চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছ? ‘আমাদের পরিবেশ’ বিষয়ের আরও ৪০টি নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পেতে Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 2 আজই অনুশীলন করো।
আসন্ন চতুর্থ শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবং স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমরা নিয়ে এসেছি ‘আমাদের পরিবেশ’ (Amader Paribesh) সাজেশনের দ্বিতীয় পর্ব। আগের পর্বে আমরা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা করেছিলাম, যা ছাত্রছাত্রীদের দারুণ উপকারে এসেছে।

পরীক্ষায় আরও বেশি কমন পেতে এবং ভালো নম্বর তুলতে আজ আমরা নতুন আরও ৪০টি বাছাই করা প্রশ্ন ও উত্তরের সাজেশন তৈরি করেছি। আমাদের তৈরি এই ‘Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 2’ -তে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা হয়েছে, যাতে ছোটরা সহজেই মুখস্থ করতে পারে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্রের ধাঁচ মেনেই এই পর্বটি সাজানো হয়েছে।
নিচের প্রশ্নগুলোতে টাচ বা ক্লিক করলেই তার উত্তর দেখা যাবে। চলো, পরিবেশবিদ্যার এই নতুন পর্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলো মন দিয়ে পড়ে নেওয়া যাক!
চতুর্থ শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা সাজেশন (পর্ব-২)
💡 নিচে প্রতিটি প্রশ্ন ও তার সম্পূর্ণ উত্তর দেওয়া হলো।
ব্রোঞ্জ হলো একটি সংকর ধাতু। প্রধানত তামা এবং টিন একসঙ্গে মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়।
ব্যবহার: ব্রোঞ্জ সাধারণ তামার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়। তাই এটি দিয়ে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, থালা-বাসন, মুদ্রা এবং নানা শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা হয়।
পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বিশেষ কিছু ফসলের জন্য উপযোগী। সেখানে প্রধানত কমলালেবু, আপেল, নাশপাতি, স্কোয়াশ এবং নানা ধরনের সুন্দর পাহাড়ি ফুলের চাষ বেশি হয়। এছাড়া চা চাষের জন্য পাহাড়ি ঢাল খুব বিখ্যাত।
ক্ষুদ্র শিল্প: যখন ছোট কারখানায়, অল্প কয়েকজন শ্রমিক মিলে এবং ছোটখাটো যন্ত্রপাতির সাহায্যে কোনো জিনিস তৈরি করা হয়, তখন তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে। যেমন: তাঁত শিল্প, বিস্কুট তৈরির কারখানা।
কুটির শিল্প: যখন বাড়ির ভেতরেই, পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে এবং খুব সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে অল্প জায়গায় কোনো জিনিস তৈরি করা হয়, তখন তাকে কুটির শিল্প বলে। যেমন: বাড়িতে বসে ধূপকাঠি, চানাচুর, আচার বা জ্যাম তৈরি করা।
যেসব কারখানায় প্রচুর জায়গা জুড়ে, অসংখ্য শ্রমিক দিনরাত কাজ করে এবং বিশাল আকারের আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিপুল পরিমাণে জিনিস তৈরি হয়, তাকে বৃহৎ বা বড়ো শিল্প বলে।
উদাহরণ: জাহাজ তৈরির কারখানা, মোটর গাড়ি নির্মাণ শিল্প, রেল ইঞ্জিন ও লৌহ-ইস্পাত কারখানা।
ডোকরা হলো বাংলার এক অতি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধাতুশিল্প। এই পদ্ধতিতে মৌমাছির মোম আর ধুনো দিয়ে প্রথমে ছাঁচ তৈরি করা হয়। তারপর সেই ছাঁচে গলানো পিতল বা অন্যান্য ধাতু ঢেলে নানা রকম সুন্দর মূর্তি, গয়না বা শোপিস তৈরি করা হয়। এই জিনিসগুলোকেই বলা হয় ডোকরা।
উদাহরণ: ডোকরার তৈরি পঞ্চপ্রদীপ, ময়ূর, পেঁচা, ঘোড়া, কাজললতা ইত্যাদি।
‘টেরাকোটা’ কথাটির অর্থ হলো পোড়ামাটি। বিশেষ ধরনের আঠালো মাটি দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি, পুতুল, গয়না বা মন্দিরের দেওয়ালের নকশা তৈরি করে, সেগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করার যে শিল্প, তাকেই টেরাকোটা শিল্প বলে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর এই শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
উদাহরণ: পোড়ামাটির তৈরি বাঁকুড়ার ঘোড়া, হাতির মূর্তি, মাটির গয়না ইত্যাদি।
মালাহার: যারা পিতল, কাঁসা বা ডোকরা শিল্পের সাথে যুক্ত, সেইসব ধাতুশিল্পীদের মালাহার বলা হয়। অনেক জায়গায় এদের স্যাকরা বা ঢেপ্পোও বলা হয়ে থাকে।
মালাকার: যারা নরম সাদা রঙের শোলা দিয়ে নিপুণ হাতে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করেন, তাদের মালাকার বলা হয়। এঁরা শোলার তৈরি বিয়ের টোপর, চাঁদমালা, প্রতিমার ডাকের সাজ, কদম ফুল ইত্যাদি তৈরি করেন।
ডোকরা শিল্পের নিয়ম অনুযায়ী, মোম ও ধুনো দিয়ে তৈরি ছাঁচটি কেবল একবারই ব্যবহার করা যায়। ধাতু জমে যাওয়ার পর ভেতরের জিনিস বের করার জন্য ওপরের মাটির ছাঁচটিকে ভেঙে ফেলতে হয়। যেহেতু প্রতিটি ছাঁচ শিল্পীর নিজের হাতে নতুন করে বানাতে হয়, তাই কোনো ছাঁচই হুবহু একরকম হয় অমর হয় না। এই কারণেই প্রতিটি ডোকরার পুতুল আলাদা দেখতে হয়।
যাঁরা মাটি দিয়ে নানা ধরনের সুন্দর পুতুল ও মূর্তি তৈরি করেন, তাদের পটুয়া বলা হয়।
এছাড়া, এক শ্রেণির শিল্পী আছেন যাঁরা লম্বা কাগজ বা কাপড়ের ওপর রামায়ণ, মহাভারত বা সামাজিক বিভিন্ন কাহিনি ছবি এঁকে ফুটিয়ে তোলেন এবং সেই ছবি দেখিয়ে গান গেয়ে মানুষকে গল্প শোনান। এই চিত্রশিল্পীদেরও পটুয়া বা পটশিল্পী বলা হয়।
গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, সামাজিক রীতিনীতি ও ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে মুখে মুখে যে গান তৈরি হয়ে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে, তাকেই লোকগান বলে।
উদাহরণ: বাউল গান, ভাওয়াইয়া, সারিগান, ভাটিয়ালি, টুসু গান ইত্যাদি।
ভারী বা পরিশ্রমের কাজ করার সময় মানুষের মনে উৎসাহ জাগাতে এবং কাজের ছন্দ ও তাল ঠিক রাখতে শ্রমিকরা একসঙ্গে দল বেঁধে যে লোকগান গান, তাকে সারিগান বলে।
নৌকা বাইচ বা নৌকা চালানো, ছাদ পেটাই করা, একজোট হয়ে মাছ ধরা বা মাঠে ধান রোয়ার সময় প্রধানত এই গান গাওয়া হয়।
বহু প্রাচীনকালে আদিম মানুষ যখন কৃষিকাজ করতে জানত না, তখন তাদের নির্দিষ্ট কোনো বাসস্থান ছিল নিরাপদ ছিল না। বনের ফলমূল সংগ্রহ এবং পশু শিকার করে তাদের খাবার জোটাতে হতো। এক জায়গার খাবার ফুরিয়ে গেলে তারা দল বেঁধে খাবারের খোঁজে অন্য জায়গায় চলে যেত। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ানো মানুষের এই জীবনযাত্রাকেই বলে যাযাবর সমাজ।
কোনো নির্দিষ্ট সমাজে বসবাসকারী মানুষের কথা বলার ভাষা, পরনের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, আদবকায়দা, উৎসব-অনুষ্ঠান, নাচ-গান এবং শিল্পকলা মিলিয়ে তাদের জীবনযাপনের যে সামগ্রিক চিত্র বা পরিচয় ফুটে ওঠে, তাকেই ওই সমাজের সংস্কৃতি বলে। একটি নির্দিষ্ট সমাজের মানুষের সংস্কৃতি সাধারণত একই রকমের হয়ে থাকে।
মানুষ একা বাস করতে পারে না। সমাজে একসঙ্গে থাকার অনেক সুবিধা রয়েছে:
- বিপদে-আপদে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসা যায়।
- সমাজের সবাই আলাদা আলাদা কাজ করে, ফলে আমরা একে অন্যের কাজের সুবিধা ভোগ করতে পারি (যেমন— কৃষক ফসল ফলায়, তাঁতি কাপড় বোনে)।
- সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া যায় এবং যেকোনো উৎসবে একসঙ্গে আনন্দ করা যায়।
- দলবদ্ধভাবে থাকলে মানুষের মধ্যে একতা, নিরাপত্তা ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
আমাদের দেশে মোট ছয়টি ঋতু দেখা যায়। বাংলা বারোটি মাসকে দুই মাস অন্তর ভাগ করে এই ঋতুগুলো আসে। যেমন:
- গ্রীষ্মকাল: বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস।
- বর্ষাকাল: আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস।
- শরৎকাল: ভাদ্র ও আশ্বিন মাস।
- হেমন্তকাল: কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস।
- শীতকাল: পৌষ ও মাঘ মাস।
- বসন্তকাল: ফাল্গুন ও চৈত্র মাস।
নানা কারণে আমাদের চারপাশের মাটি দূষিত হয়ে উর্বরতা হারাচ্ছে:
- চাষের জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার এবং বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করলে।
- প্লাস্টিক, পলিথিন বা থার্মোকল মাটিতে ফেললে (কারণ এগুলো মাটিতে মেশে না)।
- কলকারখানার দূষিত রাসায়নিক মেশানো নোংরা জল মাটিতে এসে জমলে।
- হাসপাতালের বর্জ্য, ব্যাটারি এবং কলকারখানার বিষাক্ত ছাই মাটিতে ফেললে।
জলাশয়ের জল বিভিন্ন কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে:
- কলকারখানা এবং শহরের নর্দমার বিষাক্ত জল নদী বা পুকুরে গিয়ে মিশলে।
- চাষের জমিতে দেওয়া রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুরে পড়লে।
- পুকুর বা নদীর জলে গবাদি পশু স্নান করালে, বাসন মাজলে বা কাপড় কাচলে।
- জলে প্লাস্টিক, প্রতিমার কাঠামো ও অন্যান্য আবর্জনা ফেললে।
- সমুদ্রে জাহাজ থেকে খনিজ তেল লিক করে জলে মিশলে।
পরিবেশের মূলত তিনটি উপাদান দূষিত হচ্ছে— বায়ু, মাটি ও জল।
- বায়ুদূষণ: যানবাহন ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া, প্লাস্টিক পোড়ানো এবং বাজির ধোঁয়া থেকে।
- মাটি ও জলদূষণ: রাসায়নিক সার, কীটনাশক, কলকারখানার বর্জ্য এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলার কারণে।
- শব্দদূষণ: অকারণে গাড়ির হর্ন বাজানো, মাইক বা ডিজে বক্সের তীব্র আওয়াজ এবং কারখানার বিকট শব্দের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
প্রাচীন মিশরের রাজা বা ফারাওরা মারা গেলে তাদের মৃতদেহকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক ওষুধ ও মশলা মাখিয়ে, সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে পিরামিডের ভেতর সংরক্ষণ করে রাখা হতো। দীর্ঘদিন ধরে সযত্নে সংরক্ষিত এই ধরনের মৃতদেহকেই মমি বলা হয়।
কৃষিকাজে জলের খুব প্রয়োজন। বৃষ্টির অভাবে বা খরায় যাতে জমির ফসল শুকিয়ে নষ্ট না হয়ে যায়, তার জন্য নদী বা খালে বাঁধ দিয়ে সারা বছর জল ধরে রাখা হয়। পরে প্রয়োজনমতো ক্যানেল, নালা বা নলকূপের সাহায্যে সেই জল তুলে চাষের জমিতে সরবরাহ করা হয়। কৃত্রিমভাবে জমিতে জল দেওয়ার এই পদ্ধতিকেই জলসেচ ব্যবস্থা বলে।
আদিম মানুষেরা যেখানে বাস করত সেই গুহার অন্ধকার দেওয়ালে কাঠকয়লার ছাই, পশুর চর্বি মেশানো রঙিন মাটি বা গাছের রস দিয়ে নানা ধরনের ছবি আঁকত।
তারা মূলত দলবেঁধে পশু শিকারের দৃশ্য, বিভিন্ন বন্য পশুপাখি এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলত। এই ছবিগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত বাইসন, বল্গা হরিণ এবং ভালুকের ছবি।
জঙ্গল থেকে আমরা প্রচুর প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহ করি। যেমন— আসবাবপত্র তৈরির কাঠ, জ্বালানি কাঠ, মৌচাক থেকে খাঁটি মধু, শাল পাতা (থালা তৈরির জন্য), মোম, রজন এবং বিভিন্ন ধরনের জীবনদায়ী ওষুধ তৈরির জন্য ঔষধি গাছ ও ফলমূল। সর্বোপরি জঙ্গল থেকে আমরা শ্বাস নেওয়ার অক্সিজেন পাই।
মানুষ যে কোনো কঠিন ও পরিশ্রমের কাজকে অল্প পরিশ্রমে, সহজে এবং খুব কম সময়ে করার জন্য যেসব হাতিয়ার বা উপকরণ ব্যবহার করে, তাদের সাধারণভাবে টুল বা যন্ত্র বলা হয়।
উদাহরণ: হাতুড়ি, কোদাল, লাঠি, লগি বা আঁকশি, কাস্তে, ছুঁচ, কাঁচি ইত্যাদি।
লাঠি একটি খুব সাধারণ অথচ কাজের যন্ত্র। এর ব্যবহারগুলি হলো:
- বয়স্ক ও অন্ধ মানুষদের হাঁটার সময় অবলম্বন হিসেবে।
- বন্যপশু বা কুকুরের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য।
- ভারী জিনিসকে দূরে সরাতে বা ঠেলতে।
- গরু বা ছাগল চরানোর সময় তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
- গাছের উঁচুতে থাকা ফল বা ফুল পাড়তে আঁকশি হিসেবে এবং নৌকা চালানোর সময় লগি হিসেবে লাঠির ব্যবহার হয়।
ধাতুর ব্যবহার শেখার অনেক আগে আদিম মানুষেরা প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান দিয়েই তাদের হাতিয়ার তৈরি করত। তারা গাছের শক্ত ডাল বা কাঠ, নদীর ধারের ধারালো পাথরের টুকরো এবং মৃত পশুর বড়ো হাড় ও শিং দিয়ে নিজেদের শিকার করার এবং আত্মরক্ষার যন্ত্রপাতি বানাত।
পৃথিবীর কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ অর্থাৎ জীবজগৎ এক মুহূর্তও জল ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। মানুষ থেকে শুরু করে গাছপালা— প্রতিটি জীবের শরীরের গঠনের মূল উপাদানই হলো জল। শরীরে জলের অভাব হলে মৃত্যু নিশ্চিত। যেহেতু জলের ওপর সমস্ত জীবের প্রাণ নির্ভরশীল, তাই জলের অপর নাম জীবন।
‘দহন’ মানে পোড়া। যেসব বস্তুকে আগুনের সংস্পর্শে আনলে খুব সহজেই আগুন ধরে যায় এবং জ্বলার সময় প্রচুর তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়, তাদের দাহ্য বস্তু বলে।
উদাহরণ: পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, কাঠ, কয়লা, কাগজ, শুকনো পাতা এবং রান্নার গ্যাস।
আদিম মানুষ সম্ভবত উঁচু পাহাড় থেকে গোল পাথর গড়িয়ে পড়তে দেখেই চাকা তৈরির ধারণা পেয়েছিল। প্রথমে তারা গাছের মোটা গুঁড়ি কেটে গোল চাকা তৈরি করত। চাকা আবিষ্কারের ফলে ভারী জিনিস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টেনে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। যাতায়াতের সময় কমে যায় এবং কুমোরের চাকায় মাটির পাত্র বানানো সম্ভব হয়। চাকা মানব সভ্যতার এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।
আবিষ্কারের পর মানুষ যখন মাংস আগুনে ঝলসে বা পুড়িয়ে খেতে শিখল, তখন বেশ কিছু সুবিধা হলো:
- আগুনে পোড়ানোর ফলে শক্ত মাংস নরম হয়ে গেল, যা চিবোতে সুবিধা হতো।
- মাংসের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর রোগজীবাণু আগুনের তাপে মারা যেত।
- ঝলসানো মাংস কাঁচা মাংসের চেয়ে সহজে হজম হতো এবং খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু লাগত।
গ্যালিলিও গ্যালিলি ছিলেন ইতালির একজন বিশ্ববিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য উন্নতমানের ‘টেলিস্কোপ’ বা দূরবিন যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
এই যন্ত্রের সাহায্যে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন যে, সূর্য স্থির এবং পৃথিবী সহ অন্যান্য গ্রহগুলি সূর্যের চারদিকে অবিরাম ঘুরে চলেছে। এর আগে মানুষের ধারণা ছিল পৃথিবী স্থির এবং সূর্য ঘোরে।
সূর্য এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে চলা গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু ও উল্কাদের নিয়ে যে বিশাল পরিবার গড়ে উঠেছে, তাকেই সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার বলে।
আমাদের সৌরজগতে মোট আটটি গ্রহ আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি।
ছৌ নাচ হলো বাংলার একটি বিখ্যাত ও প্রাচীন লোকনৃত্য। এই নাচে শিল্পীরা দেবদেবী বা অসুরদের বড়ো ও রঙিন মুখোস পরে, ঢাক-ঢোল ও সানাইয়ের তালে তালে রামায়ণ, মহাভারত বা পুরানের বিভিন্ন বীরত্বপূর্ণ কাহিনি নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন।
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা ছৌ নাচের জন্য জগৎ বিখ্যাত।
বিশুদ্ধ পদার্থ: যে পদার্থ কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট উপাদান দিয়ে তৈরি এবং যার মধ্যে অন্য কোনো কিছুর ভেজাল নেই, তাকে বিশুদ্ধ পদার্থ বলে। যেমন— খাঁটি সোনা, তামা, পরিষ্কার জল।
মিশ্র পদার্থ: যখন দুই বা তার বেশি আলাদা আলাদা পদার্থ একসঙ্গে মিশে থাকে, তখন তাকে মিশ্র পদার্থ বলে। যেমন— বাতাস (এতে অনেক গ্যাস মিশে থাকে), শরবত (জল ও চিনির মিশ্রণ)।
আবহাওয়া: কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের রোদ, বৃষ্টি, তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা ইত্যাদির দৈনন্দিন অবস্থাকে সেই স্থানের আবহাওয়া বলে। আবহাওয়া প্রতিদিন বা দিনে কয়েকবার বদলাতে পারে।
জলবায়ু: কোনো একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ৩০ থেকে ৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে সেই অঞ্চলের জলবায়ু বলে। জলবায়ু খুব সহজে বদলায় না।
উপাদান অনুযায়ী মাটি প্রধানত তিন প্রকারের হয়:
- বেলে মাটি: এই মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকে, জল ধরে রাখতে পারে না। (এখানে তরমুজ, শশা ভালো হয়)।
- এঁটেল মাটি: এই মাটিতে কাদার ভাগ বেশি থাকে, খুব ভালো জল ধরে রাখতে পারে।
- দোঁআশ মাটি: এই মাটিতে বালি এবং কাদা প্রায় সমান সমান থাকে। কৃষিকাজের বা ফসল ফলানোর জন্য দোঁআশ মাটি সবচেয়ে ভালো ও উর্বর।
পৃথিবীর যাবতীয় শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য।
পরিবেশবান্ধব শক্তি: যেসব শক্তি ব্যবহার করলে পরিবেশে কোনো দূষণ ছড়ায় না এবং ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না, তাদের পরিবেশবান্ধব বা অপ্রচলিত শক্তি বলে। যেমন— সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জোয়ারভাটার শক্তি। এগুলো পরিবেশের ক্ষতি করে না।
শরীরে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে বা রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাব দেখা দিলে মানুষ দুর্বল ও ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। এই শারীরিক অবস্থাকেই রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ বলে।
প্রতিরোধ: এই রোগ প্রতিরোধ করতে আয়রন-যুক্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে খাওয়া উচিত। যেমন— কাঁচকলা, মোচা, ডুমুর, কুলেখাড়া পাতা, লাল শাক এবং মেটে (Liver)।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে সুন্দরবনের নোনা মাটি ও কাদাযুক্ত অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ অরণ্য বা বাদাবন দেখা যায়।
বিশেষত্ব: এখানকার মাটিতে অক্সিজেনের খুব অভাব থাকে। তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য এই গাছগুলোর শিকড় মাটি ভেদ করে উঁচুর দিকে বেরিয়ে আসে, এদের শ্বাসমূল বলে। এছাড়া জোয়ারের জলে গাছগুলো যাতে ভেসে না যায়, তার জন্য ঠেসমূল থাকে। সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া হলো ম্যানগ্রোভ গাছের উদাহরণ।
বাষ্পীভবন: তাপে তরল পদার্থের গ্যাসীয় বা বাষ্প অবস্থায় পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বাষ্পীভবন বলে। যেমন— রোদের তাপে পুকুরের জল বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া।
ঘনীভবন: অতিরিক্ত ঠান্ডায় গ্যাসীয় বা জলীয় বাষ্পের জমে গিয়ে তরল বা জলে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে ঘনীভবন বলে। যেমন— আকাশে জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে মেঘ ও বৃষ্টিতে পরিণত হওয়া।
জীব এবং জড় পদার্থের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রধান দুটি হলো:
- প্রাণ ও বৃদ্ধি: জীবদেহে প্রাণ আছে, তারা খাদ্য গ্রহণ করে এবং ছোট থেকে বড় হয় বা তাদের বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু জড় পদার্থের প্রাণ নেই, এদের কোনো শারীরিক বৃদ্ধিও ঘটে না।
- প্রজনন ও অনুভূতি: জীবেরা বংশবৃদ্ধি করতে পারে এবং তাদের আঘাত লাগলে বা ব্যথা পেলে অনুভূতি জাগে। কিন্তু জড় পদার্থের বংশবৃদ্ধি করার ক্ষমতা নেই এবং এদের কোনো অনুভূতিও নেই।
👉 চতুর্থ শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পরিবেশ বিজ্ঞান সাজেশন part 3 এর জন্য এখানে ক্লিক করুন!

