NASA Lucy spacecraft: টাইমস অফ ইন্ডিয়া এবং নাসা-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে নাসার মহাকাশযান ‘লুসি’। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করার পর দীর্ঘ ৫ বছরে প্রায় ২২০ কোটি মাইল (২.২ বিলিয়ন মাইল) পথ অতিক্রম করে লুসি এখন বৃহস্পতি গ্রহের সামনের দিকের ‘ট্রোজান’ গ্রহাণু অঞ্চলে (ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট-৪ বা L4) প্রবেশ করেছে। মানব ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মহাকাশযান এই অজানা অঞ্চলে পৌঁছাতে সক্ষম হলো।

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির কক্ষপথে মূলত দুটি বিশাল গ্রহাণুর ঝাঁক রয়েছে, যাদের একত্রে ট্রোজান গ্রহাণু বলা হয়। এর মধ্যে একটি ঝাঁক গ্রহটির সামনে (L4) এবং অপরটি ঠিক পিছনে (L5) একই কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহাণুগুলো হলো প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে আমাদের সৌরজগৎ সৃষ্টির সময়কার আদিম অবশিষ্টাংশ। এদের গঠন ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সৌরজগতের জন্মরহস্য এবং গ্রহগুলোর বর্তমান অবস্থানে আসার কারণ সম্পর্কে বহু অজানা তথ্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
লুসি তার যাত্রাপথে ইতিমধ্যেই মূল গ্রহাণু বেষ্টনীর ‘ডিঙ্কিনেশ’ (২০২৩) এবং ‘ডোনাল্ডজোহানসন’ (২০২৫)-এর কাছ থেকে সফলভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ডিঙ্কিনেশ পর্যবেক্ষণের সময় যানটি ‘সেলাম’ নামের একটি ক্ষুদ্র উপগ্রহও আবিষ্কার করেছিল। আগামী ২০২৭ সালের ১১ আগস্ট যানটি ট্রোজান বলয়ের ‘ইউরিবেটস’ গ্রহাণুর খুব কাছাকাছি পৌঁছাবে। এরপর ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে এটি পলিমেলে, লিউকাস এবং ওরাস নামক আরও তিনটি গ্রহাণু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
সামনের দিকের এই গ্রহাণুগুলোতে অনুসন্ধান চালানোর পর, ২০৩০ সালে লুসি পুনরায় পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এরপর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে যানটি ২০৩৩ সালের মার্চ মাসে বৃহস্পতির পিছনের দিকের ট্রোজান বলয়ে (L5) পৌঁছাবে এবং সেখানকার ‘প্যাট্রোক্লাস’ ও ‘মেনোয়েটিয়াস’ গ্রহাণু দুটি নিয়ে তার চূড়ান্ত গবেষণা চালাবে।
আরো পড়ুনঃ মহাকাশে আত্মনির্ভর ভারত: ISRO NVS-03 Satellite Launch Successful এবং NavIC-এর নতুন যুগ

