চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ‘আমাদের পরিবেশ’ বিষয়ের তৃতীয় পর্বের সাজেশন। পরীক্ষায় নিশ্চিত কমন পেতে Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 3 এর প্রশ্নোত্তরগুলো আজই অনুশীলন করো।
আসন্ন চতুর্থ শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবং স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য আমরা নিয়ে এসেছি ‘আমাদের পরিবেশ’ (Amader Paribesh) বিষয়ের সাজেশনের তৃতীয় পর্ব। আগের দুটি পর্ব অনুশীলন করে ছাত্রছাত্রীরা দারুণভাবে উপকৃত হয়েছে।

পরীক্ষায় সম্পূর্ণ কমন পেতে এবং পরিবেশবিদ্যায় সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করতে আজ আমরা নতুন আরও ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর তৈরি করেছি। আমাদের এই ‘Class 4 Britti Exam Paribesh Suggestion Part 3’ -এর প্রতিটি উত্তর অত্যন্ত সহজ, সরল ও নির্ভুল ভাষায় লেখা হয়েছে, যাতে ছোটদের বুঝতে ও মুখস্থ করতে কোনো অসুবিধা না হয়। বিগত বছরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাটার্ন অনুসরণ করেই এই নতুন পর্বটি সাজানো হয়েছে।
নিচে প্রতিটি প্রশ্ন এবং তার সম্পূর্ণ উত্তর পরিষ্কারভাবে দেওয়া হলো। পরীক্ষার আগে এই প্রশ্নোত্তরগুলো একবার ভালোভাবে রিভিশন করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চলো, পরিবেশবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নোত্তরগুলো মন দিয়ে পড়ে নেওয়া যাক!
চতুর্থ শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা সাজেশন (পর্ব-৩)
💡 নিচে প্রতিটি প্রশ্ন ও তার সম্পূর্ণ উত্তর দেওয়া হলো।
আমরা যে গ্রহে বাস করি তার নাম পৃথিবী। সৌরজগতের এটি একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে এটি সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ।
- এর আকার গোলাকার হলেও উত্তর ও দক্ষিণ মেরু খানিকটা চাপা।
- পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলো চাঁদ।
- এখানে শিলামণ্ডল, জলমণ্ডল এবং বায়ুমণ্ডল রয়েছে, যার ফলে পৃথিবীতে দিন-রাত ও ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
দাহ্য বস্তুর দহন প্রক্রিয়ার ফলে যে তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়, তাকেই আগুন বলে। আগুন জ্বালাতে মূলত জ্বালানি ও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।
সতর্কতা: আগুনের সাহায্যে খাবার রান্না করা বা শরীর গরম করার মতো নানা উপকারি কাজ করা হলেও, আগুন ব্যবহারে খুব সাবধান থাকা উচিত। অসতর্কতার কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটলে প্রাণ ও সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
শীতকালে চারপাশের বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক কম থাকে, অর্থাৎ বাতাস খুব শুষ্ক থাকে। এই শুষ্ক বাতাসের কারণে ভিজে জামাকাপড়ের জল খুব তাড়াতাড়ি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। ফলে শীতকালে জামাকাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।
ইস্পাত অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই একটি সংকর ধাতু। এটি দিয়ে নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি, মজবুত বাড়িঘর, যানবাহন, বড়ো বড়ো ব্রিজ (সেতু) এবং রেললাইন তৈরি করা হয়।
প্রাচীনকালে বাংলার মেয়েরা পুরনো সুতির শাড়ি, ধুতি বা ছেঁড়া কাপড় কয়েক স্তরে একসঙ্গে জুড়ে তার ওপর রঙিন সুতো দিয়ে নিপুণ হাতে নানা চমৎকার নকশা তুলে সেলাই করতেন। এভাবেই অপূর্ব সুন্দর নকশি কাঁথা বানানো হতো।
জঙ্গলে বা তার আশেপাশে বসবাসকারী মানুষদের জীবিকা মূলত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তারা সাধারণত পশুপালন, পশু শিকার, মাছ ধরা, জঙ্গল থেকে মধু, ভেষজ পাতা ও ওষুধ সংগ্রহ এবং নৌকা তৈরির মতো কাজের সাথে যুক্ত থাকেন।
দার্জিলিংয়ের ঠান্ডা আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢালু জমি বিশেষ কিছু চাষের জন্য খুব উপযোগী। সেখানে প্রধানত চা, কমলালেবু, আপেল, নাশপাতি, স্কোয়াশ এবং নানা ধরনের ফুলের চাষ হয়। দার্জিলিঙের চা তার অসাধারণ স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
পুরুলিয়ার বিখ্যাত ছৌ নাচের আকর্ষণীয় মুখোশ তৈরিতে প্রধানত আঠালো মাটি, পুরনো কাগজ, ছেঁড়া কাপড়, আঠা, বিভিন্ন উজ্জ্বল রং, নকল চুল, পাখির পালক, রাংতা এবং নানা ধরনের পুঁতি ব্যবহার করা হয়।
যুগের পর যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে যে সমস্ত কাল্পনিক অথচ শিক্ষামূলক গল্প বা কাহিনি প্রচলিত হয়ে আসছে, তাদের লোককথা বলে। এই গল্পগুলো থেকে আমরা জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও নীতিশিক্ষা পাই।
বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী ক্যামেরা ও নানা যন্ত্রপাতি বসানো যে উপগ্রহ তৈরি করে মহাকাশে পাঠান এবং পৃথিবীর চারদিকে ঘোরার ব্যবস্থা করেন, তাকে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট বলে।
এটি রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাঠানো হয়। ‘ইনস্যাট’ (INSAT) হলো এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ, যা আমাদের মোবাইল ফোনে কথা বলতে সাহায্য করে।
আদিম মানুষ একসময় চকমকি পাথরে পাথরে ঠোকাঠুকি লেগে ফুলকি বেরিয়ে শুকনো পাতায় আগুন জ্বলে উঠতে দেখেছিল। এভাবেই তারা প্রথম আগুন জ্বালাতে শেখে।
সুবিধা: আগুন আবিষ্কারের ফলে তারা হাড়কাঁপানো শীতের হাত থেকে বাঁচল। কাঁচা মাংস আগুনে ঝলসে নরম ও সুস্বাদু করে খেতে শুরু করল এবং গুহার মুখে আগুন জ্বেলে বন্য হিংস্র পশুদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে শিখল।
হিমঘর হলো একটি বিশাল আকারের ঠান্ডা গুদামঘর। এটি অনেকটা বড়ো ফ্রিজের মতো কাজ করে। এখানে খুব কম তাপমাত্রায় কৃষকদের উৎপাদিত আলু, ফল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন ধরে সতেজ অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। হিমঘরের ঠান্ডায় এই ফসলগুলো পচে নষ্ট হয়ে যায় না।
পশুপালনের অনেক সুবিধা রয়েছে:
- পশুদের থেকে পুষ্টিকর দুধ, ডিম ও মাংস পাওয়া যায়।
- চাষের জমিতে জৈব সার হিসেবে পশুর গোবর কাজে লাগে।
- গরু, বলদ ও মোষ দিয়ে লাঙ্গল টানা বা কৃষিকাজ করানো হয়।
- পশুর চামড়া, লোম ও হাড় থেকে নানা প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক জিনিস তৈরি হয়।
দিন দিন মানুষের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। মানুষের থাকার জন্য নতুন ঘরবাড়ি, অফিস, কারখানা ও রাস্তাঘাট তৈরি করতে গিয়ে প্রচুর বনজঙ্গল কাটা হচ্ছে এবং জলাভূমি বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বন্য পশুপাখিদের স্বাভাবিক বাসস্থান বা থাকার জায়গা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। একেই বিপন্ন বাসভূমি বলা হয়।
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের ক্ষণস্থায়ী অবস্থাকেই আবহাওয়া বলে।
কোনো জায়গার আবহাওয়া মূলত সেখানকার বাতাসের উষ্ণতা (তাপমাত্রা), বাতাসের আর্দ্রতা (জলীয় বাষ্প), বায়ুপ্রবাহের দিক, মেঘের পরিমাণ এবং বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।
খেলাধুলা আমাদের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর ফলে:
- আমাদের শরীর ও মন সুস্থ এবং সতেজ থাকে।
- নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করলে ফুসফুস ভালো থাকে ও মাংসপেশি শক্ত হয়।
- শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।
- দলবদ্ধভাবে খেলার ফলে মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা, একতা এবং একে অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা তৈরি হয়।
মিশ্রণকে আলাদা করার তিনটি প্রধান পদ্ধতি হলো:
- বাষ্পীভবন: নুন ও জলের মিশ্রণকে ফুটিয়ে জল বাষ্প করে শুধু নুন আলাদা করা যায়।
- ছাঁকন পদ্ধতি: ছাঁকনির সাহায্যে তরল থেকে কঠিন পদার্থ আলাদা করা যায় (যেমন— চা-পাতা থেকে তরল চা ছাঁকা)।
- হাওয়ার সাহায্যে ঝাড়া: এই পদ্ধতিতে হাওয়ার সাহায্যে ধানের তুষ ও চালকে আলাদা করা হয়। এছাড়া হাত দিয়ে বেছেও (যেমন— চাল থেকে কাঁকর বাছা) উপাদান আলাদা করা যায়।
রাবারের চাকায় হাওয়া ভরে ব্যবহার করলে চাকা বেশ হালকা হয়। রাস্তায় চলার সময় এতে খুব একটা শব্দ হয় না এবং যাত্রীদের ঝাঁকুনিও কম লাগে। এছাড়া রাবারের চাকা সহজে পিছলে যায় না, দামেও সস্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা যায়।
একটি জিনিস ধাতু কি না তা মূলত তিনটি উপায়ে চেনা যায়:
- ধাতুকে একপ্রান্তে গরম করলে অন্য প্রান্তটি খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়।
- ধাতু সাধারণত ওজনে ভারী, খুব শক্ত এবং দেখতে চকচকে বা উজ্জ্বল হয়।
- ধাতুর ওপর কোনো শক্ত জিনিস দিয়ে আঘাত করলে ‘ঠং’ করে এক বিশেষ ধরনের জোরালো শব্দ তৈরি হয়।
গরু হলো অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের একটি নিরীহ তৃণভোজী প্রাণী। তাই মানুষ সহজেই গরুকে পোষ মানাতে পেরেছে এবং কৃষিকাজসহ নানা উপকারে লাগিয়েছে। অন্যদিকে, বাঘ হলো অত্যন্ত হিংস্র, শক্তিশালী এবং মাংসাশী প্রাণী। এরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয় বলে এদের পোষ মানানো প্রায় অসম্ভব।
আমরা প্রতিদিন শর্করা, প্রোটিন বা ফ্যাট জাতীয় নানা পুষ্টিকর খাবার খাই। এই খাবারগুলো আমাদের পাকস্থলীতে গিয়ে হজম হয়ে সরল খাদ্যকণায় পরিণত হয়। এরপর আমরা প্রশ্বাসের সঙ্গে যে অক্সিজেন নিই, তা রক্তের মাধ্যমে ওই হজম হওয়া খাদ্যকণাকে ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করে। সেই শক্তি দিয়েই আমরা চলাফেরা ও কাজ করি।
সাপে কামড়ালে ভয় না পেয়ে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা করা জরুরি:
- ক্ষতের জায়গায় যদি সাপের বিষদাঁত লেগে থাকে, তবে তা আলতো করে তুলে ফেলতে হবে।
- ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দিতে হবে।
- রোগীকে অযথা ভয় পেতে না দিয়ে শান্ত রাখতে হবে।
- একটুও সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে। তারা নিজেরা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাবে, বেশি করে গাছ লাগাবে, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলবে এবং জল ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করবে। পাশাপাশি বাড়ির বড়োদেরও এই বিষয়গুলোতে উৎসাহিত করবে।
যে খাবারের মধ্যে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি খাদ্য উপাদান— কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং জল— সঠিক ও সুনির্দিষ্ট পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাকেই সুষম আহার বা ব্যালেন্স ডায়েট বলে। যেমন: গরুর দুধ একটি আদর্শ সুষম আহার।
সৌরশক্তি ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো এটি অফুরন্ত, অর্থাৎ কয়লা বা পেট্রোলের মতো এটি কখনোই ফুরিয়ে যাবে না। দ্বিতীয়ত, সৌরশক্তি ব্যবহার করলে পরিবেশে কোনো দূষণ ছড়ায় না। এটি একটি পরিবেশবান্ধব শক্তি।
প্রাচীনকালে যোগাযোগের মাধ্যম এত উন্নত ছিল না। তখন মানুষ পায়রার পায়ে চিঠি বেঁধে খবর পাঠাত। এছাড়া ঘোড়ায় চড়ে বা পায়ে হেঁটে দূতেরা দূরদূরান্তে রাজা-মহারাজাদের খবর আদান-প্রদান করত।
জল সংরক্ষণের সহজ দুটি উপায় হলো: বৃষ্টির জলকে ছাদে বা ট্যাঙ্কে ধরে রেখে পরে তা চাষের কাজে বা বাগান পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা। দ্বিতীয়ত, ব্রাশ করা বা বাসন মাজার সময় অকারণে কলের জল খুলে না রাখা।
দূষিত বা নোংরা জল পান করলে আমাদের শরীরে নানা রকম মারাত্মক জলবাহিত রোগ হতে পারে। যেমন— কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়েরিয়া এবং জন্ডিস। তাই জল সবসময় ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করা উচিত।
সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য থেকে অতিবেগুনি রশ্মি এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক বিকিরণ পৃথিবীতে আসে। এই অবস্থায় খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মানুষ চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গাছপালা ও অরণ্য আমাদের প্রাণদায়ী অক্সিজেন দেয় এবং পরিবেশের ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করে। এছাড়া এরা মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অরণ্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
👉 চতুর্থ শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার আমাদের পরিবেশ সাজেশন Part 1 এর জন্য এখানে ক্লিক করুন!

