে গিয়েছিল।
- তাঁবু: পাহাড়ের নীচে এক নদীর ধারে ফাঁকা জায়গায় রাতে তাঁবু খাটানো হয়েছিল।
- হাতি তাড়ানো: লোকেরা মশাল জ্বেলে, কুলিরা টিন বাজিয়ে ও চেঁচামেচি করে বুনো হাতিগুলোকে তাড়িয়েছিল।
১০. প্রশ্ন: “ভাত হয়ে গেলে মাটির কড়াইতে মাছের ঝোল রাঁধে।”- উদ্ধৃত অংশটি কোন গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে? রাঁধার কাজটি কে করেছিল? কী চালের ভাত হল? কোথা থেকে মাছ কেনা হয়েছিল? কোথায় রান্না করা হয়েছিল? কীসের থালায় তারা ভাত খেয়েছিল? খাওয়ার পর কী কী জিনিস ধুয়ে তারা কোথায় রেখেছিল?
উত্তর: * গল্প: এটি পূর্ণলতা চক্রবর্তীর লেখা ‘ছেলেবেলার দিনগুলি’ গদ্য থেকে নেওয়া হয়েছে।
- রান্না ও উপকরণ: রাঁধার কাজটি করেছিল লেখিকাদের পুতুল খেলার সঙ্গীরা। মিছিমিছি খেলার রান্নায় ধুলো বা বালিকে চাল ধরে ভাত রান্না করা হয়েছিল এবং গাছের পাতা বা টুকরো জিনিসকে মাছ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল।
- স্থান ও থালা: রান্নাটি বাড়ির ছাদে বা সিঁড়ির ঘরের এক কোণে করা হয়েছিল। তারা ভাঙা হাঁড়ির টুকরো বা খোলামকুচির তৈরি থালায় ভাত খেয়েছিল।
- খাওয়ার পর: খেলা শেষে তারা ধুলোবালি সব ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে জায়গাটি আগের মতো গুছিয়ে রেখেছিল।
১১. প্রশ্ন: “মাটির কাছে সহিষ্ণুতা / পেলাম আমি শিক্ষা” কার লেখা? কবি কী বলতে চেয়েছেন? কোন কবিতার অংশ?
উত্তর: * কবি ও কবিতা: এটি কবি সুনির্মল বসুর লেখা ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতার অংশ।
- কবির বক্তব্য: মাটি যেমন নীরবে সব মানুষের অত্যাচার ও পদচিহ্ন হাসিমুখে সহ্য করে, কবি বলতে চেয়েছেন আমাদেরও মাটির মতো সব কিছু সহ্য করার ক্ষমতা বা সহিষ্ণুতা অর্জন করা উচিত।
১২. প্রশ্ন: “আল্লা মেঘ দে পানি দে ছায়া দে রে তুই।” কোন কবিতার অংশ? পানির অভাবে কোন্ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল?
উত্তর: * কবিতা: এটি প্রচলিত ‘বৃষ্টির গান’ নামক লোকগীতি কবিতার অংশ।
- পরিস্থিতি: পানির বা বৃষ্টির অভাবে গ্রামের মাঠ-ঘাট শুকিয়ে চৌচির হয়ে গিয়েছিল, রোদের তেজে ফসল নষ্ট হচ্ছিল, নদীর জল শুকিয়ে গিয়েছিল এবং পশুপাখি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
১৩. প্রশ্ন: “সত্যি চাওয়া”- কবিতাটি কার লেখা? এখানে ‘তোরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তারা সত্যি চাইলে কী কী হতে পারে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: * কবি: কবিতাটি কবি জয় গোস্বামীর লেখা।
- ‘তোরা’ বলতে: এখানে ‘তোরা’ বলতে ছোটো ছোটো শিশুদের বা কচিকাঁচাদের বোঝানো হয়েছে।
- কী কী হতে পারে: কবি মনে করেন, শিশুরা যদি মন থেকে সত্যি করে কিছু চায়, তবে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে। তাদের চাওয়াতে মেঘেরা নীচে নেমে আসতে পারে, প্রজাপতিরা তাদের ডানা থেকে রং ছড়িয়ে দিতে পারে এবং শুকনো গাছে নতুন পাতা গজিয়ে চারদিক পুনরায় সবুজ হয়ে উঠতে পারে।
১৪. প্রশ্ন: “চৌপর দিনভোর দ্যায় দূর পাল্লা”- কবির নাম কী? কে দূর পাল্লা দেয়? কবিতায় ‘চৌপর’ ও ‘পাল্লা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: * কবি: কবির নাম সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (কবিতা: ‘দূরের পাল্লা’)।
- কে দূর পাল্লা দেয়: ছিপখান বা দ্রুতগামী নৌকো নিয়ে তিনজন মাঝি দূর পাল্লা দেয়।
- শব্দার্থ: ‘চৌপর’ অর্থ হলো চার প্রহর অর্থাৎ সারাদিন ও রাত। আর ‘পাল্লা’ অর্থ হলো প্রতিযোগিতা করা বা বহুদূরের পথ অতিক্রম করা।
১৫. প্রশ্ন: “এক লাইনে সবাই বসে করল খাওয়া শুরু”- কবি কে? এক লাইনে বসে কী কী খাওয়া হল? খাওয়া শেষে কী হল?
উত্তর: * কবি: এই কবিতার কবি হলেন গোলাম মোস্তফা (কবিতার নাম ‘বনভোজন’)।
- কী কী খাওয়া হল: ছোটো ছেলেমেয়েরা রান্নাবাটি খেলার সময় এক লাইনে বসে মিছিমিছি ধুলো-বালি, কাদা আর জলের তৈরি পোলাও, কোরমা এবং পিঠে খেয়েছিল।
- খাওয়া শেষে: খাওয়া শেষে সবাই আনন্দে একবাক্যে বলে উঠেছিল, “বেজায় মিঠে” অর্থাৎ খাবারটি খুব সুস্বাদু ও মিষ্টি হয়েছে।
১৬. প্রশ্ন: “জ্যোতি ততক্ষণে উঠে বসেছে ঘোড়ার পিঠে”- কোন রচনার অংশ? লেখক কে? জ্যোতির প্রকৃত নাম কী? উদ্ধৃতিটি কোন প্রসঙ্গে করা হয়েছে? এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চরিত্রটির কোন দিকটি উজ্জ্বল হয়? জ্যোতি ঘোড়ার পিঠে ওঠার পর কী হয়?
উত্তর: * রচনা ও লেখক: এটি পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘বাঘাযতীন’ রচনার অংশ।
- প্রকৃত নাম: জ্যোতির প্রকৃত নাম যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
- প্রসঙ্গ ও চরিত্র: রাস্তা দিয়ে একটি ক্ষ্যাপা ঘোড়া ছুটে যাওয়ার সময় জ্যোতি নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সাহসের সঙ্গে তার পিঠে লাফ দিয়ে উঠে তাকে শান্ত করার প্রসঙ্গে এটি বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জ্যোতির অসীম সাহস, তৎপরতা ও বীরত্বের দিকটি উজ্জ্বল হয়।
- ঘোড়ার পিঠে ওঠার পর: জ্যোতি ঘোড়ার পিঠে ওঠার পর ঘোড়াটি কিছুদূর ছুটে গিয়ে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।
১৭. প্রশ্ন: “যখন এতটুকুটি ছিলি বাপ মা তোর বিদেশ গেল”- কোন রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে? রচনাকার কে? কে, কার সম্পর্কে কথাগুলি বলেছেন? কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কথাগুলি বলা হয়েছে?
উত্তর: * রচনা ও রচনাকার: এটি লীলা মজুমদারের লেখা ‘আলো’ নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে।
- বক্তা ও উদ্দেশ্য: পিসিমা বারো বছর বয়সী কিশোর চরিত্র শম্ভুর সম্পর্কে এই কথাগুলি বলেছেন।
- প্রেক্ষাপট: দাদামশাইয়ের হাড় ভাঙার ব্যথা সারানোর জন্য শম্ভুকে রাতে সুসনি পাহাড় থেকে ওষুধ আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শম্ভু অন্ধকার রাতে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছিল। তার এই ভীরুতা দেখে পিসিমা বিরক্তি ও অভিমান করে কথাগুলি বলেছিলেন।
১৮. প্রশ্ন: “বোতোর দেখা পাওয়া নাকি সব সময়েই ভালো” – বক্তা কে? কার লেখা এবং কোন গদ্যের অংশ? বক্তা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল? বোতো কাদের রক্ষা করে? বোতোর চেহারার বর্ণনা দাও।
উত্তর: * বক্তা, লেখক ও রচনা: বক্তা হলেন কথক নিজে। এটি অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর লেখা ‘অ্যামাজনের জঙ্গলে’ গল্পের অংশ।
- কোথায় হারিয়েছিল: বক্তা অ্যামাজনের গভীর জঙ্গলে দিকভ্রান্ত হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
- কাদের রক্ষা করে: স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস, বোতো জলে ডুবে যাওয়া বা বিপদগ্রস্ত মানুষদের রক্ষা করে।
- চেহারার বর্ণনা: বোতোর চেহারা অনেকটা ডলফিনের মতো, ঠোঁট বা নাক বেশ লম্বাটে এবং মাথার উপর দিকে একটি গর্ত থাকে যা দিয়ে সে জলের উপরে ভেসে শ্বাস নেয়।
১৯. প্রশ্ন: “ধলেশ্বরী আইলো নাকি ও-ও মাঝি ভাই?” কোন রচনার অংশ? কার লেখা? ধলেশ্বরী এসেছে শুনে বক্তা কী করেছিলেন? অন্যান্যদের আচরণ কেমন ছিল? ধলেশ্বরী সম্পর্কে আতঙ্কের কারণ কী? কখন সকলে নিশ্চিন্ত হল?
উত্তর: * রচনা ও লেখা: এটি রানী চন্দের লেখা ‘আমার মার বাপের বাড়ি’ রচনার অংশ।
- বক্তার কাজ: ধলেশ্বরী নদী এসেছে শুনে মাঝিরা তাড়াতাড়ি নৌকার পাল নামিয়ে ফেলেছিলেন এবং শক্ত করে হাল ধরেছিলেন।
- অন্যান্যদের আচরণ: নৌকার অন্যান্য যাত্রীরা ভয়ে ও আতঙ্কে চুপ হয়ে গিয়েছিল এবং শক্ত করে নৌকার পাটাতন আঁকড়ে ধরে বসেছিল।
- আতঙ্কের কারণ: ধলেশ্বরী অত্যন্ত খ্যাপাটে নদী। তার চলার নির্দিষ্ট কোনো ছন্দ নেই, এলোমেলোভাবে যেকোনো দিক থেকে ভয়ংকর ঢেউ এসে নৌকা ডুবিয়ে দিতে পারে—এই জন্যই ধলেশ্বরী সম্পর্কে এত আতঙ্ক।
- নিশ্চিন্ত হওয়া: যখন ধলেশ্বরীর বিপজ্জনক ও উত্তাল অংশ পার হয়ে নৌকা শান্ত জলে এসে পৌঁছোল, তখন সকলে নিশ্চিন্ত হল।
২০. প্রশ্ন: “গত একমাস আমরা যে কষ্ট পেয়েছি, আমি ভাবতে পারি না কোনো মানুষ কোনোদিন সে কষ্ট সহ্য করেছে কিনা।”- উদ্ধৃত অংশটি কার লেখা এবং কোন গদ্যের অংশ? ‘আমরা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? কিসের জন্যে তাঁরা এই কষ্ট স্বীকার করেছেন? তাঁদের কষ্টের বর্ণনা দাও।
উত্তর: * লেখা ও গদ্য: এটি নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘দক্ষিণ মেরু অভিযান’ রচনার অংশ।
- ‘আমরা’ বলতে: এখানে ‘আমরা’ বলতে ক্যাপ্টেন রবার্ট ফ্যালকন স্কট এবং তাঁর সঙ্গীদের কথা বলা হয়েছে।
- কিসের জন্য: দক্ষিণ মেরু আবিষ্কারের অদম্য ইচ্ছা এবং মাতৃভূমির গৌরবের জন্যে তাঁরা এই অমানবিক কষ্ট স্বীকার করেছেন।
- কষ্টের বর্ণনা: ফেরার পথে তাঁরা ভয়ংকর তুষারঝড় বা ব্লিজার্ডের মুখে পড়েন। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমে গিয়েছিল, খাবার ও জ্বালানি ফুরিয়ে এসেছিল এবং পথ হারিয়ে তাঁরা জমে যাওয়া ঠান্ডায় চরম মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছিলেন।
২১. প্রশ্ন: “আমার জন্যে সব রাস্তাই খোলা আসতে যেতে কোথাও নেই মানা।” – কোন কবিতার অংশ? কবির নাম কী? পংক্তি দুটির অর্থ লেখো।
উত্তর: * কবিতা ও কবি: এটি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘মালগাড়ি’ কবিতার অংশ।
- অর্থ: মালগাড়ির যাওয়ার জন্য প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মতো কোনো নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা সময়ের তাড়া থাকে না। তার জন্য সিগন্যাল বন্ধ থাকে না বা তাকে কারও জন্য অপেক্ষা করতে হয় না, সে যেকোনো পথে নিজের স্বাধীন মতো নিশ্চিন্তে চলতে পারে।
২২. প্রশ্ন: “ইচ্ছে করে পাহারওলা হয়ে গলির ধারে আপন মনে জাগি।” -কার এই ইচ্ছে জাগে? তার আর কী কী হবার ইচ্ছে জাগে?
উত্তর: * কার ইচ্ছে: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘বিচিত্র সাধ’ কবিতায় একটি ছোটো ছেলের মনে এই ইচ্ছে জাগে।
- অন্যান্য ইচ্ছে: পাহারাদার হওয়া ছাড়াও তার স্বাধীনভাবে চুড়িওয়ালা বা ফেরিওয়ালা হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর এবং মালী হয়ে বাগানে মাটি কোপানোর ইচ্ছে জাগে।
২৩. প্রশ্ন: ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি কার লেখা? কবি আমাদের দেশের ছেলেদের কাছে কী প্রত্যাশা করেন? প্রত্যেক দেশবাসীর কী প্রতিজ্ঞা করা উচিত?
উত্তর: * কবি: ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি কবি কুসুমকুমারী দাশের লেখা।
- প্রত্যাশা: কবি প্রত্যাশা করেন যে, আমাদের দেশের ছেলেরা শুধু বড়ো বড়ো কথায় নয়, বরং তাদের সৎ কাজে বড়ো হবে। তাদের মুখে সর্বদা হাসি, বুকে বল এবং তেজস্বী মন থাকবে।
- প্রতিজ্ঞা: দেশের মানুষের কল্যাণে প্রত্যেক দেশবাসীর কায়মনোবাক্যে এই প্রতিজ্ঞা করা উচিত যে— “মানুষ হইতে হবে, মানুষ যখন।”
২৪. প্রশ্ন: কবি কাজী নজরুল ইসলাম কীভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে বাণিজ্য করতে চান? তিনি দেশে দেশে বাণিজ্য করে কী কী করতে চান?
উত্তর: * কীভাবে বাণিজ্য করতে চান: কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘আমি সাগর পাড়ি দেব’ কবিতায় ময়ূরপঙ্খী বজরা বা জাহাজ ভাসিয়ে, একজন নির্ভীক ও দুঃসাহসী সওদাগর হয়ে সাত সাগর পাড়ি দিয়ে বাণিজ্য করতে চান।
- কী করতে চান: তিনি দেশ-বিদেশের প্রচুর ধনরত্ন ও সম্পদ নিয়ে এসে তার দেশমাতৃকার (দুঃখিনী মায়ের) দারিদ্র্য ও দুঃখ ঘোচাতে চান।
২৫. প্রশ্ন: “ইচ্ছে করে সেলেট ফেলে দিয়ে অমনি করে বেড়াই নিয়ে ফেরি।”- কোন কবিতার অংশ? কার লেখা? তার কী কী হতে ইচ্ছে করে?
উত্তর: * কবিতা ও কবি: এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘বিচিত্র সাধ’ কবিতার অংশ।
- কী কী হতে ইচ্ছে করে: ছোটো ছেলেটির স্লেট ফেলে দিয়ে স্বাধীনভাবে চুড়িওয়ালা বা ফেরিওয়ালা হতে ইচ্ছে করে। এছাড়াও তার মালী হয়ে বাগানে মাটি কোপাতে এবং রাতের বেলা পাহারাদার হয়ে গলির ধারে আপন মনে জেগে থাকতে ইচ্ছে করে।
Conclusion:
আশা করি, চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বিষয়ের এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি তোমাদের প্রস্তুতিতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। বাংলার পাশাপাশি পরিবেশ বিজ্ঞান, অঙ্ক এবং অন্যান্য বিষয়ের মক টেস্ট, ক্যুইজ ও চ্যাপ্টার অনুযায়ী প্রশ্ন-উত্তর পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলি অবশ্যই লক্ষ্য রেখো। তোমার বন্ধুদের সাথেও এই পোস্টটি শেয়ার করে নিতে ভুলো না! সবার পরীক্ষার জন্য রইল অনেক শুভকামনা।
চতুর্থ শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার বাংলা প্রশ্ন উত্তরের আরেকটি পোষ্টের জন্য নিচে ক্লিক করো
👇👇👇👇👇👇
চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা গদ্য প্রশ্ন উত্তর, Class 4 Britti Pariksha Bengali Prose Suggestion

